কাজের ভিসায় মালয়েশিয়া যাওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন দুই ব্যক্তি। সেখানে পৌঁছানোর পর তাদের আটকে রেখে স্বজনদের কাছে চাওয়া হয় ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ। ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে আদায়ও করা হয় ২ লাখ টাকা। এ ঘটনায় করা মানিলন্ডারিং মামলায় তাহসিন ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলসের মালিক মাসুদ করিমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে রাজধানীর পল্টনের পলওয়েল মার্কেট এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বাড়ি শরীয়তপুরের সখিপুরে।
মামলার এজাহার ও সিআইডির তথ্য অনুযায়ী, দুই ব্যক্তিকে মালয়েশিয়ায় ওয়ার্ক পারমিট ভিসায় পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাদের নেওয়া হয় ভিজিট ভিসায়। মালয়েশিয়ায় পৌঁছানোর পর বিমানবন্দর থেকে বের করে অজ্ঞাত স্থানে আটকে রাখা হয়। এরপর আন্তর্জাতিক মানব পাচার চক্রের মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তাদের মুক্তির বিনিময়ে দাবি করা হয় ৫ লাখ টাকা। এ সময় দুই ব্যক্তিকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়।
ভুক্তভোগীদের মুক্তির জন্য ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ২ লাখ টাকা পাঠান স্বজনেরা। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীদের একজন থানায় মামলা করেন। পরে মানব পাচার, অপহরণ ও মুক্তিপণের অর্থ গ্রহণের অভিযোগের সূত্র ধরে মানিলন্ডারিংয়ের অনুসন্ধান শুরু করে সিআইডি। অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাসুদ করিম ও তার মালিকানাধীন তাহসিন ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলসের বিরুদ্ধে গত ১২ মার্চ পল্টন থানায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করা হয়।
সিআইডি বলছে, গ্রেপ্তার মাসুদের সঙ্গে আর কারা জড়িত, পলাতক অভিযুক্ত কারা এবং দেশের ভেতরে ও বিদেশে এই চক্রের সহযোগী কারা—তা শনাক্তের চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে এ ধরনের প্রতারণার শিকার অন্য কেউ আছেন কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ভিসা পাইয়ে দেওয়ার নামে অস্বাভাবিক অঙ্কের অর্থ দাবি করলে, পাসপোর্ট জিম্মি করে রাখলে অথবা ভিসা জালিয়াতি, মানব পাচার কিংবা অবৈধ অভিবাসনের সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহ হলে দ্রুত নিকটস্থ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অথবা সিআইডিকে অবহিত করার জন্যও অনুরোধ করা হচ্ছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


