পবিত্র ঈদুল আজহার দিনে দেশের আবহাওয়ায় এক বৈচিত্র্যময় রূপ দেখা যেতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঈদের দিন দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে, দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোতে বৃষ্টিপাত কমে সেখানে মৃদু তাপপ্রবাহ ও ভ্যাপসা গরমের কারণে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তবে রাজধানীতে আজ মঙ্গলবার থেকে আগামী তিনদিনই হঠাৎ বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, বর্ষা আসার আগের এই সময়ে দেশের আবহাওয়ায় এমন আঞ্চলিক পার্থক্য খুবই স্বাভাবিক। মে মাসের শেষ নাগাদ দেশে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বা বর্ষা প্রবেশ করার অনুকূল পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। ফলে জুন মাসের প্রথমার্ধে সারা দেশে নিয়মিত বর্ষা শুরু হতে পারে।
ঈদের দিনের আবহাওয়া পরিস্থিতির পূর্বাভাসে সংস্থাটি জানিয়েছে, আগামী ২৮ মে বৃহস্পতিবার রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা কিংবা ঝোড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে।
আবহাওয়াবিদ ড. আবুল কালাম মল্লিক আমার দেশকে বলেন, ঈদের আগের দিন ও পরের দিন সারা দেশেই বিচ্ছিন্নভাবে বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। তবে ঈদের দিন উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হলেও রাজধানীসহ দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোতে বৃষ্টি কমে মৃদু তাপপ্রবাহসহ ভ্যাপসা গরম থাকতে পারে। আগের রাতে বৃষ্টি হলে গরমের মাত্রা কমতে পারে। তবে বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেড়ে এবং গতিবেগ কমে যাওয়ায় সারা দেশেই ভ্যাপসা গরমের তীব্র অনুভূতি থাকতে পারে।
তবে আবহাওয়াবিদ একেএম নাজমুল হক আমার দেশকে বলেন, মাঝারি ধরনের বৃষ্টিতে রাজধানীবাসীর মাঝে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও তা বেশি সময় ধরে স্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা নেই। জ্যৈষ্ঠের খরতাপ আর ভ্যাপসা গরম জুন মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।
তিনি বলেন, বৃষ্টির পরিমাণ বেশি না হলে বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেড়ে যায়, এতে গরম আরো বেশি অনুভূত হয়; কারণ এটি শরীরের ঘাম শুকাতে দেয় না। ফলে রাজধানীসহ সারা দেশে সহসাই গরম কমার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। মাঝেমধ্যে বিচ্ছিন্নভাবে হঠাৎ বৃষ্টি সাময়িক স্বস্তি দিলেও পরক্ষণেই ফের ভ্যাপসা গরম দেখা দিতে পারে।
এছাড়া ঈদের ছুটির দিনগুলোতেও দেশজুড়ে ভ্যাপসা গরমের দাপট অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।
এদিকে গতকাল সোমবার সকাল থেকেই রাজধানীর আকাশ মেঘলা ছিল। দুপুর ১২টার কিছু সময় আগে ঝুমবৃষ্টি শুরু হয়ে বিকাল ৩টা পর্যন্ত ৫৩ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড হয়েছে। আবহাওয়াবিদ ড. আবুল কালাম মল্লিক এটিকে কালবৈশাখী ও বজ্রবৃষ্টি বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেন, আগামী তিনদিনই রাজধানীতে হঠাৎ বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, তবে খুব বেশি বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। বৃষ্টির পরপরই ভ্যাপসা গরম দেখা দিতে পারে।
অন্যদিকে খুলনা বিভাগসহ যশোর, পাবনা ও রাজশাহী অঞ্চলের ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। গতকাল দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে যশোরে ৩৬ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিন রাজধানীর তাপমাত্রা ছিল ৩২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা আগের দিনের তুলনায় কম।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, গতকাল সোমবার দুপুর ৩টা পর্যন্ত রাজধানীতে ৫৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এর আগে রোববার বিকাল থেকে সোমবার সকাল ৬টা পর্যন্ত বৃষ্টির পরিমাণ ছিল ১৭ মিলিমিটার। আর গত শুক্রবার রাজধানীতে ৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছিল। গতকাল অল্প সময়ে অধিক বৃষ্টি হওয়ায় রাজধানীর অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে স্বস্তির মধ্যে অস্বস্তি দেখা দেয়। ঈদযাত্রা ও পশুর হাটগুলোতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
এছাড়া গতকাল বিকাল ৩টা পর্যন্ত সারা দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে নেত্রকোনায় ৭৮ মিলিমিটার। পাশাপাশি বগুড়ায় ৬১, নওগাঁয় ৫৪, সিলেটে ৫০ এবং ময়মনসিংহে ৪৭ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।
এদিকে বৃষ্টি কমে যাওয়া এবং বাতাসে জলীয় বাষ্পের আধিক্যের কারণে দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোতে ভ্যাপসা গরম ও অস্বস্তি অব্যাহত রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝোড়ো সতর্কীকরণ কেন্দ্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মে মাসের শেষের এই সময়ে স্থানীয়ভাবে মেঘ তৈরি হয়ে হুটহাট বজ্রবৃষ্টির প্রবণতা থাকে। তাই ঈদের দিন ঘর থেকে বের হওয়ার সময় সঙ্গে ছাতা বা রেইনকোট রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, ঈদের দিন সকালের দিকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বৃষ্টির বেগ বেশি থাকার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে দেশের প্রধান প্রধান ঈদগাহ ও খোলা ময়দানে ঈদের জামাত আয়োজন বিঘ্নিত হতে পারে। বৈরী আবহাওয়ার কথা মাথায় রেখে সারা দেশের জেলা-উপজেলা প্রশাসনকে খোলা মাঠের পাশাপাশি বিকল্প হিসেবে নিকটস্থ মসজিদগুলোকে প্রস্তুত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। জাতীয় ঈদগাহ ময়দানেও বৃষ্টিবিঘ্ন ঘটানো রোধে বিশেষ শামিয়ানার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
পবিত্র ঈদুল আজহার মূল আনুষ্ঠানিকতা অর্থাৎ পশু কোরবানির ক্ষেত্রে বৃষ্টি বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের উন্মুক্ত স্থানের পরিবর্তে যথাসম্ভব ছাউনিযুক্ত স্থানে বা নিরাপদ আশ্রয়ে পশু জবাই করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। বৃষ্টির পানির সঙ্গে কোরবানির রক্ত ও বর্জ্য মিশে যাতে পরিবেশ দূষণ বা জলাবদ্ধতা তৈরি না হয়, সেদিকে সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাগুলোকে বাড়তি নজর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


ঈদ সামনে রেখে বরিশালে মসলা বিক্রি দ্বিগুণ