মৌসুমের শুরুতেই ২৭ জেলায় তাপপ্রবাহ

ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ঠ রাজধানীবাসী, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে বইছে তাপপ্রবাহ

সরদার আনিছ

ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ঠ রাজধানীবাসী, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে বইছে তাপপ্রবাহ

চৈত্রের খরতাপ আর ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ঠ সারা দেশের মানুষ। দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের খুলনা ও রাজশাহী বিভাগসহ দেশের ২৭টি জেলায় বয়ে যাচ্ছে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ। একইসঙ্গে রাজধানীতেও ক্রমেই তাপমাত্রা বাড়ছে। এতে ভ্যাপসা গরমে দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে নগরজীবন।

আগামী রোববার নাগাদ এ অবস্থা অব্যাহত থাকতে পারে। এছাড়া চলতি মাসে দুই থেকে চারটি মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ এবং একটি বা দুটি তীব্র তাপপ্রবাহ হতে পারে। সে সময় তাপমাত্রা ৪০ থেকে ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর ।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার সন্ধ্যায় আবহাওয়াবিদ একেএম নাজমুল হক আমার দেশকে বলেন, গত বৃহস্পতিবারের তুলনায় তাপপ্রবাহের পরিধি কিছুটা বেড়ে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের দুটি বিভাগসহ দেশের ২৭টি জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ। বৃহস্পতিবার তাপপ্রবাহ ছিল ১৭টি জেলায়।

তিনি জানান, শুক্রবার খুলনা ও রাজশাহী বিভাগের জেলাগুলো ছাড়াও টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জ, ফরিদপুর ও নীলফামারী জেলার ওপর দিয়ে তাপপ্রবাহ বয়ে যায়। তাপমাত্রা ক্রমেই বাড়তে পারে। তবে ২০২৩ ও ২০২৪ সালের তুলনায় এবার তাপপ্রবাহ কিছুটা কম থাকতে পারে।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালে টানা ২৬ দিন এবং ২০২৩ সালে ২২ দিন দেশে তাপপ্রবাহ ছিল। তবে এবার তাপপ্রবাহ বয়ে গেলেও ওই দুই বছরের মতো তাপপ্রবাহের আশঙ্কা নেই। কেননা, এবার তাপপ্রবাহের সঙ্গে সঙ্গে মাঝেমধ্যে বৃষ্টিও থাকবে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, আগামী দুদিনে তাপমাত্রা আরো বেড়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে এবং তা আরো বিস্তার লাভ করতে পারে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় দেশের পশ্চিমাঞ্চলে মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। সেইসঙ্গে, সারা দেশে দিন-রাতের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়তে পারে।

গত কয়েকদিনের রেকর্ডকৃত তাপমাত্রা পর্যালোচনায় দেখা যায়, দিনের তাপমাত্রা ক্রমেই বাড়ছে। শুক্রবার চুয়াডাঙ্গায় সর্বোচ্চ ৩৯ দশমিক সাত ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। বৃহস্পতিবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল একই জেলায় সর্বোচ্চ ৩৮ দশমিক পাঁচ ডিগ্রি এবং বুধবার রাজশাহীতে ৩৬ দশমিক আট ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এদিকে রাজধানীতেও তাপমাত্রা ক্রমেই বাড়ছে। শুক্রবার রাজধানীতে সর্বোচ্চ ছিল ৩৬ দশমিক চার ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগের দিন বৃহস্পতিবার ছিল ৩৫ এবং বুধবার ৩৪ দশমিক পাঁচ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের তুলনায় রাজধানীতে তাপমাত্রা কিছু কম রেকর্ড করা হলেও ভ্যাপসা গরম হঠাৎ অনেক বেড়ে গেছে। এতে জনজীবনে বিরূপ প্রভাব পড়েছে। গরমজনিত রোগের প্রাদুর্ভাবও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

একটি বেসরকারি হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. আবু আসমা আমার দেশকে বলেন, গরমজনিত কারণে শিশুরোগীর হার বেড়েছে। বছরের এ সময়ে সাধারণত ভ্যাপসা গরমে শিশুরা জ্বর ডায়রিয়াসহ নানা রোগে বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকে। এ জন্য ভ্যাপসা গরমে শিশুদের বিষয়ে সতর্ক অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভাষায়, তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত থাকলে তাকে মৃদু তাপপ্রবাহ বলা হয়। তাপমাত্রা ৩৮ থেকে ৩৯ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তা মাঝারি তাপপ্রবাহ। তাপমাত্রা ৪০ থেকে ৪১ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তীব্র তাপপ্রবাহ ধরা হয়। তাপমাত্রা ৪২-এর বেশি হলে তা অতি তীব্র তাপপ্রবাহ বলে গণ্য হয়।

এদিকে তাপপ্রবাহের মধ্যেই কিছুটা স্বস্তির খবর দিয়েছেন আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির। তিনি আমার দেশকে বলেন, আগামী সোমবার থেকে টানা তিন-চারদিন বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় দেশের বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি এবং কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টি হতে পারে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন