দেশের অধিকাংশ আইনজীবীর মধ্যে মামলার প্রতি যথেষ্ট দায়বদ্ধতা ও পেশাগত নিষ্ঠার অভাব নিয়ে প্রকাশ্যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। সোমবার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে আয়োজিত স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, আইনজীবীদের মধ্যে পেশার প্রতি ডেডিকেশনের অভাব দেখছি। একজন আইনজীবী হাতে যে মামলা নেন, এর প্রতি তার কমিটমেন্ট থাকতে হবে।
অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয় সদ্য প্রয়াত সাবেক অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার মুহাম্মদ জমির উদ্দিন সরকারের কর্মজীবন স্মরণে।
প্রধান বিচারপতি বলেন, বিচারপ্রার্থীরা আল্লাহর পর তাদের আইনজীবীর ওপর সবচেয়ে বেশি ভরসা করেন। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায়, আইনজীবীরা প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ছাড়া আদালতে হাজির হন।
তিনি আইনজীবীদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা যেন কেবল সেই পরিমাণ মামলা গ্রহণ করেন, যেগুলোর প্রতি যথাযথ সময়, প্রস্তুতি ও মনোযোগ দিতে সক্ষম হবেন। কারণ, তিনি আপনাকে প্রফেশনালি নিয়োগ করেছেন। তার প্রতি সুবিচার করা আপনার লিগ্যাল, এথিক্যাল, মরাল দায়িত্ব।
জুবায়ের রহমান চৌধুরী বলেন, বিচারকরা বিচার করবেন, কিন্তু তার আগে মামলাটি সঠিকভাবে আদালতে উপস্থাপন করা আইনজীবীর দায়িত্ব।
মুহাম্মদ জমির উদ্দিন সরকারকে প্রধান বিচারপতি একজন চমৎকার ভদ্রলোক, স্বল্পভাষী এবং সুসজ্জিত ব্যক্তি হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, জমির উদ্দিন সরকার যে মামলাই গ্রহণ করতেন, তা অত্যন্ত দায়বদ্ধতা নিয়ে পরিচালনা করতেন এবং মামলার মেরিট সম্পর্কে আদালতকে সন্তুষ্ট করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করতেন। এই বৈশিষ্ট্য, এই গুণাবলী, আই এম সরি টু সে, আজ এর অভাব দেখছি, মন্তব্য করেন প্রধান বিচারপতি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, আপিল বিভাগের বিচারপতি এস এম এমদাদুল হক, বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান জয়নুল আবেদীন, বিএনপির আইন সম্পাদক বদরুদ্দোজা বাদল, সিনিয়র আইনজীবী সুব্রত চৌধুরী এবং জমির উদ্দিন সরকারের মেয়ে নিলুফার আখতার জমির।
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সমিতির সম্পাদক বিশিষ্ট আইনজীবী মোহাম্মদ আলী। অনুষ্ঠানে সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের বিচারপতি ও আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।
এমই
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

