মাদক ও দুর্নীতিকে সমাজের প্রধান শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, আমরা এখনো মাদক ও দুর্নীতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি। আমরা এগুলো বন্ধে কাজ করছি। এ জন্য দেশবাসীর সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রয়োজন বলেও জানান উপদেষ্টা।
মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে বুধবার সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।
মাদক নির্মূলে সবার আগে গডফাদারদের ধরার বিষয়ে জোর দিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, মাদক নির্মূলে সবার আগে এর পিছনে থাকা গডফাদারদের ধরতে হবে। তবেই মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে সরকারের কর্মসূচি সাফল্য পাবে। শুধু মাদকের বাহকদের ধরে লাভ নাই।
উপদেষ্টা বলেন, আমাদের দুইটি বড় শত্রু রয়েছে৷ এক নম্বর হচ্ছে দুর্নীতি এবং আরেকটি হলো মাদক। মাদক এখন সমাজের সর্বত্র ও সকল শ্রেণির মানুষের মাঝে ছেয়ে গেছে। মাদক থেকে দেশ ও জাতিকে রক্ষা করতে হলে সর্বাগ্রে প্রয়োজন সচেতনতা। শুধুমাত্র মাদক নিরাময় কেন্দ্রের মাধ্যমে এটি থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়। তিনি বলেন, মাদক যেন বাহির থেকে দেশে ঢুকতে না পারে সে বিষয়ে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও তৎপর হতে হবে। মাদক পাচারের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো সদস্য জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, মাদকাসক্তি নিরাময়ের খরচ এখন অনেক বেশি। গরীবের পক্ষে এটা বহন করা অনেক কষ্টসাধ্য। তিনি এসময় কেউ যেন মাদকাসক্ত হয়ে মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি হতে না হয়- এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ব্রিফিংকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মো. খোদা বখস চৌধুরী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সরকারের পক্ষ থেকে সবসময় দাবি করা হয় মাদকের বিস্তার কমে আসছে। এ বিষয়ে কোনো পরিসংখ্যান আছে কি না- জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আমি কিন্তু কোনোদিন এটা দাবি করিনি। দুটি জিনিস আমরা নিয়ন্ত্রণে আনতে পারিনি- একটি হলো মাদক আরেকটি দুর্নীতি।
উপদেষ্টা বলেন, মাদক যাতে বাইরে থেকে ঢুকতে না পারে, যারা মাদক ঢুকতে সাহায্য করে তাদের সংবাদও যদি আমাদের দেয়, তবে আমাদের জন্য ভালো। আমাদের বাহিনী যদি সঙ্গে যুক্ত থাকে সে তথ্য আমাদের দেবেন। আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা নেবো। মাদকের কুফলের বিষয়ে আমাদের সব শ্রেণির লোককে বুঝতে হবে। শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনী না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে হয়তো কিছু কিছু আসে, কিন্তু অন্যান্য যারা মাদক বহন করতেছে, আর যারা গডফাদার তারা তো হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বসে আছে। আমাদের সঙ্গেই চা-টা খেয়েটেয়ে থাকে, এরা আমাদের সঙ্গে ঘোরাফেরা করে। এদের বিষয়ে আমরা প্রোপার অ্যাকশন নেবো।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

