আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

তারেক রহমানকেই রাজনীতির গতিপথ নির্ধারণ করতে হবে

গাজীউল হাসান খান

তারেক রহমানকেই রাজনীতির গতিপথ নির্ধারণ করতে হবে
গাজীউল হাসান খান

নিঃসন্দেহ বলা যায়, ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলের সামনে চ্যালেঞ্জ অনেক বেশি। প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও বিজ্ঞানভিত্তিক একুশ শতকের এ পর্যায়ে এসে ইহলোকিক এবং পারলৌকিক প্রেক্ষাপটে জাতীয় রাজনীতিতে জনসমক্ষে এনে হাজির করা কিংবা তাকে আম-জনতার কাছে সর্বতোভাবে গ্রহণযোগ্য করানোর কাজটি মোটেও সহজসাধ্য নয়। তার জন্য ব্যাপক তাত্ত্বিক, আধ্যাত্মিক ও সর্বোপরি যুগোপযোগী বাস্তবসম্মত পদক্ষেপের প্রয়োজন। জাতীয়ভাবে বাংলাদেশ এবং সর্বোপরি আন্তর্জাতিকভাবে বিশ্ব সে জন্য কতটুকু প্রস্তুত, তা নির্ণয় করা অবশ্যই একটি দুঃসাধ্য কাজ। কিন্তু তা জেনেও বিশ্বের দিকে ধর্মীয় স্কলাররা বসে নেই।

সার্বিক ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং রাজনীতিকে একটি কমন প্ল্যাটফর্ম থেকে তুলে ধরার প্রয়াস চলছে দীর্ঘদিন ধরে। এ ক্ষেত্রে সীমাহীন প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও এ বিষয়টি যে দৃশ্যমানভাবে অগ্রসর হচ্ছে না, তা নয়। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ কিংবা প্রতিষ্ঠানে এবং এমনকি ইউরোপ ও আমেরিকার বুদ্ধিবৃত্তিক বিভিন্ন মহলে মানুষের সার্বিক মুক্তির প্রশ্নে যে ধর্ম এবং রাজনীতির সমন্বয়ের প্রচেষ্টা চলছে না, বিষয়টি ঠিক তেমন নয়। এ ক্ষেত্রে বিশ্বের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিংবা রাজনৈতিক মহলে ইসলামি আদর্শ, দর্শন, অর্থনীতি, শরিয়াহভিত্তিক আইন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার নিরিখে যথেষ্ট গবেষণা চলমান রয়েছে এবং নিয়মিতভাবে বইপত্রও প্রকাশিত হচ্ছে। এখানে গবেষক, তাত্ত্বিক কিংবা স্কলারদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে বিশ্বব্যাপী মানবসমাজের সার্বিক মুক্তির প্রশ্নে পশ্চিমা লাগামহীন পুঁজিবাদী কিংবা সাম্রাজ্যবাদী রাজনীতির লাগাম টেনে ধরা এবং ধর্মীয় মূল্যবোধের ভিত্তিতে রাজনীতিকে ন্যায়নিষ্ঠ করা, যাতে দুর্নীতি, শোষণ-বঞ্চনা ও আর্থসামাজিক অপরাধপ্রবণতাকে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আনা যায়। ধর্মীয় মূল্যবোধ মানুষকে শুধু পারলৌকিক বিচার-আচার কিংবা কৃৎকর্মের জন্য শাস্তির ভয়ই দেখায় না, প্রকৃত অর্থে মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন আদর্শনিষ্ঠ মানুষ হতে সাহায্য করে। সে কারণে ভারত বিভক্তির আগেই উপমহাদেশে জামায়াতে ইসলামী নামে ১৯৪১ সালে একটি ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল, যার প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন সাইয়েদ আবুল আ’লা মওদুদী। ‘মুসলিম ব্রাদারহুডের’ আদর্শে একটি ইসলামি মূল্যবোধ ও পদ্ধতিগতভাবে শরিয়াহ আইনভিত্তিক ইসলামি সমাজ প্রতিষ্ঠা করাই উল্লিখিত দলের মূল্য লক্ষ্য ছিল।

বিজ্ঞাপন

১৯০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর ঢাকায় প্রতিষ্ঠা করা হয় ‘অল ইন্ডিয়া মুসলিম লীগ’ নামে মুসলিমদের জন্য একটি রাজনৈতিক দল। এ দলের মূল উদ্দেশ্য ছিল ভারতের মুসলিমদের জন্য একটি পৃথক স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা। অথচ এই নব প্রতিষ্ঠিত দলটিকে একটি ইসলাম ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল হিসেবে চিহ্নিত না করে একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল হিসেবেই বিবেচনা করা হয়েছিল। সর্বভারতীয় কংগ্রেস দলের বিপরীতে মুসলিম লীগ দল গঠন করা হয়েছিল মূলত ভারতের মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের জন্য পাকিস্তান নামে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে। যদিও শুরুতে বলা হয়েছিল, ‍মুসলিম লীগ কখনোই পাকিস্তানে পবিত্র কোরআন ও সুন্নাহর পরিপন্থী কোনো আইনপ্রণয়ন বা পাস করবে না। কিন্তু বাস্তবে তা কতটুকু পালন করা হয়েছিল, সেটি নিয়ে অবশ্যই বিতর্ক রয়েছে। তাছাড়া পূর্ব পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের ওপর পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর শোষণ-বঞ্চনা কোরআন-সুন্নাহভিত্তিক আদর্শ বা মূল্যবোধের অনুকূলে ছিল বলে অনেকেই মনে করেন না। বিশ্বের বিভিন্ন সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম দেশগুলোর বর্তমান শাসন পদ্ধতি বা সরকারগুলো না পরিপূর্ণভাবে গণতান্ত্রিক, না ইসলামিক মূল্যবোধের প্রয়োগকারী। তেমন একটি পরিস্থিতিতে ছাত্র-জনতার বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন এবং শেষ পর্যন্ত এক মহান গণঅভ্যুত্থানে পতন ঘটেছে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকারের। দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন শেখ হাসিনা ও তার বশংবদরা। স্বাধীনতা অর্জনের বিগত ৫৪ বছরে বাংলাদেশ দেখেছে অপশাসন ও শোষণ-বঞ্চনার এক নিদারুণ সময়। বিভিন্ন জরুরি অবস্থা, সামরিক শাসন ও একদলীয় শাসনসহ বিভিন্ন ফ্যাসিবাদী কর্মকাণ্ড। দেশ গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসন বলতে শেষ পর্যন্ত কিছুই অবশিষ্ট ছিল না। পর্বতপ্রমাণ দুর্নীতি, অর্থ পাচার, লুটপাট ও অপশাসনে বিগত ১৭ বছর নিমগ্ন ছিল শেখ হাসিনার তাঁবেদার সরকার। সে সময়টিতে দেশের সাধারণ মানুষ শুধু তাদের মৌলিক অধিকারগুলোই হারায়নি, দেশ অনেকটাই হারিয়ে ফেলেছিল তার স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব। বাংলাদেশ পরিণত হয়েছিল বিদেশের একটি করদরাজ্যে। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান এ দেশের অধিকারসচেতন সংগ্রামী মানুষকে এনে দিয়েছে আগের সে অধঃপতিত পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ লাভের একটি সুবর্ণ সুযোগ।

Tareque-Rahman

মানুষ যেমন চায় পরিপূর্ণভাবে তার গণতান্ত্রিক ও মানবাধিকার ফিরে পেতে, তেমনি চায় আইনের শাসন ও ধর্মীয় মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করতে। সে সুযোগ বারবার আসে না। সে কারণেই এ দেশের সাধারণ মানুষ চেয়েছিল কতগুলো মৌলিক সংস্কার। জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের একটি সফল বাস্তবায়ন দেখতে চেয়েছে এ দেশের বারবার প্রতারিত ও অধিকারবঞ্চিত সাধারণ মানুষ। তারা কূলের সন্নিকটে এসে এবার আর তরি ডোবাতে চায় না। সামনে ঘোষিত দেশের ত্রয়োদশ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে মানুষ যতটা আশাবাদী হয়েছিল, এখন ক্রমে ক্রমে তারা যেন আশাহত হচ্ছে বিএনপি ও জামায়াত এবং এমনকি জাতীয় নাগরিক পার্টির বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রশ্নে কিছু মতভেদ নিয়ে। এর একটি অন্যতম প্রধান ইস্যু হচ্ছে, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোট নিয়ে। জুলাই সনদে স্বাক্ষর করে কেউ গণভোট থেকে সরে যাক কিংবা সেটা নিয়ে বিভ্রান্তি অথবা মতবিরোধ সৃষ্টি করুক, সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ তো চায় না। কিন্তু না চাইলেও তেমন একটা পরিস্থিতি সৃষ্টির সুযোগ রয়েছে। সেটা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। নতুবা আসন্ন নির্বাচনে নির্বাচিত সরকার দীর্ঘস্থায়ী হবে না। যেকোনো একটি অজুহাতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে বিরাজমান বর্তমান শান্তিপূর্ণ অবস্থান বিঘ্নিত হতে পারে। বিদেশে পলাতক অপশক্তি সে সুযোগের সন্ধানে তৎপর রয়েছে।

গত ডিসেম্বর মাসটি ছিল বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য সময়। কারণ সে সময়ে ১৭ বছর রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকা প্রবাসজীবন থেকে দেশে প্রত্যাবর্তন করেন তারেক রহমান। অন্যদিকে আল্লাহর কাছে চলে যান দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। সমগ্র দেশ বেগম খালেদা জিয়ার শোকে মুহ্যমান হলেও আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচন অতি দ্রুত ঘনিয়ে আসছে। বেগম খালেদা জিয়া তার মৃত্যুর কিছুদিন আগে দেশে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা বলে গেছেন। জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক কর্মসূচি কিংবা দর্শনের প্রসঙ্গ টেনে বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, তার দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কোনো ধর্মীয় আদর্শ প্রতিষ্ঠার দল নয়। এটিকে একটি ধর্মনিরপেক্ষ দল বলে উল্লেখ না করলেও তিনি এটিকে একটি মধ্যমপন্থার গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল বলে উল্লেখ করেছেন। ধর্মীয় আদর্শ প্রতিষ্ঠার দল না হলেও কেউ যদি ধর্মীয় আদর্শ প্রতিষ্ঠাকল্পে কাজ করেন, তাহলে বিএনপি তার বিরোধিতা করবে না বলে জানিয়েছেন সদ্য প্রয়াত দেশনেত্রী। তাছাড়া বিএনপি নেতারা এ দলের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই একটি কথা স্পষ্ট করে বলে এসেছেন, ক্ষমতায় গেলে কখনো তারা পবিত্র কোরআন ও ‍সুন্নাহবিরোধী কোনো আইনপ্রণয়ন করবেন না। আলাদা প্ল্যাটফর্ম থেকে রাজনীতি করলেও বিএনপি নেতা তারেক রহমান বলেছেন, তারা দেশের স্বার্থে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন। এখানে আরেকটি বিষয় বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, বাংলাদেশের রাষ্ট্রযন্ত্র এবং আর্থসামাজিক ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কার আনার জন্য তারেক রহমান বহু আগেই বিএনপির পক্ষ থেকে একটি ৩১ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। সুতরাং, তথ্যাভিজ্ঞ মহলের ধারণা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে শেষ পর্যন্ত বিএনপির সঙ্গে জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টি কিংবা অন্য কারো চূড়ান্ত মতবিরোধের কোনো সম্ভাবনা নেই। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর তরুণ নেতা তারেক রহমান অতি দ্রুত দলীয় বিভিন্ন প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক কাজ শেষ করে নির্বাচন-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজে হাত দিচ্ছেন। বিএনপির বাইরে বিভিন্ন দল থেকে কয়েকজন অত্যন্ত জনপ্রিয় তরুণ নেতাকে তারেক জিয়ার নেতৃত্বাধীন জোট থেকে মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়টি দেশব্যাপী ইতোমধ্যে অনেক প্রশংসা কুড়িয়েছে। এ মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থীদের মধ্যে কয়েকটি ইসলামি দলের রাজনীতিকও রয়েছেন। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বিএনপির নির্বাচনি প্রচারণা কিংবা কর্মসূচি খুব একটা বাধাগ্রস্ত হয়নি। তারেক রহমানের সময়োচিত পদক্ষেপে বিভিন্ন প্রয়োজনীয় কর্মসূচি সুচারুভাবেই সম্পন্ন হচ্ছে বলে বিভিন্ন সূত্রে খবর পাওয়া গেছে। ইতোমধ্যে তারেককন্যা জাইমা রহমান দলের ভেতরে ও বাইরে অর্থাৎ দেশব্যাপী বিএনপির ভবিষ্যৎ রাজনীতি নিয়ে আশাবাদ সৃষ্টি করতে শুরু করেছেন।

এখন দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের কামনা হচ্ছে, বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সম্ভাব্য চাঁদাবাজি এবং জামায়াতের নেতাকর্মীদের বিভিন্ন রাজনৈতিক ফতোয়া দেওয়া বন্ধ করতে হবে। নির্বাচন কেন্দ্র করে কোনো ধর্মীয় সংগঠনের ফতোয়া জারি করা অত্যন্ত নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করবে বলে অনেকের ধারণা। নির্বাচনে বিভিন্ন আসন জয়ের জন্য কোনো ফতোয়ার প্রয়োজন নেই। সৎ, দেশপ্রেমিক এবং যোগ্য প্রার্থী আসন্ন নির্বাচনে ভালো কিছু আশা করতেই পারেন। কারণ সামনের নির্বাচনটি সুষ্ঠু ও অবাধ করার জন্য দেশের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক শক্তি অত্যন্ত তৎপর রয়েছে। তদুপরি রয়েছে আন্তর্জাতিক মহলের তীক্ষ্ণ দৃষ্টি। সুতরাং মনোনয়ন-বাণিজ্য, ভোট বেচাকেনা এবং অগণতান্ত্রিক পেশিশক্তির পদচারণায় সামনে খুব একটা ফলপ্রসূ হবে বলে মনে হয় না। তারেক রহমান ও তার পরিবার যেদিন ঢাকার উদ্দেশে লন্ডন ত্যাগ করেন, আমি সেদিন আমার হৃদযন্ত্রের সমস্যার কারণে কেন্দ্রীয় লন্ডনের একটি হাসপাতাল থেকে জরুরি চিকিৎসা নিয়ে বাসায় ফিরে আসি। বাংলাদেশের ঘোষিত সাধারণ নির্বাচনের সময় পর্যন্ত আমাকে হয়তো এই নির্দিষ্ট হাসপাতালটিতে যাওয়া-আসা করতেই হবে। তাতে ঢাকায় ফিরে নিজের ভোটটা দিতে পারব কি না জানি না, তবে লন্ডনসহ যুক্তরাজ্যপ্রবাসী বাংলাদেশিরা আগামী নির্বাচনে পোস্টাল ব্যালটের সুযোগ নেওয়ার ব্যাপারে অত্যন্ত আগ্রহী এবং তৎপর রয়েছেন। তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আকস্মিক মৃত্যু এবং আসন্ন নির্বাচন বাংলাদেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে একটি দৃশ্যমান পরিবর্তন এনেছে বলে মনে হচ্ছে। বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক ও আর্থসামাজিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রবাসীরা আগের তুলনায় এখন আরো অনেক বেশি সংবেদনশীল হয়ে উঠেছেন বলে মনে হচ্ছে। এতে ভারতে আশ্রয় নেওয়া আপাতত নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী এবং বাংলাদেশ নিয়ে ভারত সরকারের বিভিন্ন কার্যকলাপ অত্যন্ত বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। বেগম খালেদা জিয়ার আকস্মিক মৃত্যু, তার প্রতি আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনার বিভিন্ন অমানবিক আচরণ ও পরিশেষে তাদের অনির্দিষ্টকাল ভারতে অবস্থানকে কেন্দ্র করে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে একটি আওয়ামী লীগ এবং ভারতের মোদি সরকারবিরোধী মনোভাব কঠোর থেকে কঠোরতর হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে পরোক্ষভাবে বাংলাদেশের আওয়ামী সমর্থিত শিবিরে একটি পরিবর্তন আসতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন। আগামী সংসদ নির্বাচনের এখনো প্রায় এক মাস বাকি। এ সময়ের মধ্যে বাংলাদেশের শহর-নগর কিংবা গ্রামগঞ্জে অতীতের আওয়ামী সমর্থকদের অনেকে পক্ষ পরিবর্তন করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাতে তারেক রহমান ও তার নেতৃত্বাধীন বিএনপি প্রার্থীদের প্রতি সমর্থন আরো বাড়তে পারে এবং এর ফলে দীর্ঘ মেয়াদে বাংলাদেশে আবার আওয়ামী লীগের পুনর্গঠন বা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এত সহজ হবে বলে মনে হয় না।

ওপরে উল্লিখিত বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আসন্ন নির্বাচনে সম্ভাব্য সাফল্যের কারণে বিএনপির ভবিষ্যৎ শাসনকাল স্থিতিশীল ও শান্তিপূর্ণ হতে পারে। তবে তার অনেকখানি নির্ভর করছে সামনের নির্বাচিত সরকারটি ভারতের হিন্দুত্ববাদী মোদি সরকারকে কীভাবে সামাল দেবে, তার ওপর। তাঁবেদার আওয়ামী লীগ ছাড়া বাংলাদেশের কোনো দেশপ্রেমিক মানুষ ভারতের হিন্দুত্ববাদী মোদি সরকারকে বিশ্বাস করে না। তারেক রহমান সম্প্রতি তার এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, বর্তমান ভারত সরকার বিভিন্ন কারণে বাংলাদেশের জনগণের আস্থা হারিয়েছে, বিরাগভাজন হয়েছে। সেটি ঠিক করার দায়িত্বও ভারত সরকারেরই। এ কথাটি সবার আগে তারেক রহমানকেই গুরুত্বসহকারে উপলব্ধি করতে হবে।

লেখক : বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) সাবেক প্রধান সম্পাদক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক

gaziulhkhan@gmail.com

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন