বাংলার মুর্শিদি গান

ওয়াকিল আহমদ

বাংলার মুর্শিদি গান

বাংলা ধানের দেশ, বানের দেশ আর গানের দেশ। আবার এ কথাও বলা হয় যে, বাঙালির গোলায় গোলায় ধান আর গলায় গলায় গান। লোকবাচ্য কথাগুলো উড়িয়ে দেওয়া যায় না। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রায় দুই হাজার এবং কাজী নজরুল ইসলাম আড়াই হাজার গান রচনা করেন। এর সঙ্গে আর একজনের নাম করতে হয়, তিনি হলেন বাউল সাধক লালন শাহ। কথিত আছে, তিনি দুই থেকে আড়াই হাজার গান রচনা করেন। আরো অনেক বাউল কবির মৌখিক ধারার বাউল গান রচিত হয়েছে, এটি জীবন্ত ধারা, বাউল গান আজও রচিত হয়ে চলেছে। এর আগে অতুলপ্রসাদ সেন, রামপ্রসাদ সেন, রজনীকান্ত সেন, দ্বিজেন্দ্রলাল রায় প্রমুখ কবি ও গীতিকার অজস্র গান রচনা করেন। এসব গান শুকিয়ে যায়নি বা লোপ পায়নি; শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শেখানো হয়, আসরে গাওয়া হয়, রেডিও-টেলিভিশনে গেয়ে প্রচার করা হয়; আবার শত শত সিডিতে ধারণ ও প্রচার করা হয়। ব্রাহ্মসমাজে প্রচলিত ‘ব্রহ্মসংগীতে’র কথাও স্মরণ করা আবশ্যক। এ সময় আরেক শ্রেণির গানের উদ্ভব হয়, যা ‘কবিওয়ালা গান’ নামে পরিচিত। পেশাদার গায়ক কবিওয়ালারা শহরে ও গ্রামে গান পরিবেশন করে আসর মাত করতেন। এরূপ গানের সংখ্যা ছিল গণনাতীত।

আমরা যদি মধ্যযুগে যাই, তাহলে কী দেখি? সারা মধ্যযুগজুড়ে বহু কবি অজস্র ‘বৈষ্ণবপদ’ রচনা করেন। এগুলো ছিল মূলত গীতিপদ। কেননা, প্রতি পদের শীর্ষে রাগ-রাগিণীর উল্লেখ রয়েছে, যা সুর- তালযোগে গীত হওয়ার নির্দেশনা দেয়। এ যুগে বৈষ্ণবপদের আঙ্গিকে রচিত শতাধিক মুসলমান কবির ‘সুফিপদ’ পাওয়া যায়। শেষদিকে রচিত হয় ‘শাক্তপদ’, যার মৌলিক আবেদন সংগীতরস ও মাধুর্য। আরো আশ্চর্যের বিষয় এই যে, ‘মঙ্গলকাব্যে’র মতো বিশালাকার কাহিনিকাব্যও কোনোটা দশ-পনেরো, কোনোটা ত্রিশ দিন-রাতজুড়ে প্রকাশ্য আসরে পেশাদার গায়েনরা পরিবেশন করতেন। এজন্য এগুলোর অপর নাম ‘পাঁচালিকাব্য’। মনসাগীত ত্রিশ পালায় ত্রিশ দিনরাতব্যাপী গেয়ে শোনানো হতো। মুসলমান কবি রচিত রোমান্সধর্মী আখ্যান কাব্যগুলোও পিছিয়ে ছিল না। বিনোদনমূলক এসব কাব্য রাজ অথবা অমাত্য সভায় কিছু পাঠ, কিছু গান করে পরিবেশন করা হতো।

বিজ্ঞাপন

প্রাচীন যুগের বাংলাসাহিত্যের একমাত্র নিদর্শন ‘চর্যাপদ’। পদের সংখ্যা ৫১, কবির সংখ্যা ২৪, যা পদগুলোর ভনিতা থেকে জানা যায়। এটাও জানা যায় যে, পদগুলো গীত হতো। কেননা, পদশীর্ষে রাগ-রাগিণী ও তালের স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে। এরূপ রাগ-তালের সংখ্যা ১৯টি। এ হলো উচ্চ সমাজের সংগীতচর্চার চিত্র।

গ্রামসমাজে প্রচলিত লোকসংগীতের ইতিহাস কী? কত পদের গান ছিল? কারা কী উপলক্ষে গান করতেন? ওপরতলার সমাজে গান লিখতেন ও গাইতেন পুরুষরা। লোকসমাজে পুরুষ ও নারী উভয় শ্রেণি গান-গীতচর্চায় নিয়োজিত ছিলেন। পুরুষরা গেয়েছেন জারি-সারি, ভাটিয়ালি-ভাওয়াইয়া, মুর্শিদি-মারফতি, ঘাটু রয়ানি, অষ্টক আলকাপ, উরি মালসী, ঝুমুর বারাশে, গম্ভীরা, গাজন গাজির গীত, পটুয়াগীত জাগগান, কবিগান, পুতুলনাচের গান, মাইজভাণ্ডারের গান, মতুয়া গীত ইত্যাদি। এদিকে অন্তঃপুরে নারীরা গেয়েছেন নানা উপলক্ষে নানা ধরনের মেয়েলি গীত, ব্রতের গীত, ধানভানার গীত, ধামালি, মর্সিয়া, বারমাস্যা, বেদেনীর গীত ইত্যাদি। লোকসমাজে ‘গীতিকা’ নামে ছোট-বড় কাব্যকাহিনির প্রচলন ছিল, যা পেশাজীবী বয়াতিরা নেচে-গেয়ে পরিবেশন করতেন এবং এখনো করেন। ময়মনসিংহ গীতিকা, পূর্ববঙ্গ গীতিকা, গাজীর গীত এর দৃষ্টান্ত। লোকগীতিকার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এগুলো মৌলিক রচনা এবং অধিকাংশই সেকুলার। মোস্তফা জামান আব্বাসী শতাধিক লোকসংগীতের উল্লেখ করেন। আমি দুই খণ্ডে রচিত ‘বাংলা লোকসংগীতের ধারা’ গ্রন্থে নামসহ প্রায় ৭০ ধরনের লোকসংগীতের আলোচনা করেছি।

ওপরে যেসব সংগীতের কথা বলা হলো, সেসব একত্রে বিবেচনা করলে মনে হবে বাংলাদেশ যেন গান-গীত-সুরের ওপর ভাসছে। আর এখানেই ‘বাংলাদেশ গানের দেশ’, ‘বাঙালির গলায় গলায় গান’ বলার তাৎপর্য নিহিত রয়েছে।

‘ধান ভানতে শিবের গীত’ শেষ হলো। এবার মূল প্রসঙ্গের কথা বলি।

লোকজ ‘মুর্শিদি গান’ একটি জনপ্রিয় শাখা। এর সঙ্গে ‘মারফতি গান’ যুক্ত করলে এ ধারা গানের পরিধি ও মাহাত্ম্য অধিক বোধগম্য হয়। মারফতি গানে মহান আল্লাহর মাহাত্ম্য ও স্তুতি প্রকাশ করা হয়, মুর্শিদি গানে ব্যক্তি মুর্শিদের মহিরাকীর্তন ও গুণগান করা হয়। আরবি ‘মুর্শিদ’-এর শব্দমূল হলো ‘এরশাদ’; অর্থ আদেশ বা উপদেশ দেওয়া। যিনি ‘মুরিদ’ বা ভক্তকে আদেশ-নির্দেশ দেন, সাধন-ভজনের মাধ্যমে অধ্যাত্মপথে পরিচালনা করেন, তিনিই মুর্শিদ। এক কথায়, মুর্শিদ হলেন একজন আধ্যাত্মিক উপদেষ্টা ও পথপ্রদর্শক। বিশেষত আত্মমুখী মারফতি সাধনায় মুর্শিদের স্থান অতি উচ্চ।

মুর্শিদের বাংলা প্রতিশব্দ ‘গুরু’। নাথ, বাউল, কর্তাভজা, মতুয়া প্রভৃতি লোকায়ত সম্প্রদায়ে গুরু ছাড়া ধর্মসাধনা হয় না। সাধনায় সিদ্ধিলাভ করতে হলে ভক্তকে একজন গুরু ধরতে হয়। তার চরণতলে আশ্রয় নিয়ে এবং সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ করে তাকে ভজনা করতে হয়। হিন্দু তন্ত্রশাস্ত্রেও গুরুর অনুরূপ স্থান ও মর্যাদা রয়েছে।

ইসলামের মারফতি বা মরমিবাদ সাধনাধারায় মুর্শিদতত্ত্বের মূল কথা হলো মুর্শিদকে পেলে মওলাকে পাওয়া যায়। ‘মওলা’ হলেন পরমাত্মা বা পরমেশ্বর। এরূপ ধারণার বশবর্তী হয়ে একজন মরমিসাধক মুর্শিদ-মওলার মধ্যে ভেদজ্ঞান করেন না। ‘যিনি মুর্শিদ, তিনিই মওলা’Ñএই তত্ত্বে মুর্শিদের ওপর ঈশ্বরের গুণ আরোপ করা হয়। এরূপ ক্ষেত্রে মুর্শিদকে অবশ্যই ‘কামেল পুরুষ’ বা ‘পূর্ণমানব’ হতে হয়। পীরবাদে ‘পীর-মুরিদ’ এবং বাউলতত্ত্বে ‘গুরু-শিষ্য’ সম্পর্ক কম-বেশি অভিন্ন। লালন বলেন, ‘গুরুতত্ত্ব না জানিলে ভজন হবে না’। তার অপর উক্তি ‘গুরু তুমি পতিতপাবন পরম ঈশ্বর’। বাউলরা বিশ্বাস করেন, ‘মানুষ গুরু’র মাধ্যমে ‘পরম গুরু’র সন্ধান পাওয়া যায়।

বাংলার মানুষ বহুকাল আগে থেকে পীরবাদে বিশ্বাস করে আসছে। ভক্তের জন্য পীরের দোয়াদরুদ সরাসরি আল্লাহর দরবারে পৌঁছায়Ñএরূপ বিশ্বাস থেকে তারা পীরের নামে জিকির করে, মানত করে, আস্তানা জিয়ারত করে ও নজরানা দেয়। পীরের আত্মা অবিনশ্বর, মৃত্যুর পরও তিনি ভক্তের কল্যাণসাধন করেন। এজন্য মৃত পীরের মাজার দর্শন, মাজারে মানতদান, দোয়াদরুদ পাঠ ও প্রার্থনা ইত্যাদি প্রথা আজও চালু আছে। পীরের প্রতি মানুষের বিশ্বাস কত গভীর হতে পারে, তার অন্যতম নিদর্শন সিলেটের এক ‘পাগলা মসজিদে’র দানবাক্সে প্রাপ্ত কোটি কোটি টাকার অর্থ-অলংকার, যা ভক্তরা মানত করে দিয়ে থাকেন। এখানে সমাজের সব শ্রেণির মানুষ অংশগ্রহণ করে থাকে। পীরের দোয়া-অনুগ্রহ-আশীর্বাদ পাওয়ার আশায় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বও সিলেটের শাহ জালাল মাজারে ছুটে যান। অনুরূপভাবে শহর-গ্রাম-গঞ্জের গণ্যমান্যরাও ঢাকার শাহ আলী বাগদাদির, চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামির, শাহ আমানতুল্লাহর এবং রাজশাহীর শাহ মকদুম রুপোশের মাজার জিয়ারত করে থাকেন। জ্ঞাতসারে হোক বা অজ্ঞাতসারে হোক, মহান আল্লাহর প্রতি অসীম ভরসার পাশাপাশি পীরের প্রতি আধ্যাত্মিক আস্থার চেতনা আমাদের জাতীয় চরিত্রের বৈশিষ্ট্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বাংলার গ্রামগঞ্জে, পথেঘাটে, হাটেবাটে, আখড়া-আস্তানায় দয়াল গুরু-পীর-মুর্শিদ ও হক মওলার গুণকীর্তন করে গান শোনা যায়। বাউল, বৈরাগী, ফকির, নৌকার মাঝি, গরুর রাখাল, দূরযাত্রার পথিকÑসবাই দয়াল গুরুর চরণাশ্রয় কামনা করেন। ভবের সংসারে নিত্যই সংগ্রাম-সংঘাত, জ্বালা-যন্ত্রণা, হতাশা-বঞ্চনার অন্ত থাকে না। এই অসীম দুঃখের পাথারে যখন ভেসে চলে, তখন কেউ তাদের সহায়-সঙ্গী হয় না; জগৎ-জীবন শূন্যময় হয়ে ওঠে। এ সময় দৃশ্য ও অদৃশ্যলোকের দয়াল গুরু-মুর্শিদ-মওলা তাদের আশ্রয়দাতা, সান্ত্বনাদাতা হন। তাদের কাছে সর্বস্ব সমর্পণ করে ভক্ত গেয়ে ওঠেনÑ

ও মন, গুরু ভজ রে ওরে সোনার চাঁদ

দিল-দরিয়ায় উঠলে তুফা ন যে দিবে আসান

ও মন, গুরু ভজ রে।।

গুরু ভজ গুরু চিন গুরু কর সার

গুরু বিনা এই দুনিয়ায় বন্ধু নাইরে আর।

ও মন, গুরু ভজ রে।। …

ভাই বল বন্ধু বল কেউ তো কারো নয়

দিনেক দুই-চার দেখা-শুনা, পথের পরিচয়

কেবল পথের পরিচয়।

ও মন গুরু ভজ রে।।

গুরু-ভজনের এই গান আব্বাসউদ্দীনের কণ্ঠে রেকর্ডকৃত। তার কণ্ঠে রেকর্ডকৃত আরো অনেক মুর্শিদি গান রয়েছে। তার গাওয়া অপর একটি মুর্শিদি গান এরূপÑ

রে ঢেউ খ্যলে ঢেউ খ্যালে রে,

ঝিলমিল সায়রে ঢেউ খ্যালে রে।

এক ঢেউয়ে তলায় তরী/এক ঢেউয়ে ভাসে

চাঁদ সুরুজে বলে চাঁদ চেন সকলে।

ঢেউয়ের বাড়ি ঢেউয়ের ঘর/ ঢেউয়ের কারখানা

পার হবার পারবি না মন, মুর্শিদ বিনা

রে ঢেউ খ্যালে।।

মুর্শিদি গান ভক্তিভাবের গান। এ গানে স্বীয় মুর্শিদের প্রতি নিঃশর্ত ভক্তি নিবেদন, তার মাহাত্ম্যকীর্তন ও চরণাশ্রয় কামনা করা হয়। গুরু-বন্দনা, গুরুর চরণাশ্রয়, গুরুর কাছে আত্মনিবেদন, গুরুরূপ ইত্যাদি ভাবধারার মুর্শিদি গান রচিত হয়েছে। মুর্শিদি গানেরে মৌলিক আবেদন পারলৌকিক ভাব-রসে ভক্তজনের আত্মনিমগ্নতা। এ গানে জীবনের তুচ্ছতার ও অনিত্যতার কথা প্রকাশ পায় বলে করুণ ভাব-রস-সুর ধ্বনিত হয়। কবি জসীমউদ্‌দীন বলেন, ‘মুর্শিদ গানের বিশেষত্ব এই যে, অন্তর কেঁদে না উঠলে এ গান কেউ গাইতে পারে না। …টানা সুর ও কান্না এ গানের সার। ঈশ্বরের কাছেই হোক আর গুরুর কাছেই হোক, গ্রামবাংলার মর্মান্তিক দুঃখের কাহিনিতে ভরা মুর্শিদি গানগুলি।’ তিনি এ কথাও বলেন, ‘মুর্শিদি গানের সুর অন্যান্য লোকসংগীত থেকে পৃথক। সুরলোকের একটি নতুন জগৎ বিলম্বিত লয়ের সুরের সঙ্গে দ্রুত লয়ের সুর, পাশাপাশি বিন্যাসে একটি মনোরম লৌকিক সুর তৈরি হয়েছে এ গানে। …বিভিন্ন ধরনের কবিত্বপূর্ণ কথা ছড়িয়ে থাকে মুর্শিদি গানে।’ মুর্শিদি গানের মূল বাদ্যযন্ত্র সারিন্দা। একতারা ও দোতারা বাজিয়েও এ গান করা হয়; এর সঙ্গে খমক, খঞ্জরি ইত্যাদিও বাজানো হয়।

আমরা মুর্শিদের নাম স্মরণ ও চরণাশ্রয়ের একটি আবেগঘন গানের উল্লেখ করে আলোচনা শেষ করতে চাই। গানটি টাঙ্গাইল থেকে সংগৃহীত।

আমি মুর্শিদ নামের বাদাম তুলিয়া নাও ভাসাইলাম

ভব-দরিয়ার মাঝে।

ভব-দরিয়ার তুফান এত আগে জানতাম না যে।

ও দয়াল মুর্শিদ, তুমি পার করিয়া লও আমারে।।

আমি মুর্শিদ নামের বৈঠা ধরিয়া নাও ভাসাইলাম

অকূল সাগরে রে…।

সাগরের তরঙ্গ ভঙ্গি দেইকে পরাণ কান্দে রে।

ও দয়াল মুর্শিদ, তুমি পার করিয়া লও আমারে।।

মুর্শিদি, মারফতি, বাউল, ভাটিয়ালি, জারি, সারি, ভাওয়াইয়া প্রভৃতি লোকসংগীত তো শুধু ধর্ম, অধ্যাত্ম, বিনোদন ভাব-রসনিবৃত্তির বিষয় নয়, এসব গানের সঙ্গে আমাদের আত্মার যোগ রয়েছে, আমাদের অস্তিত্বের ও আত্মপরিচয়ের যোগ রয়েছে। অতীত ঐতিহ্যের কোঠায় ফেলে না রেখে এগুলোর চর্চা ধরে রাখতে হবে। এমনিতে বিদেশের নানা ধরনের লঘু চটকদার ব্যান্ডের গান বাজার দখল করছে। এগুলোর কথা ও সুর নতুন প্রজন্মকে মাতায়, নাচায়; হৃদয়ের যোগ কোথায়? অন্তরকে স্পর্শ করে, হাসায়, কাঁদায়, চিত্তকে পরিশুদ্ধ করে যেসব মাটি ও মানুষের গান, সেসব গানকে ও শিল্পীকে বাঁচিয়ে রাখার দায়িত্ব দেশের দায়িত্বশীল সুধীজনকে নিতে হবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

বিষয়:
এলাকার খবর
Loading...