রাজধানীতে ২৪ ঘণ্টা এক মিলিমিটারেরও কম বৃষ্টি হলেও মেঘলা আকাশে আগের দিনের তুলনায় ঢাকায় তাপমাত্রা কমেছে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এছাড়া সারা দেশে বৃষ্টির প্রবণতা বেড়ে কয়েকদিনের চলমান তাপপ্রবাহ প্রশমিত হয়েছে। এতে স্বস্তি ফিরেছে জনজীবনে। তবে স্বস্তির এই আবহাওয়া দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা কম। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন ও লা-নিনোর প্রভাবসহ নানা কারণে পুরো বর্ষাকাল জুড়েই এবার ভ্যাপসা গরম ও অস্বস্তিকর আবহাওয়া বিরাজ করতে পারে।
আগের দুইদিনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাওয়া; ভ্যাপসা গরমের সঙ্গে পাল্লা বেড়েছে বিদ্যুতের লোডশেডিং। তীব্র লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে সারাদেশে মানুষ যখন অসহনীয় গরমে ছটফট করছিল ঠিক তখন বৃষ্টির প্রবণতা বেড়ে সোমবার তাপপ্রবাহ বিদায় নিয়েছে। দেশের প্রায় সব বিভাগেই বৃষ্টিপাত বেড়েছে। বিশেষ করে রংপুর, রাজশাহী, সিলেট, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও বরিশাল অঞ্চলে মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ হয়েছে। ঢাকা ও খুলনা বিভাগে কম হলেও সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে রংপুর বিভাগে। সোমবার সর্বোচ্চ নীলফামারীর সৈয়দপুরে ১৪৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। এছাড়া কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ৯৯, রংপুরে ৬৬ ও দিনাজপুরে ৫৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে; যা তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্য মাত্রায় কমিয়ে এনেছে। টানা তাপপ্রবাহের পর এই বৃষ্টি নাগরিক জীবনে স্বস্তির পরশ বুলিয়ে দিয়েছে।
রাজধানীতে বিকাল পর্যন্ত সামান্য বৃষ্টি হলেও সকাল থেকে মেঘলা আকাশে আগের দিনের তুলনায় ঢাকা শহরের তাপমাত্রা কমেছে ৪ ডিগ্রির মতো। সোমবার রাজধানীতে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস; যা রোববার ছিল ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একইসাথে সোমবার সারাদেশে তাপপ্রবাহ প্রশমিত হয়ে সিলেটে সর্বোচ্চ ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বৃষ্টি হলেও বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ অনেক বেশি থাকায় বৃষ্টির পর যখন রোদ ওঠে, তখন এই জলীয় বাষ্প দ্রুত বাষ্পীভূত হয়ে বাতাসে আর্দ্রতা বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে তৈরি হয় ভ্যাপসা গরম ও প্রচণ্ড ঘাম ঝরানো অস্বস্তিকর পরিবেশ। এছাড়াও মৌসুমি বায়ু এখনো পুরোপুরি সক্রিয় না হওয়ায় ঊষ্ণ বৃষ্টি ঝরাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে মৌসুমি বায়ুর চরিত্র কিছুটা বদলে গেছে। বর্ষাকালে এখন আগের মতো একটানা ঠাণ্ডা বৃষ্টি দেখা যায় না। বরং বৃষ্টির মাঝেই দীর্ঘ সময় তীব্র রোদ এবং গুমোট আবহাওয়া পরিলক্ষিত হচ্ছে।
আবহাওয়া দপ্তরের আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন নেসা আমার দেশকে বলেন, বৃষ্টির প্রবণতা কিছুটা বাড়লেও এই সময়ে অঝোরে বৃষ্টি সম্ভাবনা নেই; তবে আগামী ৪-৫ জুলাইয়ের দিকে সাগরে লঘুচাপ তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে; তখন হয়ত বৃষ্টির পরিমাণ আরো বাড়বে। মঙ্গলবার রাজধানীতেও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
এই আবহাওয়াবিদ আরো বলেন, থেমে থেমে বৃষ্টি হলেও বর্ষাজুড়েই এবার গরম থাকবে। বৃষ্টির পরিমাণ কমলেই তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা বেড়ে ভ্যাপসা গরম অনুভূত হবে। ষড়ঋতুর দেশ বলা হলেও বর্তমানে প্রকৃতিতে অনেক পরিবর্তন ঘটে গেছে। এই সময়ে খাড়াভাবে সূর্যের তাপ বিকিরণ করে থাকে; দিনের পরিধিও বড়। ফলে বৃষ্টিপাত না হলেই তাপমাত্রা বেড়ে[ভ্যাপসা গরম শুরু হয়ে যায়। তাপপ্রবাহের সঙ্গে দক্ষিণা বাতাসে বেশি আর্দ্রতার কারণে সারা দেশে অসহনীয় ভ্যাপসা গরম অনুভূত হয়।
প্রসঙ্গত, এবার মৌসুমের সবচেয়ে উষ্ণতম এপ্রিল-মে মাসে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টি হলেও জুন-জুলাই মাসে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাত এবং বেশি তাপমাত্রা থাকার কথা আগেই জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
এএস
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

