বর্ষাকালে সাধারণত দেশের কোথাও না কোথাও বৃষ্টি হয়ে থাকে। কিন্তু চলতি বর্ষায় বিরল এক দিনের সাক্ষী হলো দেশ। সোমবার সারাদিন দেশের কোনো স্টেশনেই বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়নি। বৃষ্টিহীন এই দিনে তাপমাত্রাও হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় তীব্র ভ্যাপসা গরম অনুভূত হয়েছে। একই সময়ে উত্তর আন্দামান সাগর ও তৎসংলগ্ন মিয়ানমার উপকূলে অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি দ্রুত স্থলভাগের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা সিলেটে ৩৭ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং রাজধানী ঢাকায় ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। চার জেলায় মৃদু তাপপ্রবাহও বয়ে গেছে। আগের কয়েক দিনের তুলনায় তাপমাত্রা কয়েক ডিগ্রি বেড়ে যাওয়ায় বিশেষ করে রাজধানীতে গরমের অনুভূতি ছিল বেশি।
আবহাওয়াবিদ ড. আবুল কালাম মল্লিক বলেন, বর্ষাকালে সারাদেশে একেবারেই বৃষ্টি না হওয়া খুব কম ঘটে। সোমবার গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে দেশের ওপরের বাতাসের প্রবাহে পরিবর্তন ঘটায় অভ্যন্তরীণ বাতাস অপেক্ষাকৃত শুষ্ক হয়ে পড়ে। ফলে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ কমে যাওয়ায় মেঘ সৃষ্টির অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়নি। বৃষ্টি না হওয়ায় তাপমাত্রা দ্রুত বেড়েছে।
তিনি জানান, বর্ষাকালে দুপুরে বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ৬০ শতাংশের নিচে থাকলে বাতাসকে তুলনামূলক শুষ্ক বলা হয়। সোমবার দুপুরে আর্দ্রতা ছিল প্রায় ৫২ শতাংশ। গভীর নিম্নচাপের দিকে বাতাসের প্রবাহের কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে তিনি ব্যাখ্যা করেন।
এদিকে উত্তর আন্দামান সাগর ও তৎসংলগ্ন মিয়ানমার উপকূলে থাকা লঘুচাপটি সোমবার সকাল ৬টায় নিম্নচাপ এবং পরে বিকালে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এর প্রভাবে দেশের সমুদ্রবন্দরগুলোকে দূরবর্তী সতর্কসংকেত নম্বর ১ দেখাতে বলা হয়েছে।
তবে সর্বশেষ আপডেটে দেখা যাচ্ছে, গভীর নিম্নচাপটি ইতোমধ্যে মিয়ানমারের দিকে উত্তর-উত্তরপশ্চিমে অগ্রসর হচ্ছে। মিয়ানমারের আবহাওয়া অধিদপ্তরের সন্ধ্যার তথ্য অনুযায়ী, সিস্টেমটি কিয়াইক্তোর দক্ষিণ দিয়ে অগ্রসর হচ্ছিল এবং পরবর্তী সময়ে দেশটির স্থলভাগের আরও ভেতরে যাওয়ার কথা।
ফলে বাংলাদেশের ওপর এর বড় ধরনের সরাসরি প্রভাব পড়ার আশঙ্কা কম। তবে এর প্রভাবে আগামী দুই দিন চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু জায়গায় এবং ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বৃষ্টিও হতে পারে। দেশের অন্যত্র আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর কম সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে।
এদিকে মিয়ানমারের আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, গভীর নিম্নচাপটির প্রভাবে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক বৃষ্টি, কোথাও কোথাও ভারী বর্ষণ এবং দমকা হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বাংলাদেশে আগামী পাঁচ দিনে আবহাওয়ার উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। ফলে বিচ্ছিন্নভাবে বৃষ্টি হলেও দেশের বড় অংশে গরম ও ভ্যাপসা আবহাওয়া আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে।
এমএমআর
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

