মৌসুমিবায়ুর প্রভাবে বৃষ্টি বাড়বে

স্টাফ রিপোর্টার

মৌসুমিবায়ুর প্রভাবে বৃষ্টি বাড়বে

দক্ষিণ-পশ্চিমা মৌসুমিবায়ুর সক্রিয়তা ক্রমেই বাড়ছে। শনিবার দুপুরে টেকনাফ উপকূল হয়ে চট্টগ্রাম অঞ্চলে প্রবেশ করে তা এখন দেশের অর্ধেকেরও বেশি এলাকাজুড়ে বিস্তার ঘটেছে। এর বিপরীতে পশ্চিমা বায়ুও সক্রিয় রয়েছে। আর এই পশ্চিমা লঘুচাপের কারণে মৌসুমিবায়ুর স্বাভাবিক চেহারায় সেভাবে বৃষ্টি ঝরাতে পারছে না। তবে দুই-তিনদিনের মধ্যে মৌসুমিবায়ু পুরোপুরি বিস্তার লাভ করে দেশে বৃষ্টির প্রবণতা বাড়তে পারে। তবে বহস্পতিবারও দেশের বেশিরভাগ এলাকাজুড়ে বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। রাজধানীতেও আজ বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষজ্ঞ আবহাওয়াবিদ ড. আবুল কালাম মল্লিক আমার দেশকে বলেন, এরই মধ্যে দক্ষিণ-পশ্চিমা মৌসুমিবায়ু বরিশাল, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, সিলেট ও রংপুর বিভাগের এলাকাজুড়ে বিস্তার লাভ করেছে। দেশের বাকী এলাকাগুলোতে ২-৩ দিনের মধ্যে বিস্তার লাভ করার অনুকূল পরিবেশ রয়েছে। এরফলে ইতোমধ্যে বর্ষার বৃষ্টি শুরু হয়েছে; মৌসুমিবায়ু সারাদেশে পুরোপুরি সক্রিয় হলে বৃষ্টির পরিমাণ আরো বাড়তে পারে। বৃষ্টির প্রভাবে সারাদেশে তাপমাত্রা ৩২ থেকে ৩৫ ডিগ্রী সেলসিয়াসের মধ্যে থাকতে পারে।

তিনি আরো বলেন, এবার বর্ষায় বৃষ্টি হলেও স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রা থাকবে। এছাড়া এবার এল নিনো সক্রিয় থাকায় সারাবিশ্বেই এর প্রভাব থাকবে। এতে বর্ষাকালে থেমে থেমে বৃষ্টি হলেও বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেড়ে তাপমাত্রার চেয়েও বেশি ভ্যাপসা গরম অনুভূত হতে পারে।

এদিকে বুধবার সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত দেশের প্রতিটি বিভাগেই কমবেশি বৃষ্টি হয়েছে। এরমধ্যে বেশি বৃষ্টির প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে বরিশাল বিভাগে। সর্বোচ্চ বৃষ্টির রেকর্ডও করা হয় এই বিভাগের খেপুপাড়ায় ১০৬ মিলিমিটার। এসময় রাজধানীতে ৩১মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আকাশ মেঘাচ্ছন্ন ছিল। আজ রাজধানীতে আরো বৃষ্টি হতে পারে।

সাধারণত দেশের একাধিক জেলায় তাপমাত্রা ৩৬ কিংবা এর বেশি তাপমাত্রা দেখা দিলে মৃদু তাপপ্রবাহ ঘোষণা করে আবহাওয়া অধিদপ্তর । বৃষ্টির প্রভাবে গত মঙ্গলবার থেকে সারাদেশে তাপপ্রবাহ প্রশমিত হয়েছে।

সংস্থাটির দেওয়া ২৪ ঘন্টার তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, আগের দিনের তুলনায় বুধবার সারাদেশেই তাপমাত্রা কমেছে। বুধবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৫ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে পটুয়াখালীতে। যা আগেরদিন ছিল যশোরে সর্বোচ্চ ৩৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাজধানীতেও সর্বোচ্চ তাপমাত্রা কমে হয়েছে ৩২ দশমিক ১ ডিগ্রি; যা আগের দিন ছিল ৩৪ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস ।

সন্ধ্যা ছয়টার পূর্বাভাসে আরো বলা হয়, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারী ধরনের বৃষ্টি কিংবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে সারাদেশের কোথাও কোথাও মাঝারী ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

প্রসঙ্গত, চলতি বছর স্বাভাবিক সময়ের এক সপ্তাহ পরে অর্থাৎ শনিবার দুপুরে দেশে মৌসুমি বায়ুর প্রবেশ ঘটেছে। তবে তা এখন চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, সিলেট, খুলনা, রংপুর ও বরিশাল বিভাগের দিকে ছড়িয়েছে। অর্থাৎ দেশের অর্ধেকেরও বেশি এলাকাজুড়ে এর বিস্তার ঘটেছে। পুরোপুরি সারাদেশে ছড়াতে আরো ২ থেকে ৩দিন সময় লাগতে পারে। তখন দেশে প্রচু বৃষ্টি ঝরাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আবহাওয়াবিদ ড. মল্লিকের মতে, দেশের মোট বৃষ্টিপাতের ৮০ ভাগের বেশি হয় মৌসুমি বায়ুর কারণে। তবে এ বছর বৃষ্টির মৌসুমে তুলনামূলকভাবে কম বৃষ্টি হতে পারে। অথচ বছরের সবচেয়ে বেশি উষ্ণতম মাস হিসেবে পরিচিত এপ্রিল ও মে মাসে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে। এপ্রিল মাসে স্বাভাবিকের চেয়ে ৭৫ ভাগের বেশি বৃষ্টি হলেও জুন-জুলাইয়ে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাতের এবং তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

এমই

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...