একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা, সাংবিধানিক শৃঙ্খলা এবং রাষ্ট্রের মৌলিক স্বার্থ রক্ষা করা সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। বর্তমান বিশ্বে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে হুমকি কেবল সামরিক আগ্রাসনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং তথ্যযুদ্ধ, সাইবার হামলা, অর্থনৈতিক চাপ, বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা, বিদেশি প্রভাব বিস্তার, অবৈধ অর্থায়ন এবং বিভিন্ন প্রক্সি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিও জাতীয় নিরাপত্তার বড় চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। ভৌগোলিক অবস্থান, বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক কৌশলগত গুরুত্ব, দ্রুত বিকাশমান অর্থনীতি এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে বাংলাদেশ আজ বিভিন্ন আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শক্তির বিশেষ আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করছে। এমন বাস্তবতায় রাষ্ট্রের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যে, দেশের ভেতরে কার্যরত ব্যক্তি, সংগঠন বা নেটওয়ার্কের কোনো অংশ বিদেশি শক্তির স্বার্থে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত কি না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সর্বদা সতর্ক থাকবে। তবে এই সতর্কতা অবশ্যই হতে হবে নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা তথ্য, গ্রহণযোগ্য প্রমাণ এবং আইনের শাসনের ভিত্তিতে। কারণ কেবল সন্দেহ বা গুজবের ভিত্তিতে কাউকে রাষ্ট্রবিরোধী আখ্যায়িত করা যেমন অনুচিত, তেমনি প্রকৃত অপরাধীদেরও আইনের আওতার বাইরে রাখাও রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর।
বিশ্ব ইতিহাসে বিদেশি হস্তক্ষেপের অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে। শীতল যুদ্ধের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন উভয়ই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রাজনৈতিক দল, ছাত্রসংগঠন, গণমাধ্যম, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন প্রভাবশালী গোষ্ঠীর মাধ্যমে নিজেদের কৌশলগত স্বার্থ বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো, সাইবার আক্রমণ এবং বিদেশি অর্থায়নের মাধ্যমে নীতি প্রভাবিত করার অভিযোগ বিশ্বের বহু দেশে আলোচিত হয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, কানাডাসহ অনেক দেশ বিদেশি অর্থায়ন, লবিং ও বিদেশি প্রভাবের বিষয়ে আরো কঠোর স্বচ্ছতা ও নজরদারির ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশেও বিদেশি অনুদান গ্রহণকারী সংস্থাগুলোর কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের জন্য আইনগত কাঠামো বিদ্যমান। তবে কেবল আইন থাকাই যথেষ্ট নয়; আইন বাস্তবায়িত হতে হবে কার্যকর, নিরপেক্ষ এবং বৈষম্যহীনভাবে। যেকোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যদি বিদেশি অর্থ ব্যবহার করে দেশের নিরাপত্তা, সাংবিধানিক ব্যবস্থা, সামাজিক সম্প্রীতি বা রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা ক্ষুণ্ণ করার উদ্দেশ্যে বেআইনি কার্যক্রম পরিচালনা করে, তাহলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা রাষ্ট্রের বৈধ দায়িত্ব।
একই সঙ্গে এটিও স্বীকার করতে হবে যে, বিদেশি অর্থায়নে পরিচালিত বহু উন্নয়ন সংস্থা বাংলাদেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, নারী ক্ষমতায়ন, জলবায়ু অভিযোজন, দারিদ্র্য বিমোচন ও মানবিক সহায়তায় দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। তাই সব বিদেশি অর্থায়নকে সন্দেহের চোখে দেখা যেমন যুক্তিসংগত নয়, তেমনি কোনো প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন থাকলেই তাকে সম্পূর্ণ জবাবদিহিতার বাইরে ভাবাও উচিত নয়। মূল প্রশ্ন হওয়া উচিত—কার্যক্রমটি কি বাংলাদেশের আইন, সংবিধান ও জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ? বর্তমান সময়ে তথ্যযুদ্ধ (Information Warfare) এবং মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব বিস্তার (Psychological Operations) রাষ্ট্রগুলোর জন্য অন্যতম বড় নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ভুয়া ছবি ও ভিডিও, সমন্বিত বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা এবং বিদেশ থেকে পরিচালিত অনলাইন নেটওয়ার্ক খুব অল্প সময়ের মধ্যে জনমতকে বিভক্ত করতে, রাষ্ট্রের প্রতি মানুষের আস্থা দুর্বল করতে এবং সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি করতে সক্ষম। তাই জাতীয় নিরাপত্তার ধারণাও এখন প্রচলিত সামরিক সীমার বাইরে গিয়ে তথ্য, প্রযুক্তি, অর্থনীতি এবং জনমতের নিরাপত্তাকেও অন্তর্ভুক্ত করছে।
এ প্রেক্ষাপটে দেশের গোয়েন্দা সংস্থা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট, সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আরো সমন্বিত, প্রযুক্তিনির্ভর ও আধুনিক সক্ষমতা গড়ে তোলা সময়ের অপরিহার্য দাবি। বর্তমান বিশ্বে জাতীয় নিরাপত্তার হুমকি আর শুধু সীমান্তে সীমাবদ্ধ নয়; বরং অর্থনীতি, সাইবার জগৎ, তথ্যপ্রবাহ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা এবং বিদেশি অর্থায়নের জটিল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করার প্রচেষ্টাও ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে প্রচলিত গোয়েন্দা কার্যক্রমের পাশাপাশি আর্থিক গোয়েন্দা বিশ্লেষণ, ডিজিটাল ফরেনসিক, সাইবার ইন্টেলিজেন্স, ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্স (OSINT), কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণ এবং আন্তঃসংস্থাগত তথ্য বিনিময়ের সক্ষমতা আরো শক্তিশালী করতে হবে।
তাদের প্রধান দায়িত্ব হবে জাতীয় নিরাপত্তার প্রকৃত ঝুঁকি চিহ্নিত করা, বিদেশি উৎস থেকে আসা সন্দেহজনক অর্থের গতিপ্রকৃতি অনুসরণ করা, অর্থপাচার, সন্ত্রাসে অর্থায়ন, অবৈধ রাজনৈতিক অর্থায়ন কিংবা ছদ্মবেশী প্রভাব বিস্তারের নেটওয়ার্ক শনাক্ত করা এবং এসব বিষয়ে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ সংগ্রহ করা। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পরিচালিত সমন্বিত বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা, ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে জনমতকে প্রভাবিত করার অপচেষ্টা, সাম্প্রদায়িক উসকানি, রাষ্ট্রবিরোধী অপপ্রচার কিংবা বিদেশ থেকে পরিচালিত তথ্যযুদ্ধের কার্যক্রমও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। তবে এসব নজরদারি অবশ্যই সংবিধান, প্রচলিত আইন এবং নাগরিকের মৌলিক অধিকারের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখে পরিচালিত হতে হবে।
এ ছাড়া জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় গোয়েন্দা সংস্থা, বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট, দুর্নীতি দমন কমিশন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, সাইবার নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ, নির্বাচন কমিশন, এনজিও-বিষয়ক ব্যুরো এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর তথ্যবিনিময় ও সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। অনেক সময় বিচ্ছিন্নভাবে সংগৃহীত তথ্য এককভাবে গুরুত্বপূর্ণ মনে না হলেও বিভিন্ন সংস্থার তথ্য একত্রে বিশ্লেষণ করলে একটি বড় ধরনের বেআইনি নেটওয়ার্ক, বিদেশি প্রভাব বিস্তারের প্রচেষ্টা, কিংবা অর্থায়নের উৎস সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া সম্ভব হয়। তবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নামে কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনকে যথাযথ প্রমাণ ছাড়া হয়রানি করা, কিংবা ভিন্নমতকে নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। একটি পেশাদার গোয়েন্দা ব্যবস্থার মূল শক্তি হলো—নিরপেক্ষতা, তথ্যের যথার্থতা, আইনের শাসনের প্রতি অঙ্গীকার এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পেশাদারিত্ব। গোয়েন্দা সংস্থার কাজ কারো রাজনৈতিক মতাদর্শ বিচার করা নয়; বরং আইন লঙ্ঘন, রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র, গুপ্তচরবৃত্তি, অবৈধ বিদেশি প্রভাব, সন্ত্রাসে অর্থায়ন কিংবা জাতীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে পরিচালিত প্রকৃত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড উদ্ঘাটন করা।
একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সহযোগিতাও আরো জোরদার করা প্রয়োজন। কারণ অর্থপাচার, সাইবার অপরাধ, ডিজিটাল প্রচারণা এবং বিদেশি অর্থায়নের অনেক নেটওয়ার্ক সীমান্তের বাইরে পরিচালিত হয়। তাই আন্তর্জাতিক আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা, ইন্টারপোল, আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো এবং দ্বিপক্ষীয় তথ্যবিনিময় ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা বাড়াতে হবে। আধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এককভাবে কোনো দেশ এই ধরনের আন্তঃসীমান্ত হুমকি কার্যকরভাবে মোকাবিলা করতে পারে না। সবশেষে মনে রাখতে হবে, একটি রাষ্ট্রের প্রকৃত শক্তি কেবল তার গোয়েন্দা সংস্থার দক্ষতায় নয়; বরং সেই সংস্থাগুলোর পেশাদারিত্ব, জবাবদিহিতা, আইনের প্রতি আনুগত্য এবং জনগণের আস্থার ওপর নির্ভর করে। যখন নিরাপত্তা সংস্থাগুলো নিরপেক্ষভাবে, আইনসম্মতভাবে এবং জাতীয় স্বার্থকে একমাত্র বিবেচনায় রেখে কাজ করে, তখনই তারা রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং বিদেশি যেকোনো বেআইনি প্রভাব বা ষড়যন্ত্র সফলভাবে প্রতিহত করতে সক্ষম হয়।
বিদেশি অনুদান গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক স্বচ্ছতা, নিয়মিত নিরীক্ষা, প্রকল্পভিত্তিক জবাবদিহিতা এবং অর্থের উৎস ও ব্যবহার সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশের সংস্কৃতি আরো শক্তিশালী হওয়া উচিত। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দল, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, নীতিনির্ধারণী সংস্থা এবং গণমাধ্যমের ক্ষেত্রেও অর্থায়নের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন, যাতে জনগণের আস্থা অটুট থাকে। গণমাধ্যম ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা, তথ্য যাচাই (ফ্যাক্ট-চেকিং) এবং প্রমাণভিত্তিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রকৃত অনিয়ম ও বেআইনি বিদেশি প্রভাবের বিষয়গুলো সামনে আনা যেমন জরুরি, তেমনি ভিত্তিহীন অভিযোগ, গুজব বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা থেকেও বিরত থাকা সমান গুরুত্বপূর্ণ। একটি দায়িত্বশীল গণমাধ্যম জাতীয় নিরাপত্তার অংশীদার, প্রতিপক্ষ নয়।
বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং নাগরিক সমাজেরও উচিত তরুণ প্রজন্মকে তথ্য যাচাই, ডিজিটাল সচেতনতা, সমালোচনামূলক চিন্তাশক্তি এবং সাইবার নিরাপত্তা সম্পর্কে আরো দক্ষ করে তোলা। কারণ সচেতন নাগরিকই বিদেশি বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা ও মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব মোকাবিলার প্রথম প্রতিরক্ষা। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, জাতীয় নিরাপত্তা কখনো দলীয় রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয় হতে পারে না। যেকোনো বিদেশি শক্তির বেআইনি প্রভাব, অবৈধ অর্থায়ন, গুপ্তচরবৃত্তি, সন্ত্রাসে অর্থায়ন, রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র বা সামাজিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অপচেষ্টা—যে উৎস থেকেই আসুক না কেন—রাষ্ট্রকে সমানভাবে তা মোকাবিলা করতে হবে। একই সঙ্গে বৈধ উন্নয়ন সহযোগিতা, মানবিক কার্যক্রম, গবেষণা, শিক্ষা বা সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজ যাতে অযথা বাধাগ্রস্ত না হয়, সে ভারসাম্যও রক্ষা করতে হবে।
বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নির্ভর করবে শক্তিশালী রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, পেশাদার গোয়েন্দা সক্ষমতা, কার্যকর আইনের শাসন, আর্থিক স্বচ্ছতা, দায়িত্বশীল গণমাধ্যম এবং সচেতন নাগরিক সমাজের ওপর। যদি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান—দেশি বা বিদেশি অর্থায়নে পরিচালিত—বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, জাতীয় নিরাপত্তা বা সাংবিধানিক শৃঙ্খলার বিরুদ্ধে বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকে, তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত নিরপেক্ষ তদন্ত, সুষ্ঠু বিচার এবং আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে মনে রাখতে হবে, রাষ্ট্রের শক্তি শুধু অপরাধ দমনে নয়; ন্যায়বিচার, স্বচ্ছতা এবং আইনের সমান প্রয়োগের মধ্য দিয়েই একটি নিরাপদ, স্থিতিশীল ও আত্মমর্যাদাসম্পন্ন বাংলাদেশ গড়ে ওঠে।
লেখক: অবসপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা
hrmrokan@hotmail.com
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

