বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপ আরও শক্তিশালী হয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার পথে রয়েছে। এর প্রভাবে আগামীকাল বুধবার থেকেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির প্রবণতা বাড়তে পারে। আগামী কয়েক দিন কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী, এমনকি অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে। একই সঙ্গে কমতে পারে দিনের ও রাতের তাপমাত্রা।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, পশ্চিমমধ্য ও তৎসংলগ্ন উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত নিম্নচাপটি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। মৌসুমি বায়ুর অক্ষ উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় রয়েছে।
আঞ্চলিক আবহাওয়া পর্যবেক্ষণেও সিস্টেমটির শক্তি বাড়ার তথ্য পাওয়া গেছে। ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ২২ সেপ্টেম্বর সকালে সিস্টেমটি পশ্চিমমধ্য ও সংলগ্ন উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে প্রায় ১৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ ও ৮৬ দশমিক ৩ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশের কাছে অবস্থান করছিল এবং পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছিল। পরবর্তী সময়ে এটি গভীর নিম্নচাপে শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস বলছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণও হতে পারে।
আজ বুধবার রংপুর, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক এলাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দেশের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। ২৪ সেপ্টেম্বরও কয়েকটি বিভাগে বৃষ্টির পাশাপাশি কোথাও কোথাও ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস রয়েছে।
২৫ ও ২৬ সেপ্টেম্বর বৃষ্টির প্রবণতা কিছুটা ছড়িয়ে পড়লেও তুলনামূলকভাবে কমতে পারে। বর্ধিত পাঁচ দিনের পূর্বাভাসে এরপর বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টির প্রবণতা কমে আসার কথা বলা হয়েছে।
বৃষ্টির প্রবণতা বাড়ায় দেশের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া মৃদু তাপপ্রবাহও ধীরে ধীরে প্রশমিত হচ্ছে। সোমবার দেশের ২০ জেলার ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে গেলেও মঙ্গলবার তা রংপুর, দিনাজপুর ও নীলফামারী এলাকায় সীমিত ছিল।
মঙ্গলবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে রংপুরে ৩৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাজধানী ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৪ দশমিক ৩ ডিগ্রি। এর আগের দিন সোমবার শ্রীমঙ্গলে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি এবং ঢাকায় ৩৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছিল।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, সাগরে নিম্নচাপ বা এ ধরনের সিস্টেম তৈরি হলে প্রথমদিকে বৃষ্টি কমে গরম ও ভ্যাপসা আবহাওয়া তৈরি হতে পারে। পরে সিস্টেমটি শক্তিশালী হলে বৃষ্টির প্রবণতা বাড়ে। এবারের ক্ষেত্রেও তেমন পরিস্থিতিই দেখা যাচ্ছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, নিম্নচাপটি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হলেও ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা আপাতত কম। তবে সিস্টেমটির গতিপথ ও শক্তি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বঙ্গোপসাগরে সেপ্টেম্বরের শেষভাগে এমন সিস্টেম তৈরি হলেও অক্টোবর-নভেম্বরের তুলনায় ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার অনুকূল পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে।
নিম্নচাপের প্রভাবে সমুদ্র উত্তাল থাকায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, উপকূলীয় এলাকায় দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, পরিস্থিতি নিয়ে অযথা আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। তবে সমুদ্রবন্দর, উপকূলীয় এলাকা ও নৌযান চলাচলের ক্ষেত্রে জারি করা সতর্কবার্তা মেনে চলা জরুরি। নিয়মিত আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুসরণ করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


