বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন যখন তুঙ্গে, তখন আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলামকে তুলে নিয়ে ভয়াবহ নির্যাতন চালানো হয়। সে নির্যতনের চিত্র সামনে আসে ২১ জুলাই। বাঁ ঊরু, দুই বাহু আর কাঁধে বড় জায়গাজুড়ে রক্ত জমে তামাটে হয়ে যাওয়ার চিত্র দেখা যায় অপহরণের পর ছাড়া পেয়ে হাসপাতালে চিকিৎসারত তার শরীরে। ধানমন্ডি এলাকার গণস্বাস্থ্য হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি।
সংবাদমাধ্যমের কাছে অপহরণ ও নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে ২০২৪ সালের ওইদিন নাহিদ ইসলাম বলেন, দুদিন আগে গভীর রাতে এক বন্ধুর বাড়ি থেকে সাদা পোশাকের একদল লোক তাকে তুলে নিয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে। তিনি জানান, শুক্রবার গভীর রাতে তুলে নেওয়ার পর রোববার ভোরে তিনি পূর্বাচলে নির্জন একটি এলাকার রাস্তার পাশে নিজেকে আবিষ্কার করেন। কোনোমতে একটি অটোরিকশায় করে তিনি বাসায় ফেরেন। বাসা থেকে হাসপাতালে ভর্তি হন।
অন্যদিকে ছেলে নাহিদ ইসলামের খোঁজে মা মমতাজ নাহার ও বাবা বদরুল ইসলাম আগের সারা দিন মিন্টো রোডে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) কার্যালয়ের সামনে বসেছিলেন। সেখানে বদরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ডিবি তার ছেলেকে ধরে নিয়ে এসেছে, কিন্তু স্বীকার করছে না।
অপহরণের বর্ণনা দিতে গিয়ে সে সময় নাহিদ সাংবাদিকদের বলেন, রাত আড়াইটা-তিনটার দিকে সাদা পোশাকের ২০-২৫ জন লোক তিনি যে বন্ধুর বাড়িতে আত্মগোপনে ছিলেন, সেখানে হানা দেয়। বাসার লোকজন তাকে ডেকে তুললে তিনি ছাদে চলে যান। আগত একজন ছাদে গিয়ে তার নামপরিচয় জানতে চান। এ লোকগুলো তার মোবাইল ফোন খোঁজেন, কিন্তু পাননি। এরপর তাকে নিচে নামিয়ে আনেন।
বাসার সামনে তিন-চারটি ভারী গাড়ি ছিল। এর একটিতে নাহিদকে তোলা হয়। তিনি বলেন, গাড়িতে তুলেই অপহরণকারীরা কয়েক ভাঁজ কাপড় নিয়ে তার চোখ বেঁধে ফেলেন। নাহিদের ধারণা, গাড়িটি ৩০ থেকে ৩৫ মিনিট চলে। এরপর তাকে একটি ঘরে ঢোকানো হয়। সেই ঘরে বেশ কয়েকজন লোক দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তিনি একই সময়ে চার-পাঁচটি গলার স্বর শুনতে পেয়েছেন। গলা বদল হয়েছে কয়েকবার।
একপর্যায়ে তারা নাহিদকে লোহার লাঠি দিয়ে পেটান। নাহিদ বলেন, আমাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। তার অনুমান, তিনি ২৪ ঘণ্টার মতো অজ্ঞান অবস্থায় ছিলেন। ভোর ৪টা কি ৫টায় জ্ঞান ফিরলে দেখেন, বড় রাস্তার পাশে পড়ে আছেন। সাইনবোর্ডে জলসিঁড়ি লেখা দেখে ধারণা করেন, তিনি পূর্বাচল এলাকায় আছেন। সেখানে একটি অটোরিকশা পেয়ে বনশ্রীতে নিজের বাসায় যান। পরে তিনি রাজধানীর গণস্বাস্থ্য হাসপাতালে ভর্তি হন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


