২২ জানুয়ারি ‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’-এ প্রকাশিত হয়েছে একটি প্রতিবেদন। সেই প্রতিবেদনের বিষয় আগামী নির্বাচন ও জামায়াতে ইসলামী। এ নিয়ে তোলপাড়। রাজনীতিতে চলছে আলোচনা, পর্যালোচনা, ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ; সমালোচনাও। প্রতিবেদনটির শিরোনাম: U.S. seeks to be ‘Friends’ with Bangladesh’s once banned Islamic party।
আসলে বাংলাদেশ আবার এক মোড়ের সামনে। এই মোড় শুধু নির্বাচনকেন্দ্রিক নয়। এই মোড় আদর্শ, কূটনীতি ও ক্ষমতার হিসাবের। দ্য ওয়াশিংটন পোস্টে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি সেই মোড়ের ভেতরের একটি জানালা খুলে দিয়েছে। জানালার ওপাশে দেখা যাচ্ছে—ওয়াশিংটন। আর জানালার এপাশে বাংলাদেশের সবচেয়ে ‘বিতর্কিত’, একই সঙ্গে শক্তিশালী ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক শক্তিগুলোর একটি—জামায়াতে ইসলামী। দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট বলছে, জামায়াতের সঙ্গে ‘বন্ধুত্ব’ চায় আমেরিকা। প্রতিবেদনটির মূল বাক্যটি অবাক করার মতো; কারো কাছে হয়তো অস্বস্তিকর। ‘আমরা চাই তারা আমাদের বন্ধু হোক’—এই বাক্যটি কোনো বিশ্লেষকের নয়, এটি একজন মার্কিন কূটনীতিকের। বন্ধুত্ব; কিন্তু শর্তহীন নয়। ভালোবাসার নয়, হিসাবের।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্র নতুন নয়। অনেকে বলছেন, কিন্তু এই প্রথম প্রকাশ্যভাবে, অডিও রেকর্ডিংয়ে, একজন কূটনীতিক এমন সরাসরি আগ্রহ দেখালেন একটি ইসলামপন্থি দলের প্রতি, যে দলটি অতীতে একাধিকবার নিষিদ্ধ হয়েছে, যে দলটির ভূমিকা ১৯৭১ সালে প্রশ্নবিদ্ধ, যে দলটি শরিয়া রাষ্ট্রের ধারণা থেকে পুরোপুরি সরে এসেছে—এমন প্রমাণ এখনো দেয়নি। তবু বাস্তবতা বদলেছে। শেখ হাসিনার পতনের পর রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ দমন-পীড়নের পর মাঠে ফিরেছে নিষিদ্ধ শক্তিগুলো। জামায়াত তার মধ্যে সবচেয়ে সংগঠিত। এই বাস্তবতা অস্বীকার করে না ওয়াশিংটন; বরং মেনে নেয় এবং তার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে চায়।
প্রতিবেদন বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিকরা মনে করছেন—১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জামায়াত তাদের ইতিহাসের সেরা ফল করতে পারে। এ ধারণা শুধু বিশ্লেষকদের নয়; এটি এখন কূটনৈতিক হিসাবের অংশ। এখানেই প্রশ্ন ওঠে—ওয়াশিংটনের এই আগ্রহ কি গণতন্ত্রের স্বার্থে? নাকি এটি আরেকটি ‘ম্যানেজড রিয়ালিটি’?
মার্কিন কূটনীতিকটি শরিয়া আইন নিয়ে উদ্বেগকে ‘খাটো’ করে দেখিয়েছেন। তিনি বলেছেন, জামায়াত পারবে না; কারণ প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র চাপ দেবে, শুল্ক বসাবে, রপ্তানি বন্ধ করবে, পোশাকশিল্পে আঘাত হানবে। এটি বন্ধুত্ব নয়; এটি শর্তাধীন আনুগত্য। বাংলাদেশের অর্থনীতি যে কতটা ভঙ্গুর—সে কথাও স্পষ্ট করে বলা হয়েছে। ২০ শতাংশ রপ্তানি নির্ভর করে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে। নারী শ্রমিক ছাড়া এই শিল্প অচল। এই জায়গাটিতেই চাপের লিভার। এই বক্তব্যে একটি নির্মম সত্য আছে; কিন্তু একটি ভয়ংকর অনুমানও আছে। ধরা হচ্ছে—অর্থনৈতিক ভয় দেখালেই রাজনৈতিক আদর্শ নিয়ন্ত্রণে থাকবে। ইতিহাস বলে, তা সবসময় হয় না।
জামায়াত গত এক দশকে নিজেদের ভাষা বদলেছে। দুর্নীতিবিরোধিতা, সুশাসন, জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা—শব্দগুলো আকর্ষণীয়। কিন্তু রাজনীতি শুধু শব্দে চলে না; চলে কাঠামোতে; চলে ক্ষমতায় গেলে কী করা হবে—সেই পরীক্ষায়।
জামায়াত বলছে, শরিয়া আইন চাপিয়ে দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই। নারীদের কাজের সময় কমানোর প্রস্তাব ‘প্রাথমিক পর্যায়ে’। এই ব্যাখ্যায় অনেকে বিতর্ক তুলেছেন। কারণ বাংলাদেশ শুধু একটি ভোটের লড়াইয়ে নেই; এটি একটি সামাজিক চুক্তির পরীক্ষায়। এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা দ্বিমুখী। একদিকে তারা বলছে—আমরা যে সরকারই আসুক, তার সঙ্গে কাজ করব; অন্যদিকে নির্দিষ্ট দলগুলোর সঙ্গে আগাম যোগাযোগ বাড়াচ্ছে। এটি বাস্তববাদ; কিন্তু এটি নিরপেক্ষতা নয়। আর এই বাস্তববাদ সবচেয়ে বেশি অস্বস্তি তৈরি করেছে দিল্লিতে।
ভারতের জন্য জামায়াত দীর্ঘদিনের আতঙ্ক—পাকিস্তান-সংযোগের ধারণা, ভারতের আঞ্চলিক নিরাপত্তার প্রশ্ন। ওয়াশিংটন পোস্ট বলছে, এই যোগাযোগ ভারত–যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে নতুন ফাটল তৈরি করতে পারে। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক এমনিতেই তলানিতে। শেখ হাসিনার দিল্লিতে অবস্থান, তাকে ফেরত না দেওয়া, ভিসা যুদ্ধ, পাল্টাপাল্টি কূটনৈতিক অসন্তোষ—কেউ কেউ বলছেন, এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ আবারও বড় শক্তিগুলোর টানাপোড়েনে পড়ছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র, একদিকে ভারত; পেছনে চীন। কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি থেকে যাচ্ছে উপেক্ষিত—বাংলাদেশের মানুষ কী চায়? এবারের নির্বাচনকে বলা হচ্ছে ‘নির্ণায়ক মোড়’। দশকের অস্থিরতার পর একটি গণতান্ত্রিক উত্তরণ। এই উত্তরণ তখনই অর্থবহ হবে, যখন নির্বাচন হবে শুধু অংশগ্রহণমূলক নয়—বিশ্বাসযোগ্য। সোজা কথা, জনগণ তার ভোটটা ঠিকমতো দিতে পারল কি না, এটাই আসল; এটাই মূল বিষয়।
অন্তর্বর্তী সরকারপ্রধান ড. ইউনূস আশ্বাস দিয়েছেন—নির্বাচন হবে সময়মতো, সুষ্ঠু হবে। কিন্তু সুষ্ঠু নির্বাচন শুধু ভোটের দিন নয়; এটি পরিবেশের প্রশ্ন, ভয়ের প্রশ্ন, সমান সুযোগের প্রশ্ন। অনেকে বলছেন, একটি দল যদি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির ইঙ্গিত আগেই পেয়ে যায়, আরেকটি দল যদি সন্দেহের চোখে দেখা হয়—তাহলে মাঠ সমান থাকে না। এ প্রশ্নও উঠেছে, ওয়াশিংটন কি টের পেয়েছে নির্বাচনে কী হতে পারে?
যুক্তরাষ্ট্র হয়তো জামায়াতকে ‘ম্যানেজ’ করতে চায়, ভারত হয়তো ঠেকাতে চায়; কিন্তু বাংলাদেশের গণতন্ত্র কোনো পরীক্ষাগার নয়। এই দেশের মানুষ বহুবার দেখেছে—বিদেশি কূটনীতি স্থানীয় বাস্তবতাকে কতটা জটিল করে তোলে। আজ আবার সেই ঝুঁকি সামনে। বন্ধুত্বের নামে শর্ত, গণতন্ত্রের নামে হিসাব, স্থিতিশীলতার নামে নীরব হস্তক্ষেপ—এই সবকিছুর ভেতর দিয়ে বাংলাদেশকে যেতে হবে। কিন্তু সিদ্ধান্তটা নিতে হবে এখানেই—ঢাকায়, ভোটকেন্দ্রে; ওয়াশিংটন বা দিল্লিতে নয়।
এই নির্বাচন শুধু সরকার গঠনের নয়। এটি ঠিক করবে—বাংলাদেশ নিজের ভবিষ্যৎ নিজে লেখে, নাকি অন্যের কূটনৈতিক নোটে সেই ভবিষ্যৎ খসড়া হয়। এই প্রশ্নের উত্তর এখনো খোলা। আর সে কারণেই এই নির্বাচন এত গুরুত্বপূর্ণ এবং এত বিপজ্জনক।
ভোটের মাঠ বদলেছে : স্ক্রিনে যে রাজনীতি, বাস্তবে তার ফল
বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে একই দিনে (২২ জানুয়ারি) কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। শিরোনাম: Bangladesh’s Latest Election Battlegrounds: TikTok, Facebook, YouTube। বাস্তবতাও সেরকমটি দাঁড়িয়েছে। আসলেই বাংলাদেশে নির্বাচনি যুদ্ধ আর শুধু মাঠে নয়; এখন যুদ্ধ স্ক্রিনে, মুঠোফোনে, অ্যালগরিদমে।
টিকটক, ফেসবুক, ইউটিউব—এই তিনটি প্ল্যাটফর্ম এখন রাজনৈতিক শক্তির নতুন মানচিত্র; যে মানচিত্রে পোস্টার নেই, মাইক নেই; আছে গান, মিম ও ১৫ সেকেন্ডের ভিডিও। এই পরিবর্তন হঠাৎ নয়; এটি সময়ের ফল এবং শাসনের ফল। দীর্ঘদিন ভোট ছিল অনুপস্থিত, মাঠ ছিল নিয়ন্ত্রিত, কণ্ঠ ছিল দমিত। সেই শূন্যতায় জন্ম নিয়েছে ডিজিটাল রাজনীতি। আল জাজিরার প্রতিবেদনটি সেই বাস্তবতারই দলিল।
একটি গান দিয়ে শুরু—‘নৌকা, ধানের শীষ আর লাঙলের দেখা শেষ; দাঁড়িপাল্লাই গড়বে বাংলাদেশ।’ গানটি গ্রামীণ ছন্দে; কিন্তু লক্ষ্য শহুরে তরুণ, বিশেষ করে জেন-জি। এই গান কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এটি একটি কৌশল এবং সেই কৌশলই বলে দেয়—কারা সময় বুঝছে, আর কারা পিছিয়ে। ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন; কিন্তু অনলাইন প্রচারণা শুরু হয়েছে অনেক আগেই। কারণ রাজনীতির ক্যালেন্ডার এখন ভোটের তারিখে থামে না; চলে ট্রেন্ডে।
এই নির্বাচনে মূল লড়াই দুই মেরুর। একদিকে বিএনপি; অন্যদিকে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট, যেখানে জাতীয় নাগরিক পার্টিও আছে। আওয়ামী লীগ নেই, নিষিদ্ধ। ফলে মাঠ খোলা এবং অনলাইন আরো খোলা। এই শূন্যতাই অনলাইনকে করে তুলেছে প্রধান যুদ্ধক্ষেত্র। কারণ বাংলাদেশের জনসংখ্যার প্রায় তিন-চতুর্থাংশ ইন্টারনেট ব্যবহারকারী। ফেসবুক ব্যবহারকারী ছয় কোটির বেশি, ইউটিউব পাঁচ কোটির কাছাকাছি। টিকটক বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে সবচেয়ে প্রভাবশালী। এই সংখ্যা রাজনীতিকে বদলে দেয়; কারণ রাজনীতি শেষ পর্যন্ত সংখ্যা দিয়েই চলে।
ভোটারের প্রায় ৪৪ শতাংশের বয়স ১৮ থেকে ৩৭। এরা অনেকেই প্রথমবার ভোট দেবে, অথবা আগের নির্বাচনে ভোট দিতে পারেনি। ২০১৪, ২০১৮, ২০২৪—এই তিনটি নির্বাচন তরুণদের চোখে ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। আসলে নির্বাচনই ছিল না; ছিল বিনা ভোটের নির্বাচন, রাতের নির্বাচন, ছিল আমি-ডামির নির্বাচন। সেই অভিজ্ঞতা ক্ষোভ তৈরি করেছে। এবার সেই ক্ষোভ রূপ নিচ্ছে অংশগ্রহণে। এই অংশগ্রহণের ভাষা বদলে গেছে। এখন তা স্লোগানে নয়, ভিডিওতে।
বিএনপি বুঝেছে—নীতিকে ছোট করতে হবে, সংক্ষিপ্ত করতে হবে, গ্রাফিকে আনতে হবে। ‘ফ্যামিলি কার্ড’, ‘ফার্মার কার্ড’, টাকা, সুবিধা—নির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি। এগুলো বড় বক্তৃতা নয়; এগুলো স্ক্রিন-উপযোগী বার্তা। দলটির MatchMyPolicy.com-এর মতো ওয়েবসাইট সেই চেষ্টারই অংশ। ভোটারকে শুধু শ্রোতা নয়, অংশগ্রহণকারী বানানোর চেষ্টা।
জামায়াতের কৌশল আলাদা। তারা বয়ান তৈরি করছে, আবেগকে সামনে আনছে—পরিচয় রাজনীতিতে। গান, মিম, ব্যঙ্গ এবং শক্তিশালী ‘আমরা বনাম তারা’ বয়ান। বিশ্লেষকেরা বলছেন, জামায়াতঘেঁষা কনটেন্টে বিএনপিকে আওয়ামী লীগের মতো দেখানোর প্রবণতা বেশি। এর সঙ্গে যোগ হচ্ছে ভারতবিরোধী ভাষা। এটি কেবল রাজনৈতিক নয়, এটি ভূরাজনৈতিক আবেগও ছুঁয়ে যায়।
তবে রাজনীতির লড়াইয়ে এই ধরনের কনটেন্ট সমস্যা তৈরি করে। কারণ মিম প্রশ্ন করে না, উসকে দেয়। ফ্যাক্ট-চেকিংয়ের জায়গা এখানে দুর্বল। ভাইরাল হওয়ার গতি যাচাইয়ের চেয়ে দ্রুত। এখানেই ঝুঁকি; কারণ অনলাইন রাজনীতি শুধু মত গড়ে না, বাস্তব রাজনীতিকে প্রভাবিত করে।
এ বছর বিষয়টি আরও জটিল। কারণ একই দিনে ভোট এবং গণভোট—‘জুলাই জাতীয় সনদ’। এটি শুধু একটি দলিল নয়; এটি রাষ্ট্র পুনর্গঠনের প্রস্তাব। ক্ষমতার ভারসাম্য, নির্বাচন সুরক্ষা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, কর্তৃত্ববাদ ঠেকানোর কাঠামো—এই সনদের পক্ষে সরকার নিজেই অনলাইনে প্রচারণা চালাচ্ছে। রাষ্ট্র এখন কনটেন্ট নির্মাতা। এটি নতুন বাস্তবতা; তবে বিতর্কিত নয়। কারণ বিপ্লবী সরকার নিরপেক্ষ হয় না, বিপ্লবের পক্ষে থাকে—এটাই স্বাভাবিক। ‘হ্যাঁ’ ভোট মানে বিপ্লবকে মানা, ’২৪-কে মান্যতা দেওয়া, নতুন বন্দোবস্ত, নতুন বাংলাদেশ। ‘না’ মানে এসবের বিপরীত অবস্থান। সরকারও বলছে—পুরোনো গণমাধ্যমের প্রভাব কমেছে; মানুষ এখন স্ক্রিনে।
এই যুক্তি পুরোপুরি ভুল নয়। কিন্তু এতে একটি ফাঁক আছে। অনলাইন দ্রুত, কিন্তু গভীর নয়। ১৫ সেকেন্ডে রাষ্ট্র সংস্কার বোঝানো যায় না, মিমে সংবিধান লেখা যায় না। তবু এই মাধ্যমেই এখন লড়াই। এই লড়াইয়ে এখনই জয়ী ঘোষণা করা যাবে না। কারণ অনলাইন জনপ্রিয়তা আর ভোটের ফল এক নয়। মাঠ এখনো গুরুত্বপূর্ণ; মানুষ এখনো মানুষকেই বিশ্বাস করে। কিন্তু অনলাইন ঠিক করে দেয়—মাঠে কী নিয়ে কথা হবে, কোন গান বাজবে, কোন রসিকতা চলবে, কোন অভিযোগ ছড়াবে। এই কারণেই এবারের নির্বাচন আলাদা।
এটি শুধু দল বনাম দল নয়; এটি মাধ্যম বনাম মাধ্যম, পুরোনো রাজনীতি বনাম নতুন ভাষা। যারা এই পরিবর্তন বুঝতে পারবে, তারা এগোবে; যারা অবহেলা করবে, তারা পিছিয়ে পড়বে। কিন্তু সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি থেকে যায়—এই ডিজিটাল রাজনীতি কি গণতন্ত্রকে শক্ত করবে? নাকি আরো বিভক্ত করবে? উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়। কারণ অ্যালগরিদমের জবাব ব্যালট দেয় না, দেয় মানুষ। আর সেই মানুষই ঠিক করবে—স্ক্রিনে যে রাজনীতি চলছে, তার ফল বাস্তবে কী হবে।
লেখক : সাবেক সাধারণ সম্পাদক, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

