আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

বিএসএফ, তোমাদের হাত শিশুদেরও রক্তে রঞ্জিত

তাসকিন ফাহমিনা

বিএসএফ, তোমাদের হাত শিশুদেরও রক্তে রঞ্জিত

সম্প্রতি ১৭ থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি ভারতের নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষীবাহিনী বিজিবি এবং ভারতের সীমান্ত রক্ষীবাহিনী বিএসএফের ৫৫তম সীমান্ত বৈঠকে অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে সীমান্ত হত্যার বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হয়।

সেই বৈঠকে বিএসএফের মহাপরিচালক দলজিৎ সিং চৌধুরী বলেন, সীমান্ত পেরিয়ে অনুপ্রবেশ যাতে না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে বিজিবিকে বারবার বলা হয়। কিন্তু তবু দীর্ঘ সীমান্তের কোথাও কোথাও দুষ্কৃতকারীরা সক্রিয় থাকে। বিএসএফ সতর্কভাবে তাদের মোকাবিলা করে। প্রাণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহার না করার নীতি থেকে বিএসএফ সরেনি বলে উল্লেখ করেন দলজিৎ সিং চৌধুরী। (সূত্র : প্রথম আলো, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫)

বিজ্ঞাপন

‘দুষ্কৃতকারী’, ‘চোরাকারবারি’ এই জাতীয় শব্দগুলো প্রায়ই ভারতের বিএসএফের উচ্চপর্যায় থেকে ব্যবহার করতে শোনা যায়। ২০২২ সালের জুলাই মাসে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত সম্মেলন শেষে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে তৎকালীন ভারতীয় বিএসএফ মহাপরিচালক পঙ্কজ কুমার সিং বিএসএফের গুলিতে নিহত সব বাংলাদেশিকে চোরাকারবারি বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেছিলেন, ‘সীমান্তে দিনে কোনো গুলির ঘটনা ঘটে না : গুলির সব ঘটনাই ঘটে রাতের আঁধারে। আর হতাহত সবাই চোরাকারবারি।’ (সময় নিউজ, ২১ জুলাই ২০২২)

অথচ সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের বিএসএফ গুলি করে হত্যা করে চলেছে অর্থাৎ সীমান্তে প্রাণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহার হয়েছে ব্যাপকভাবে। অধিকারের তথ্য অনুযায়ী ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে ৫৯৩ জনকে হত্যা করেছে ভারতীয় বিএসএফ। এই হত্যাকাণ্ডের শিকারদের মধ্যে ২৪ জনই শিশু-কিশোর, যাদের বয়স ১৮ বছরের নিচে। নিহতদের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ শিশুটি একটি মেয়েশিশু, যার বয়স ছিল মাত্র ১০ বছর। ভারতের শীর্ষপর্যায়ের মতানুযায়ী বিএসএফের হত্যাকাণ্ডের শিকার এই শিশুরাও কি ‘দুষ্কৃতকারী’? উল্লেখ্য, বিএসএফ কর্তৃক বাংলাদেশি একজন নাগরিকেরও হত্যার বিচার আজ পর্যন্ত হয়নি।

ফেলানীকে হত্যার কথা আমরা জানি। ১৪ বছরের ফেলানীকে ভারতীয় বিএসএফ কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীর অনন্তপুর সীমান্তে ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি নির্মমভাবে হত্যা করে। ফেলানীকে হত্যার পর দীর্ঘ প্রায় পাঁচ ঘণ্টা তার লাশ কাঁটাতারের ওপর ঝুলিয়ে রাখার পর লাশ নিয়ে যায় বিএসএফ। বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষের গুলিতে ফেলানীর মৃত্যু হলেও অমিয় ঘোষ এখনো খালাস পেয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। ফেলানী হত্যার বিচার হয়নি। কিন্তু হয়তো অনেকেই জানেন না ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিএসএফের হাতে ফেলানীসহ নিহত হয়েছে আরো ২৪ জন শিশু। নিহত শিশুদের মধ্যে ২১ জন বিএসএফের গুলিতে, দুজন নির্যাতনে এবং একজনকে বিএসএফ তাড়া করায় পানিতে ডুবে মারা যায়।

বিএসএফের গুলিতে হত্যার শিকার সর্বকনিষ্ঠ যে মেয়েশিশুটির কথা জানা যায়, তার নাম পারুল। বিএসএফের গুলিতে মৃত্যুর আগে তার বয়স ছিল মাত্র ১০ বছর। ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীর রত্নাই সীমান্তে ২০১০ সালের ১৪ মে পারুল গরু চরাতে গিয়েছিল। সে সময় পারুলকে গুলি করে হত্যা করে বিএসএফ। তেমনিভাবে ২০০৯ সালের ৬ নভেম্বর কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তে ১২ বছর বয়সি মঞ্জুয়ারা যখন তার ছাগল ধরে আনতে গিয়েছিল, তখন তাকেও বিএসএফ গুলি করে হত্যা করে বলে জানা যায়।

আবার ২১ জানুয়ারি ২০১০ সালে চুয়াডাঙ্গার দামুরহুদার ঠাকুরপুর সীমান্তে ১৫ বছরের হাসনাত হালশাম ইনুর কিছু হাঁস ভারতের সীমান্তের ভেতর চলে গেলে সে তার হাঁস আনতে সীমান্ত পাড়ি দিলে বিএসএফের সদস্যরা তাকে চরম নির্যাতন করে। এই নির্যাতনের কারণে হাসপাতালে থাকাবস্থায় ২০১০ সালের ২ ফেব্রুয়ারি তার মৃত্যু হয়। ২০০৯ সালের ১৩ মার্চ নওগাঁ সীমান্তের কাছে ১৩ বছর বয়সি আবদুর রাকিব তার মহিষ চরানোর সময় বিএসএফের গুলিতে মারা যায়। ২০১৪ সালের ৬ নভেম্বর লিটন মিয়া তার বন্ধুর সঙ্গে জোহরপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ভারতীয় সীমান্তের ভেতরে ঘাস কাটছিল।

ভারতের মালদা জেলার ২০ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের অধীনে পিরোজপুর ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা লিটনকে ধরে নির্মমভাবে নির্যাতন করে এবং পরে গুরুতর অবস্থায় সীমান্তের শূন্যরেখায় ফেলে রেখে যায়। নির্যাতনের কারণে সেদিনই লিটন মারা যায়। ২০২৩ সালের ৯ নভেম্বর সামিরুল ইসলাম রাজশাহীর সাহেবনগর দিয়ার মানিক চর ক্যাম্প এলাকায় বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঘাস কাটছিল। এ সময় বিএসএফের একটি প্যাট্রল টিম তাকে গুলি করে হত্যা করে।

২০১৬ সালের ১৪ মে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার নুতনপাড়া সীমান্তে ১৬ বছর বয়সি নবম শ্রেণির ছাত্র সিহাবউদ্দিন ভারত সীমান্তের ভেতরে ঢুকে আমগাছ থেকে আম পাড়ছিল। এ সময় বিএসএফের টুঙ্গি ক্যাম্পের সদস্যরা তাকে গুলি করে হত্যা করে। গরু-ছাগল চরানো, আমপাড়া, ঘাস কাটা কিংবা স্রেফ সীমান্ত পাড়ি দেওয়ার জন্য কি কাউকে হত্যা করা যায়? কিন্তু বিএসএফ তাই-ই করে চলেছে। শিশুদের ক্ষেত্রেও যে তারা ‘ট্রিগার হ্যাপি’!

আন্তর্জাতিক কোনো আইনে বা ভারতের পেনাল কোডে নিরস্ত্র নাগরিককে গুলি বা নির্যাতন করে হত্যা করার বিধান নেই। অথচ ভারতীয় বিএসএফ বাংলাদেশি প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকই শুধু নন, শিশুদেরও হত্যা করে চলেছে অবিরাম। অবৈধভাবে কোনো ব্যক্তি সীমান্ত অতিক্রম করলে তাকে গ্রেপ্তার করে বিচার করা যেতে পারে। কিন্তু ভারতীয় বিএসএফ সব আন্তর্জাতিক ও দ্বিপক্ষীয় নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে সীমান্তে হত্যাকাণ্ড, নির্যাতনসহ মানবাধিকার লঙ্ঘন করে চলেছে।

২০১৯ সালের ২৮ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল উপজেলার জাগোডাল এলাকায় কোকরাডা ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা ভারত থেকে ফেরার পথে ১৪ বছরের সোহেল রানা বাবুকে গুলি করলে সে মারা যায়। ১ অক্টোবর ২০২৩ সালে মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার লালারচাক সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়ার কাছে গেলে ১৪ বছর বয়সি ফেরদৌসকে বিএসএফ সদস্যরা গুলি করে। গুলিবিদ্ধ হওয়ার তিন দিন পর, ৪ অক্টোবর সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ফেরদৌস মারা যায়।

২০২৪ সালের ১৭ মার্চে ১৫ বছর বয়সি সাদ্দাম মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার শিকারিয়া সীমান্তে থেকে তার দুটি গরু আনতে গিয়েছিল। এ সময় বিএসএফের একটি প্যাট্রল টিম তাকে তাড়া করে গুলি করলে সাদ্দাম মারা যায়। অন্যদিকে অভিযোগ আছে, বিএসএফ সদস্যরা আইন লঙ্ঘন করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে আগ্রাসী মনোভাবের পরিচয় দেয় এবং সীমান্তের মানুষদের তারা ভয়ভীতি প্রদর্শন করে।

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত ৪০৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ। এটি পৃথিবীর পঞ্চম বৃহত্তম স্থলসীমান্ত। আসাম, ত্রিপুরা, মিজোরাম, মেঘালয় আর পশ্চিমবঙ্গ অর্থাৎ ভারতের পাঁচটি রাজ্য এ সীমারেখায় রয়েছে। বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে একই বাড়ির কিছু অংশ বাংলাদেশে আর কিছু অংশ ভারতে পড়েছে-সীমান্তে এমনও দেখা যায়।

আত্মীয়তার প্রয়োজনেও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়াও সীমান্তের মানুষ এপার-ওপার করে। ২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর ১৬ বছর বয়সি স্বর্ণা দাস তার মায়ের সঙ্গে মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার লালারচাক সীমান্ত পার হয়ে ত্রিপুরায় বসবাসরত তার বড় ভাইয়ের কাছে যেতে চেয়েছিল। সে সময় বিএসএফ সদস্যরা তাকে গুলি করে হত্যা করে।

ভারতের মানবাধিকার সংগঠন মানবাধিকার সুরক্ষা মঞ্চের (মাসুম) মতে, সীমান্ত দিয়ে যে গরু চোরাচালান হয় এবং তথাকথিত চোরাচালানিদের হত্যা করা হয়, সেসব গরু ভারতের অভ্যন্তরে আরো অনেকদূর থেকে এমনকি অন্যান্য রাজ্য থেকে এনে জড়ো করা হয় সীমান্তে। তাই প্রশ্ন হলো বিএসএফসহ ভারতের অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সম্পৃক্ততা না থাকলে এ গরুগুলো কীভাবে সীমান্তে আসে? কেউ অবৈধভাবে সীমান্ত পারাপার করলে তাকে গ্রেপ্তার না করে বিএসএফ প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করেই চলেছে।

কোনো ধরনের উসকানি ছাড়া ২০০৯ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরার ঘোনা সীমান্তে ১৬ বছর বয়সি মিলন মিয়াকে বিএসএফ গুলি করে হত্যা করে। ভারতীয় গরু আনার অভিযোগে ২০১১ সালের ১৮ এপ্রিল সাতক্ষীরার গাজীপুর সীমান্তে ১৫ বছর বয়সি রেকাতুলকে এবং ২০১২ সালের ২ জুলাই পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া সীমান্তে ১৭ বছরের মোহাম্মদ রতনকে গুলি করে হত্যা করে বিএসএফ।

২০১২ সালের ৮ অক্টোবর রাজশাহীর পবা উপজেলার চর মাজারদিয়ার সীমান্তে ভারত থেকে বাংলাদেশে ফেরার পথে ১৬ বছরের সুজন আলীকে বিএসএফ গুলি করে হত্যা করে। ২০১৫ সালের ২২ এপ্রিল ঝিনাইদহের মহেশপুরের খোসালপুর সীমান্তে ভারতের কুমারী ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা ১৬ বছরের হাসানকে গুলি করে হত্যা করে।

১৪ জানুয়ারি ২০১৭ সালে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ১৬ বছরের পলাশ ভারত থেকে গরু আনার সময় বিএসএফ সদস্যরা তাকে তাড়া করলে সে পদ্মা নদীতে পড়ে নিখোঁজ হয়ে যায়। এক সপ্তাহ পর পলাশের আত্মীয়রা নদী থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করেন। ২০ জুন ২০১৭ সালে ঝিনাইদহের মহেশপুরের খোসালপুর সীমান্তে সোহেল রানা (১৬) এবং হারুনুর রশীদ (১৭) ভারতে প্রবেশ করতে গেলে বিএসএফ সদস্যরা তাদের গুলি করে হত্যা করে।

ভারত থেকে গরু আনার সময় ২০১৯ সালের ২ এপ্রিল বিএসএফ সদস্যরা ঠাকুরগাঁওয়ের মাসুদপুর সীমান্তে ১৭ বছরের মিলনকে গুলি করে মারে। সীমান্তের কাছে যাওয়ায় বিএসএফ সদস্যরা ২০২২-এর ৭ সেপ্টেম্বর ১৭ বছর বয়সি মিনহাজুল ইসলামকে দিনাজপুরের দাইনুর সীমান্তে গুলি করে মারে। ২ সেপ্টেম্বর ২০২৪ সালে ১৫ বছর বয়সি জয়ন্ত কুমার সিনহা ভারতে অনুপ্রবেশকালে ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীর কান্তিভিটা সীমান্তে ডিঙ্গাপারা বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা গুলি করলে জয়ন্ত গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায়।

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশ, চীন, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান মিয়ানমারের সীমান্ত রয়েছে। অন্য দেশগুলোর সীমান্তে ভারতীয় বিএসএফ কর্তৃক হত্যাকাণ্ড প্রায় শূন্য। এটি এমন নয় যে অন্য দেশের সীমান্তের মানুষ সীমান্ত অতিক্রম করে না বা সেখানে চোরাচালান হয় না। অথচ ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ নির্বিচারে বাংলাদেশ সীমান্তে বাংলাদেশিদের গুলি করে হত্যা করেই চলেছে। বাংলাদেশের প্রতি ভারতীয় আগ্রাসন এবং বাংলাদেশের জনগণকে ভয় দেখানোর জন্য হয়তো ভারত এই নীতি গ্রহণ করেছে।

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার এবং পরে নির্বাচিত সরকারের উচিত হবে বিএসএফ কর্তৃক বাংলাদেশি প্রতিটি নাগরিককে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা, নির্যাতন এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের তথ্য ভারত সরকারের কাছে তুলে ধরা, জড়িত বিএসএফের সব সদস্যদের বিচারের সম্মুখীন করার জন্য দাবি তোলা এবং ভিকটিম/পরিবারগুলোর জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করা। এ ছাড়া মানবাধিকারকর্মী, মিডিয়ার দায়িত্ব হলো জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বিএসএফের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়গুলো তুলে ধরা এবং আন্তর্জাতিক আদালতে বিচার চাওয়া।

চব্বিশটি শিশুর রক্তে রঞ্জিত সীমান্তের মাটি, ঘাস, ধূলিকণার সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে রয়েছে সুষ্ঠু বিচারের জন্য।

লেখক : মানবাধিকার কর্মী

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন