আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

অধ্যাপক ড. জিয়াউশ শামস হক

লায়লা আরজুমান্দ বানু (লায়লা হক)

অধ্যাপক ড. জিয়াউশ শামস হক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সাবেক শিক্ষক অধ্যাপক ড. জিয়াউশ শামস হকের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০২৩ সালের ৭ মে তিনি ঢাকায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন।

অধ্যাপক ড. জিয়াউশ শামস হক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করার পর কানাডার ব্রিটিশ কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর মালয়েশিয়ার ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্সে তিন বছর শিক্ষকতা করেন। ১৯৮০-এর দশকে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। এখানে দীর্ঘদিন অধ্যাপনার পর এক দশক আগে তিনি অবসর গ্রহণ করেন।

বিজ্ঞাপন

এই বিভাগের শিক্ষার্থীদের তিনি সন্তানের মতো ভালোবাসতেন। অনেক সময় বিভাগের ছাত্রদের সঙ্গে তিনি ক্রিকেট খেলতেন। ছাত্রছাত্রীরাও তাকে শুধু তাদের শিক্ষক নয়, একজন অভিভাবক মনে করত। সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের প্রভোস্ট হিসেবেও তিনি পাঁচ বছর দায়িত্ব পালন করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপি সমর্থক শিক্ষকদের ফোরাম সাদা দলের একজন সক্রিয় সদস্য ছিলেন অধ্যাপক ড. জিয়াউশ শামস হক।

তিনি শেখ হাসিনার স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে সব সময়ই ক্ষোভ প্রকাশ করতেন। আমাকে বলতেন, দেখো, ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের পতন একদিন হবেই। কিন্তু তার দুর্ভাগ্য, সেই সুদিনটি তিনি দেখে যেতে পারেননি। ২০২৩ সালের ৫ মে রাতে তিনি হঠাৎ বমি করতে শুরু করেন। ৬ মে সকালে তাকে পাশের একটি ক্লিনিকে নিয়ে গেলে বমি বন্ধের ওষুধ দেওয়া হয়। এরপর আল্ট্রাসনোগ্রাম করার জন্য তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে আল্ট্রাসনোগ্রাম করার পর ডাক্তাররা তেমন কোনো শারীরিক সমস্যা পাননি। তবে, ডাক্তাররা বললেন, রাতটুকু থাকেন, দেখি কি অবস্থা হয়। এরপর তাকে কেবিনে নেওয়া হয়।

কিন্তু রাতে কোনো ডাক্তার এলেন না তাকে দেখতে। ৭ মে ভোর ৫টার সময় তিনি উঠে গোসল করে তার বেডে বসলেন। এরপর হঠাৎ বললেন, ‘লায়লা, আমি নিঃশ্বাস নিতে পারছি না, আমার অক্সিজেন লাগবে।’ কিন্তু রোগীর বেডে মাথার কাছে অক্সিজেন নেই। সিস্টার দৌড়ঝাঁপ করছেন অক্সিজেনের জন্য। এই পরিস্থিতিতে আমি ওনার মুখে মুখ লাগিয়ে শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক করার চেষ্টা করি। আমি তাকে একটু পানি পান করালাম। এরপর উনি আমার দিকে তাকিয়ে রইলেন।

ওনার চোখ থেকে পানি গড়িয়ে পড়ছে। এরপর আস্তে আস্তে ওনার চোখ দুটো বন্ধ হয়ে গেল। নিঃসাড় হয়ে গেল পুরো শরীর। অথচ উনি আমাকে ছেড়ে চিরদিনের জন্য চলে গেলেন। আমার হাতের ওপরই তার মৃত্যু হলো।

লেখক : মরহুমের স্ত্রী ও সাবেক পরিচালক (প্রোগ্রাম ও প্ল্যানিং)

বাংলাদেশ টেলিভিশন

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন