আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

আইনের শাসন ও বিচারব্যবস্থা

ব্যারিস্টার হামিদ আজাদ

আইনের শাসন ও বিচারব্যবস্থা

একটি দেশের টেকসই গণতন্ত্র, স্থিতিশীল অর্থনীতি, জাতীয় সমৃদ্ধি, সামাজিক সম্প্রীতি এবং শান্তিশৃঙ্খলানির্ভর করে সে দেশে কতটুকু আইনের শাসন কার্যকর আছে তার ওপর। বিচার, বিচারক এবং বিচারব্যবস্থা-এই তিনটি হচ্ছে আইনের শাসনের মূল ভিত্তি। আইনের শাসন সম্পর্কে শাসক ও শাসিতের স্বচ্ছ এবং সঠিক জ্ঞান এবং বুঝ আইনের শাসনের কার্যকারিতার জন্য অপরিহার্য উপাদান।

বিজ্ঞাপন

যে দেশে বা সমাজে আইনের শাসন নেই, সে সমাজে দুর্বৃত্তের শাসন কায়েম হয়। ফলে সমাজে অসৎ, লম্পট, সন্ত্রাসী, স্বৈরাচারী, জালিম, দুর্নীতিবাজ ও দেশদ্রোহীদের প্রাধান্য প্রতিষ্ঠিত হয়। তারা ধরাকে সরাজ্ঞান করে, সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে অন্যায়, জুলুম, দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। ফলে মিথ্যাচার, দুর্নীতি, জুলুম, নির্যাতন, নিপীড়ন ও সৎলোকের অসহায়ত্ব সমাজের স্বাভাবিক জীবনাচারে পরিণত হয়। অপরাধী এবং নীতিহীন লোক বিচারক হন, স্বৈরাচারী ও দুর্নীতিবাজদের লালন এবং নিরাপত্তাবিধান হয় বিচারের নীতি। বিচারালয় হয় অসৎ, দুর্নীতিবাজ ও সন্ত্রাসীদের লালন কেন্দ্র, বিচারব্যবস্থা হয় স্বৈরাচার এবং দুর্বৃত্তদের অপকর্মের হাতিয়ার আর দুষ্টের লালন ও শিষ্টের দমন হয় বিচারব্যবস্থার অন্যতম প্রধাননীতি।

এ অবস্থা দীর্ঘদিন চলতে থাকলে সমাজে অন্ধকার তীব্রতর হতে থাকে। নিষ্পেষিতদের হতাশা প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের বারুদে রূপান্তরিত হয়, যে বারুদ অগ্নিশিখা হয়ে জালিম শাসকের পতন ঘটায়। বাংলাদেশে ১৭ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট ২০২৪ পর্যন্ত যা হয়েছে, তা তারই বাস্তব উদাহরণ।

বিপ্লবীদের মনে রাখতে হবে, স্বৈরাচারের পতন হয়েছে কিন্তু বিপ্লব এখনো সফল হয়নি। বিপ্লব সেদিনই সফল হবে, যেদিন দেশের সর্বত্র আইনের শাসন কায়েম হবে, মানবীয় মূল্যবোধ উজ্জীবিত হবে এবং স্বৈরাচারী শক্তি রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরে আসার সব পথ রুদ্ধ হবে। জাতীয় জীবনের সব ক্ষেত্রে সত্যিকারের আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই তা নিশ্চিত করা সম্ভব হতে পারে।

আইনের শাসন মানে কোনো ব্যক্তি বা দলের মর্জিতে নয়, আইনের ভিত্তিতেই দেশ এবং দেশের প্রতিটি অঙ্গ এবং নাগরিক পরিচালিত হবে। দেশের শাসক, শাসিত এবং শাসনকাজে নিয়োজিত প্রতিটি প্রতিষ্ঠান আইনের কাছে দায়বদ্ধ থাকবে। আইনের প্রতি রাষ্ট্রের প্রতিটি অঙ্গ এবং জনগণ শ্রদ্ধাশীল থাকবে। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। প্রত্যেক ব্যক্তি বা নাগরিক, তার সামাজিক বা রাজনৈতিক অবস্থান যাই হোক না কেন, তিনি দেশে প্রচলিত আইনের আওতায় থাকবেন। আইন প্রয়োগকারী যেমন আইনের বাস্তবায়নে কারো চাপের মুখোমুখি হওয়ার ভয় করবে না, তেমনি আইনগত অধিকার ভোগ করার ক্ষেত্রে কোনোপ্রকার বঞ্চনার শিকার হওয়ার আশঙ্কা করবে না।

আইনের শাসনের বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে জবাবদিহি, স্বচ্ছতা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, মানবাধিকারের নিশ্চয়তা বিধান এবং সংবিধান ও মানবিক-নৈতিক মূল্যবোধের সংরক্ষণ করা অপরিহার্য। সরকারি প্রতিটি বিভাগ আইনের কাছে জবাবদিহির অনুভূতি নিয়ে আইনের চৌহদ্দির মধ্য থেকেই কাজ করবে। রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক অবস্থান নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি মানুষ একজন নাগরিক হিসেবে ন্যায়বিচার ও সমান অধিকার ভোগ করবেন। আইনের বিধান রচনা ও প্রয়োগে পূর্ণ স্বচ্ছতা থাকবে। আইন ও আইনের প্রয়োগ সম্পর্কে প্রতিটি নাগরিককে পূর্ণ অবহিত করার রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা থাকবে। বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করবে এবং বিচারক ও বিচার কার্যের ওপর শাসন বিভাগের কোনো কর্তৃত্ব থাকবে না।

আদালত ভয়ভীতি ছাড়া ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে। ধনী-গরিব নির্বিশেষে রাষ্ট্রের সব নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানের আইনগত সহায়তা এবং ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকারের নিশ্চয়তা থাকবে। রাষ্ট্র প্রত্যেক নাগরিকের মৌলিক মানবাধিকারের নিশ্চয়তা বিধান করবে। প্রত্যেক নাগরিক নির্ভয়ে তার ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও বাকস্বাধীনতা ভোগ করতে করতে কোনো বাধার সম্মুখীন হবেন না। দেশের সংবিধান এবং মানবিক ও নৈতিক মূল্যবোধের সংরক্ষণ হবে আইনের অন্যতম লক্ষ্য।

আইনের শাসন হচ্ছে একটি স্বচ্ছ, শান্তিপূর্ণ, ন্যায়ভিত্তিক ও গতিশীল সমাজের মূল ভিত্তি। আইনের শাসন একটি দেশ ও জাতিকে উত্তরোত্তর উন্নতির দিকে নিয়ে যেতে সহায়তা করে। যে দেশ বা সমাজে আইনের শাসন নেই, সে দেশ বা সমাজে শান্তি ও স্থিতিশীলতা আশা করা যায় না। যেখানে আইনের শাসন নেই, সেখানে জুলুম ও স্বৈরাচার মাথাচড়া দিয়ে ওঠে। আইনের শাসনের মূল উপাদান হচ্ছে বিচার, বিচারক এবং বিচারব্যবস্থা। এই তিনটি উপাদান যদি সঠিকভাবে, স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করে, তাহলেই দেশে আইনের শাসন কায়েম হবে।

বিচার হচ্ছে ন্যায় ও সত্যের মাপকাঠি। অন্য কথায় বলা যায়, কোনটা ন্যায়, কোনটা অন্যায়, কোনটা শাসন, কোনটা অপশাসন বা জুলুম তা নির্ধারণের মাপকাঠি হচ্ছে বিচার। বিচার ইনসাফ বা ন্যায়নিষ্ঠতা অর্থেও ব্যবহার হয়। আইনের শাসনের প্রধান উপাদান হচ্ছে ন্যায়বিচার। বিচারে নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা বিচারের প্রতি মানুষের আস্থা সৃষ্টির অন্যতম পূর্বশর্ত। বিচার যদি পক্ষপাতদুষ্ট ও অস্বচ্ছ হয়, তাহলে বিচারের প্রতি মানুষের আস্থা আসবে না কখনোই। ফলে মানুষ, বিশেষত অপরাধীরা আইন বা বিচারের তোয়াক্কা করবে না, জুলুম ও অপরাধপ্রবণতা বাড়বে এবং আইনের শাসন কখনো প্রতিষ্ঠিত হবে না। এ জন্য মহান আল্লাহ সামাজিক শান্তির উৎস হিসেবে সুবিচার প্রতিষ্ঠার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিলেন এবং সুবিচারকারীর প্রতি তার ভালোবাসার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

মহান আল্লাহ বলেন, ‘তাদের মধ্যে ইনসাফের সঙ্গে ফয়সালা করো আর সুবিচার করো; আল্লাহ সুবিচারকারীদের ভালোবাসেন।’ [সুরা হুজুরাত, ৯] অন্যদিকে অন্যায় তথা অবিচার না করার তাগিদ দিয়ে অন্যায়কে বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে অভিহিত করেছেন। এ সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা ন্যায়সংগতভাবে মাপো ও ওজন করো, লোকদের তাদের প্রাপ্য বস্তু কম দিও না এবং জমিনে বিপর্যয় সৃষ্টি করে বেড়িও না।’ [সুরা হুদ, ৮৫) অতএব, বিপর্যয়মুক্ত ও শান্তিময় একটি সমাজ কায়েমের জন্য বিচারের ক্ষেত্রে ন্যায়নিষ্ঠতার নিশ্চয়তা বিধান অপরিহার্য।

বিচারক হচ্ছেন আইনের শাসনের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। কোনো আদালতের বিচারক যদি ন্যায়নিষ্ঠ, সৎ, যোগ্য, প্রজ্ঞাবান, মুত্তাকি তথা খোদাভীরু এবং মানবিক মূল্যবোধে উজ্জীবিত হন, তাহলে সেই আদালত থেকে ন্যায়বিচার আশা করা যায়। অন্যদিকে কোনো বিচারক যদি অসৎ, লোভী, নৈতিকতাহীন, অদক্ষ ও দুর্নীতিবাজ হন, তাহলে সেই আদালত থেকে কখনো ন্যায়বিচার তথা ইনসাফ আশা করা যায় না। আর যে সমাজ ইনসাফ থেকে বঞ্চিত হয়, সে সমাজে কখনো শান্তি এবং আইনের শাসন আশা করা যায় না।

এ জন্য যেকোনো সমাজে বিচারকের বিশেষ মর্যাদা নিশ্চিত করা হয়েছে। ইসলাম ন্যায়নিষ্ঠ বিচারকের অনন্য মর্যাদা দান করেছে। কেননা ন্যায়নিষ্ঠ বিচারক সমাজে অবিচারের পরিবর্তে সুবিচার, অপরাধের পরিবর্তে শৃঙ্খলা, অন্যায়ের পরিবর্তে ন্যায়, মন্দের পরিবর্তে ভালো প্রতিষ্ঠার কাজে নিয়োজিত। একজন ন্যায়নিষ্ঠ বিচারক ভুল করলেও তার সততা ও আন্তরিক চেষ্টার বদৌলতে প্রতিদান পাওয়ার যোগ্য। রাসুলুল্লাহ (সা.) ন্যায় অনুসন্ধানী বিচারকের জন্য ভুল ও সঠিক উভয় সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে প্রতিদান ঘোষণা করেছেন।

বিচারকাজ নবী-রাসুলদের নবুওয়াতি দায়িত্বের অংশ ছিল। পবিত্র কোরআনের একাধিক আয়াত থেকে নবী-রাসুলদের বিচারকাজে আত্মনিয়োগের প্রমাণ পাওয়া যায়। যেমনÑআল্লাহ বলেন, ‘হে দাউদ! নিশ্চয়ই আমি তোমাকে পৃথিবীতে প্রতিনিধি নিযুক্ত করেছি। সুতরাং তুমি মানুষের মধ্যে যথাযথভাবে বিচার করো।’ (সুরা : সোয়াদ, আয়াত : ২৬) শুধু তাই নয়, ন্যায়নিষ্ঠ বিচারকদের প্রতি আল্লাহ তার ভালোবাসার ঘোষণা দিয়েছেন। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘যখন তুমি বিচার করো, তখন তাদের মধ্যে ন্যায়ের সঙ্গে ফায়সালা করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়নিষ্ঠদের ভালোবাসেন।’ (সুরা মায়েদা, আয়াত : ৫)

তাই আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে বিচারক নিয়োগ ও ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা এবং বিচারকের মৌলিক যোগ্যতা ও দক্ষতা নিশ্চিত করা জরুরি। বিচারক নিয়োগকালে তার সততা, নিরপেক্ষতা, বুদ্ধিমত্তা, সাহস ও ব্যক্তিত্ব, পেশাদারিত্ব, বিচারকসুলভ মনোভাব, আইনের সম্যক জ্ঞান ও প্রজ্ঞা, বোঝা ও বোঝানোর দক্ষতা, শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা এবং জবাবদিহির অনুভূতির মতো মৌলিক গুণাবলির ব্যাপারে আপসহীন হতে হবে।

যিনি বিচারক হবেন তাকে সততার পরীক্ষায় প্রশ্নহীনভাবে উত্তীর্ণ হতে হবে। বিচারককে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ মনের অধিকারী হতে হবে। তিনি যেন ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের দ্বারা প্রভাবিত না হয়ে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে বিচার করেন, তার নিশ্চয়তা বিধান করতে হবে।

একজন বিচারকের জন্য বিচারকসুলভ মনোভাব থাকা খুবই জরুরি। তিনি কখনোই মেজাজি হলে চলবে না। তাই বিচারক নিয়োগকালে ব্যক্তি সব অবস্থায় মামলার সবপক্ষের সঙ্গে শান্ত মেজাজ বজায় রেখে বিচারকাজ করার যোগ্যতা রাখেন কি নাÑতা নিশ্চিত করা অপরিহার্য।

একজন বিচারকের মামলার সমসাময়িক পরিবেশ পরিস্থিতি অনুধাবন করার মতো বুদ্ধিবৃত্তিক যোগ্যতা থাকা জরুরি। তাকে প্রেক্ষাপটের ভিন্নতা যাচাই করে আইনের সঠিক প্রয়োগের মাধ্যমে যথাযথ সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা থাকতে হবে, যা বিচারক নিয়োগকালে অবশ্যই বিবেচনায় আনতে হবে।

আইন ও তার নীতি এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগ সম্পর্কে সঠিক জ্ঞানের অধিকারী হওয়া একজন বিচারকের অপরিহার্য গুণ। এ জন্য বিচারক নিয়োগকালে আইন সম্পর্কে তার জ্ঞানের পরিধি এবং জ্ঞানার্জনের প্রতি তার আগ্রহ আছে কি না, তা নিয়োগকালেই নিশ্চিত করতে হবে। নিয়োগের পর যথাযথ প্রশিক্ষণ নেওয়ার জন্য প্রস্তুত আছে কি না, তাও যাচাই করতে হবে।

একজন বিচারপতিকে জালিমের বিরুদ্ধে ও মজলুমের পক্ষে রায় দিতে হয়। শাসক জালিম হলে অনেক সময় শাসকের বিরুদ্ধেও রায় দিতে হয়। অদম্য সাহস না থাকলে এসব পরিস্থিতিতে ন্যায়বিচার করা দুরূহ। তাই বিচারক নিয়োগকালে ব্যক্তির সাহস ও ব্যক্তিত্বের প্রতি নজর দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

একজন বিচারকের বিচার্য বিষয় এবং মামলার পরিস্থিতি সঠিকভাবে অনুধাবন করে যথার্থ রায় দেওয়ার যোগ্যতা থাকা খুবই জরুরি। তাই নিয়োগকালে এ বিষয়ে নজর দিতে হবে। পেশাদারিত্ব আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল একজন বিচারকের অন্যতম গুণ বা বৈশিষ্ট্য। তাই বিচারক নিয়োগকালে পেশাদারিত্ব বজায় রাখার ক্ষেত্রে প্রার্থীর অঙ্গীকার কতটুকু মজবুত, তা যাচাই করা আবশ্যক।

যথাসময়ে বিচারকাজ সম্পাদনের শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা একজন বিচারকের অপরিহার্য গুণ। বিচারক নিয়োগকালে এ বিষয়ে নজর দেওয়া একান্ত আবশ্যক। জবাবদিহির অনুভূতি এবং পরকালের ভয় একজন বিচারককে ন্যায়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকতে সাহায্য করে। তাই বিচারক নিয়োগকালে এ গুণের প্রতিও বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।

ন্যায়বিচার ও ন্যায়পরায়ণ বিচারক নিয়োগ এবং ব্যবস্থাপনা নির্ভর করে একটি স্বচ্ছ, টেকসই ও কার্যকর বিচারব্যবস্থার ওপর। বিচারব্যবস্থা দুর্বল হলে সৎ ও দক্ষ বিচারক এবং সুষ্ঠু ও ন্যায়বিচার কামনা করা দিবা স্বপ্ন ছাড়া আর কিছু নয়। তাই একটি সভ্য, সুশৃঙ্খল, নিরাপদ ও গতিশীল সমাজের জন্য কার্যকর ও ন্যায়সংগত বিচারব্যবস্থা থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সবশেষে এরিস্টটলের সঙ্গে সুর মিলিয়ে বলতে চাই, ‘It is better for the law to rule than one of the citizens, ... even guardians of the laws obeying the laws’. আইনের শাসনই জনগণের শাসন নিশ্চিত করে স্বৈরতন্ত্রের উত্থান ঠেকাতে পারে।

লেখক : আইনজীবী, মানবাধিকার ও কমিউনিটি সংগঠক এবং উন্নয়ন পৃষ্ঠপোষক

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন