নিয়োগ বিধি সংশোধনসহ তিন দাবিতে নন-ক্যাডার প্রার্থীদের বিক্ষোভ

নিয়োগ বিধি সংশোধনসহ তিন দাবিতে নন-ক্যাডার প্রার্থীদের বিক্ষোভ

নন-ক্যাডার পদে নিয়োগ (বিশেষ) বিধিমালা (সংশোধিত)-২০২৫ এর দ্রুত গেজেট প্রকাশ করাসহ তিন দফা দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন ৪৩ তম বিসিএসের নন-ক্যাডার প্রার্থীরা। রোববার বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্য এলাকায় এই বিক্ষোভ করেন তারা।

এসময় আন্দোলনকারীরা জানান, ৪৩তম বিসিএস নন-ক্যাডার নিয়োগের সুপারিশ কার্যক্রম দীর্ঘসূত্রতায় থমকে আছে। অথচ প্রাথমিক শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যুব উন্নয়ন, স্থানীয় সরকার ও নির্বাচন কমিশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে জনবল সংকট দিন দিন তীব্রতর হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন দপ্তর থেকে প্রায় ৯ হাজার শূন্যপদ অধিযাচন করা হলেও, বিধি সংশোধনের বিলম্বে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (বিপিএসসি) এখনো সুপারিশ কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি। এর ফলে প্রায় সাড়ে ৬ হাজার ভাইভা উত্তীর্ণ মেধাবী নন-ক্যাডার প্রার্থী অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, ৪৩তম বিসিএস নন-ক্যাডার প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করলে নতুন পরীক্ষা ছাড়াই দক্ষ জনবল নিয়োগ সম্ভব হবে। এতে সময় ও ব্যয় সাশ্রয়ের পাশাপাশি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মূল চেতনা—দ্রুত ও স্বচ্ছ নিয়োগ—বাস্তবায়ন হবে। অথচ বর্তমানে কিছু মন্ত্রণালয় অধিযাচিত পদ প্রত্যাহার করে আলাদা বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার উদ্যোগ নিচ্ছে, যা সরকারের ‘দ্রুত নিয়োগ’ নীতির পরিপন্থী।

তিন দফা দাবির মধ্যে আরও রয়েছে- ৪৩তম থেকে ৪৭তম বিসিএস নন-ক্যাডারের নামে অধিযাচিত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ অন্যান্য পদ প্রত্যাহার করে পৃথক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ বন্ধ করা এবং ৪৩ তম বিসিএসসহ অপেক্ষমাণ সকল বিসিএসের ভাইভায় উত্তীর্ণ কিন্তু ক্যাডারবঞ্চিত প্রার্থীদের সর্বোচ্চ সংখ্যককে বিসিএস নন-ক্যাডারে সুপারিশ করা।

প্রার্থীরা মনে করছেন, এই নিয়োগ দ্রুত সম্পন্ন হলে সরকার দক্ষ জনবল পাবে, শূন্যপদ সংকট কমবে এবং সরকারের সময় ও ব্যয় সাশ্রয় হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—এটি জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়ন করবে, যেখানে ছাত্রসমাজের প্রধান দাবি ছিল বেকারত্ব দূরীকরণ ও দুর্নীতিমুক্ত নিয়োগ। তাই দ্রুত পদক্ষেপ নিলে সরকার যেমন জনসেবায় গতি আনতে পারবে, তেমনি তরুণ সমাজের আস্থা ও সমর্থনও অর্জন করবে।

এর আগে রোববার দুপুরে বিসিএস নন-ক্যাডার থেকে প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া বাদ দেওয়া এবং ৪৩তম বিসিএস নন-ক্যাডারে ষড়যন্ত্রমূলক বিলম্বের মাধ্যমে সরকারকে বেকায়দায় ফেলার অপচেষ্টা বিষয়ে জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে প্রধান উপদেষ্টা বরাবর আবেদন জমা দেন আন্দোলনকারীরা।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন