শেষ ধাপে শক্তি সঞ্চয় করতে পারেনি গভীর নিম্নচাপ

শেষ ধাপে শক্তি সঞ্চয় করতে পারেনি গভীর নিম্নচাপ

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া গভীর নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার শেষ ধাপের কাছাকাছি গেলেও শেষ পর্যন্ত পর্যাপ্ত শক্তি সঞ্চয় করতে পারেনি। দ্রুত উপকূলের দিকে অগ্রসর হওয়া, মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তা এবং সমুদ্রের পরিবেশ পুরোপুরি অনুকূলে না থাকায় এটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার আগেই ভারতের উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ-দক্ষিণ ওড়িশা উপকূল অতিক্রম করেছে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এটি দক্ষিণ ওড়িশা ও সংলগ্ন উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ এলাকায় স্থল গভীর নিম্নচাপ হিসেবে অবস্থান করছিল। ভারতের আবহাওয়া দপ্তরের সর্বশেষ তথ্যেও সিস্টেমটির ক্রমশ দুর্বল হওয়ার কথা বলা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আবহাওয়া দপ্তরের সিনিয়র আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ আমার দেশকে বলেন, সেপ্টেম্বর মাসে ঘূর্ণিঝড় একেবারে বিরল নয়; ৭-৮ বছর পরপর একবার সেপ্টেম্বরেও ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হয়। দেশ স্বাধীনের পর থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত সেপ্টেম্বর মাসে ছয়বার ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হওয়ার রেকর্ড রয়েছে। তবে ঐতিহাসিকভাবে বঙ্গোপসাগরে অক্টোবর-নভেম্বরেই ঘূর্ণিঝড়ের প্রবণতা বেশি দেখা যায়।

তিনি বলেন, মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় সিস্টেমটি সাগরে বেশি সময় অবস্থান করতে পারেনি এবং বাতাসের প্রবাহ দেখেও এর ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত না হওয়ার বিষয়টি আগেই বোঝা গিয়েছিল। ফলে আমরা এবার কখনোই ঘূর্ণিঝড়ের কথা না বললেও এক শ্রেণির মিডিয়া প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ের কথা প্রচার করে জনগণকে বিভ্রান্ত এবং তাদের আতঙ্কিত করেছে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আবহাওয়াবিদ ড. ওমর ফারুক বলেন, সাগরে লঘুচাপটি সৃষ্টি হওয়ার পর খুব দ্রুত অগ্রসর হওয়ায় পর্যাপ্ত সময় ধরে সমুদ্রের ওপর অবস্থান করতে পারেনি। ফলে প্রয়োজনীয় শক্তি সঞ্চয়ের সুযোগ কম ছিল। একই সঙ্গে সাগরের তাপমাত্রাও পুরোপুরি অনুকূলে ছিল না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড়ের বিকাশে উষ্ণ সমুদ্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সাধারণভাবে প্রায় ২৬.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি উষ্ণ পানি অন্তত প্রায় ৫০ মিটার গভীরতা পর্যন্ত থাকলে তা ঘূর্ণিঝড়ের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তির জোগান দিতে পারে। তবে শুধু সমুদ্রের তাপমাত্রাই নয়, বায়ুমণ্ডলের আর্দ্রতা, বায়ুপ্রবাহসহ আরও কয়েকটি পরিবেশগত শর্ত একসঙ্গে অনুকূলে থাকা প্রয়োজন।

এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আজ শুক্রবার রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণও হতে পারে।

২৫ সেপ্টেম্বর বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা কমলেও বিভিন্ন বিভাগে বিচ্ছিন্নভাবে বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে দিনের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ২৭ ও ২৮ সেপ্টেম্বরও বিভিন্ন স্থানে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

ঘূর্ণিঝড়ের শঙ্কা কেটে গেলেও সমুদ্র ও উপকূলীয় এলাকায় ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা থাকায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির বলেন, গভীর স্থল নিম্নচাপটি বৃহস্পতিবার রাতেই দুর্বল হয়ে স্থল নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। এর প্রভাবে শুক্রবারও দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি থাকবে। তবে শনিবার থেকে বৃষ্টির প্রবণতা কমে তাপমাত্রা বাড়তে পারে, ফলে আবারও ভ্যাপসা গরম অনুভূত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে বৃষ্টির প্রবণতা বাড়ায় সারাদেশের তাপমাত্রা আরো কমেছে। গত সোমবার ২০ জেলায় মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে গেলেও মঙ্গলবার তা রংপুর, দিনাজপুর ও নীলফামারীতে সীমিত ছিল, আর বুধবার দেশের কোথাও তাপপ্রবাহ ছিল না। বুধবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয় ফেনীতে, ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, রাজধানীতে ছিল ৩২.৮ ডিগ্রি—যা সোমবারের শ্রীমঙ্গলে ৩৭.৫ ও ঢাকায় ৩৬.৭ ডিগ্রি তুলনায় অনেকটাই কম। আর বৃহস্পতিবার সারাদেশের মধ্যে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ৩৬ এবং রাজধানীতে ৩১ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর বৃহস্পতিবার রাজধানীতে ১৬ মিলিমিটার এবং এদিন রাজশাহীতে সর্বোচ্চ ৭১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন