উনিশ শতকের শেষ দিক থেকে ইউরোপে ইহুদিবিদ্বেষ তীব্র আকার ধারণ করতে থাকে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে অস্ট্রিয়ান-ইহুদি সাংবাদিক থিওডোর হার্জল ইহুদিদের জন্য জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক আন্দোলন সূচনা করেন। এ আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল ইহুদিদের জন্য ফিলিস্তিনে একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে তারা তাদের ধর্ম পালন ও নিজস্ব সংস্কৃতি রক্ষা করতে পারবে। ইহুদিদের জন্য ধর্মভিত্তিক জাতিরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার এই আন্দোলনই জায়নবাদ নামে পরিচিত। এই জায়নবাদের চূড়ান্ত পরিণতি পায় ১৯৪৮ সালে ফিলিস্তিন ভূখণ্ড থেকে মুসলমানদের তাড়িয়ে দিয়ে গায়ের জোরে ইসরাইল নামক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে।
বিশ্বে বর্তমানে যেসব স্বাধীন রাষ্ট্র রয়েছে, দু-একটি ব্যতিক্রম ছাড়া সেসব রাষ্ট্রের রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে ওঠার যে ইতিহাস ও বাস্তবতা, এর সঙ্গে মিল নেই বর্তমান ইসরাইল নামক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার । যেহেতু গায়ের জোরে এই রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে, তাই আজ পর্যন্ত শক্তির জোরেই একে টিকিয়ে রাখা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা শক্তির প্রত্যক্ষ সহযোগিতা ছাড়া বর্ণবাদী, গণহত্যাকারী এই রাষ্ট্রের অস্তিত্ব কল্পনা করা যায় না। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত ক্রমাগতভাবে শক্তির জোরে চলছে এ রাষ্ট্রের সীমানার সম্প্রসারণ। ইসরাইল নামক রাষ্ট্রের ইতিহাস তাই নিরন্তর ফিলিস্তিনি মুসলমানদের হত্যা, গণহত্যা, দখল ও নির্মূলের ইতিহাস।
মূল ফিলিস্তিনের যে অংশ বর্তমানে ইসরাইল রাষ্ট্রের বাইরে, তার নাম গাজা ও পশ্চিম তীর। তবে ১৯৬৭ সাল থেকে পশ্চিম তীর ইসরাইলের দখলে। ২০২৩ সালে শুরু হওয়া যুদ্ধের পর গাজাকেও ধ্বংসস্তূপ বানিয়ে নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে ইসরাইল। পশ্চিম তীরকে এখনো সাংবিধানিকভাবে ইসরাইল রাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি, তবে ১৯৬৭ সালে দখলে নেওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় আট লাখ ইহুদির জন্য সেখানে বসতি স্থাপন করা হয়েছে। এই বসতি স্থাপন করা হয়েছে ফিলিস্তিনিদের জমি ও বাড়িঘর দখল করে এবং তাদের বসতভিটা থেকে অস্ত্রের মুখে জোর করে উচ্ছেদ করে। যুগ যুগ ধরে চলা বিরামহীন এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গেলেই ইসরাইলের আর্মি, পুলিশ ও অস্ত্রধারী সেটলাররা হত্যা করে ফিলিস্তিনিদের। ফিলিস্তিন নামে যে রাষ্ট্রের কথা শোনা যায়, সেটি হলো এই পশ্চিম তীর। নামেমাত্র এই রাষ্ট্রে ফিলিস্তিনিদের নেই কোনো নিজস্ব আর্মি । ১৯৬৭ সাল থেকে সেখানে মোতায়েন রয়েছে ইসরাইলি আর্মি, ইসরাইল পুলিশসহ বিভিন্ন বাহিনী। তারাই নিয়ন্ত্রণ করে পশ্চিম তীর। সেখানে রয়েছে ইসরাইল আর্মি পরিচালিত অনেক কারাগার । ফিলিস্তিনিদের যখন-তখন গ্রেপ্তার করে বছরের পর বছর ধরে সেসব বন্দিশালায় আটক রেখে চালানো হয় বর্বর নির্যাতন। এমনকি অনেক নারীকেও সেখানে বন্দি করে পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়। ইসরাইলের নির্যাতনে ও বিনা চিকিৎসায় এসব কারাগারে নিহত হয়েছেন অনেক ফিলিস্তিনি। এখনো পশ্চিম তীরের এসব ইসরাইলি কারাগারে চারশ শিশুসহ অনেক নারী ও কয়েক হাজার পুরুষ বন্দি রয়েছেন । এই হলো নামেমাত্র ফিলিস্তিন রাষ্ট্র বা পশ্চিম তীরের সামান্য কয়েকটি চিত্র।
যেহেতু ইসরাইল রাষ্ট্রটি গায়ের জোরে সৃষ্ট এবং এটি একটি ধর্মভিত্তিক জাতিরাষ্ট্র, তাই একে টিকিয়ে রাখার জন্য প্রতিনিয়ত শক্তি প্রয়োগের পাশাপাশি আরেকটি কাজ করছে তারা। সেটি হলো, ফিলিস্তিনি, আরব ও সামগ্রিকভাবে মুসলমানদের বিরুদ্ধে সদা তীব্র ঘৃণা উৎপাদন এবং ঘৃণার চাষ। বেশির ভাগ ইহুদির বিশ্বাস, ফিলিস্তিন হলো স্রষ্টা কর্তৃক তাদের জন্য প্রতিশ্রুত পবিত্র ভূমি। কয়েকজন ইসরাইলি শিশুকে যদি জিজ্ঞাসা করা হয় বড় হয়ে তোমরা কী করবে? তবে তাদের মধ্যে কেউ কেউ জবাব দেবে, ‘আমি বড় হয়ে আরবদের হত্যা করব।’ এই আরব মানে ফিলিস্তিনি। ইসরাইলের অনেক পাঠ্যবইয়ে ফিলিস্তিনিদের সরাসরি ফিলিস্তিনি না বলে আরব হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এসব আরবদের সন্ত্রাসী, ইসরাইলের শত্রু ও তাদের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হিসেবে শেখানো হয় শিশুদের। এর বাইরে পারিবারিক, সামাজিক, ধর্মীয় পরিমণ্ডল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সব গণমাধ্যম থেকে শুরু করে শীর্ষ রাজনীতিবিদদের পর্যায় থেকে মুসলমান ও ফিলিস্তিনিদের সন্ত্রাসী, দানবীয়, অমানুষ হিসেবে উল্লেখ করে সার্বক্ষণিকভাবে ঘৃণা সৃষ্টির আয়োজন চলমান রয়েছে। ইসরাইলি শিশুদের শেখানো হয়, এই দেশ একসময় তাদের ছিল। আরবরা তাদের পূর্বপুরুষদের অন্যায়ভাবে হত্যা করে, বাড়িঘর থেকে তাড়িয়ে দিয়ে তাদের দেশ দখল করেছে। ফলে জন্মের পর থেকেই আরবদের প্রতি প্রচণ্ড ক্রোধ নিয়ে বেড়ে ওঠে ইসরাইলি শিশুরা এবং তারা সবসময় আরবদের হত্যা করে প্রতিশোধ নিতে চায়, যার ভিত্তি সম্পূর্ণ মিথ্যা।
এ কারণেই ফিলিস্তিনিদের হত্যা করে পৈশাচিক উল্লাসে মেতে উঠে অনেক ইসরাইলি সেনা। যুদ্ধের সময় গাজার হামাস সেনা ছাড়া সম্পূর্ণ নিরপরাধ, বেসামরিক ফিলিস্তিনি নারী, শিশু ও বৃদ্ধকে পর্যন্ত খুবই ঠান্ডা মাথায় হত্যা করাকেও তারা কোনো অপরাধ মনে করে না। বরং তারা পরিকল্পিতভাবে ফিলিস্তিনি শিশুদের হত্যা করে। কারণ তাদের বিশ্বাস, এই শিশুরাই একদিন বড় হয়ে তাদের শত্রুতে পরিণত হবে এবং তাদের হত্যা করবে।
সাধারণত গণহত্যা, জাতিগত নির্মূল অভিযান হঠাৎ করে চালানো যায় না। অনেক ক্ষেত্রে সুদীর্ঘকাল ধরে পরিকল্পিতভাবে রাষ্ট্রীয় মদতে নির্দিষ্ট জাতিগোষ্ঠী বা সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানো হয় । সাধারণত ধর্ম, জাতীয়তা ও নিরাপত্তা এই প্রধান তিনটি ইস্যু ঘিরে এমনভাবে ঘৃণা ছড়ানো হয়, যাতে টার্গেট করা সম্প্রদায়কে মানুষ নয়; বরং সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর কোনো প্রাণী ও হুমকি হিসেবে সাব্যস্ত করা হয়। বসনিয়ার মুসলমানদের জাতীয় শত্রু আখ্যায়িত করা হয়েছিল জাতীয়তাবাদী প্রচারের মাধ্যমে। মিয়ানমারে রাষ্ট্রীয় মদতে সুদীর্ঘকাল ধরে রোহিঙ্গাদের বহিরাগত আখ্যায়িত করে ঘৃণ্য সব অপপ্রচার চালানো হয়েছে। সেনাবাহিনী, বৌদ্ধ ধর্মীয় নেতা থেকে শুরু করে সরকারিভাবে প্রচার চালানো হয়েছে-রোহিঙ্গাদের নির্মূল করা না হলে তারা একদিন পুরো মিয়ানমার দখল করে নেবে। তারা মিয়ানমার রাষ্ট্রের অস্তিত্বের জন্য হুমকি। তারা বিষাক্ত সাপের চেয়েও বিপজ্জনক। দশকের পর দশক ধরে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে এই প্রচার চালিয়ে তাদের হত্যার বৈধতা প্রতিষ্ঠা করা হয়। ফলে ২০১৭ সালে অং সান সুচির নেতৃত্বে নামেমাত্র সরকার থাকা অবস্থায় মিয়ানমার আর্মি রোহিঙ্গাদের জাতিগত নির্মূলের লক্ষ্যে গণহত্যা পরিচালনা করে।
ইসরাইলে যেমন শিশুদের শেখানো হয় ফিলিস্তিন তাদের ভূমি, ফিলিস্তিনি মুসলমানরা বহিরাগত ও তাদের অস্তিত্বের জন্য হুমকি, মিয়ানমারে যেমন প্রচার চালানো হয়েছিল রোহিঙ্গারা বহিরাগত, একদিন তারা গোটা মিয়ানমার দখল করে নেবে, ঠিক একই কায়দায় ভারতেও মুসলমানদের বিরুদ্ধে সুদীর্ঘকাল ধরে একই প্রচার চলছে।
ভারতে ২০১৪ সাল থেকে বিজেপি ক্ষমতায় । বিজেপি হলো রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ বা আরএসএসের রাজনৈতিক শাখা। আরএসএস গঠন করা হয় ১৯২৫ সালে ভারতের নাগপুরে। আরএসএস গঠন করা হয় হিন্দুদের মধ্যে ঐক্য, শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করে হিন্দু সমাজকে সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করা এবং ভারতকে একটি হিন্দু রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে। এছাড়া হিন্দু ধর্ম ও হিন্দু সংস্কৃতিকে রক্ষা করা ছিল তাদের অন্যতম উদ্দেশ্য। এ লক্ষ্যে আরএসএস পরবর্তী সময়ে হিন্দুত্ববাদ, হিন্দু জাতীয়তাবাদী আন্দোলন ও ভারতকে হিন্দু রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে জোর দেয়। আরএসএস এবং তার রাজনৈতিক শাখা বিজেপি উভয়ের প্রধান আদর্শ হলো হিন্দুত্ববাদ । হিন্দুত্ববাদের মূল কথাÑহিন্দু পরিচয়ই হলো ভারতীয় সংস্কৃতির মূল ভিত্তি। হিন্দু ধর্মীয় পরিচয় ও ভারতীয় জাতীয় পরিচয় অঙ্গাঙ্গিভাব জড়িত। হিন্দুরাই হলো ভারতের আদি জাতি। অন্য যারা ভারতে থাকবে, তাদের হিন্দুত্ব মেনে নিয়েই থাকতে হবে। ভারত হবে হিন্দু প্রভাবিত বা হিন্দুরাষ্ট্র।
আরএসএস ও বিজেপির হিন্দুত্ববাদ, হিন্দু জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের সঙ্গে আশ্চর্য রকম মিল রয়েছে জায়নবাদী আন্দোলনের। উভয় আন্দোলনের সূচনাও প্রায় একই সময়। ২০১৪ সালে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকে ভারতের সঙ্গে জায়নবাদী রাষ্ট্র ইসরাইলের বিশেষ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে গলায় গলায় সম্পর্ক ভারতের বিজেপি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। নেতানিয়াহুসহ পুরো ইসরাইল তীব্র মুসলিমবিদ্বেষী। গাজাসহ পুরো ফিলিস্তিন, লেবানন, সিরিয়া, ইয়েমেন, ইরান, ইরাকে হত্যা, গণহত্যা চালিয়ে যাচ্ছেন নেতানিয়াহু। নরেন্দ্র মোদি গুজরাট মুখ্যমন্ত্রী থাকা অবস্থায় ২০০২ সালে গুজরাট দাঙ্গা ঘটে এবং দাঙ্গা বন্ধে তার প্রশাসনের বিরুদ্ধে নীরব ভূমিকা পালনের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
নেতানিয়াহু ২০২৩ সাল থেকে গাজায় গণহত্যা শুরুর পর ভারতের বিজেপি সমর্থক অনেক উগ্র হিন্দু কাশ্মীরেও গাজা মডেলে জাতিগত নির্মূলের আহ্বান জানিয়েছেন। অনেকে দাবি করেন, ইসরাইল যেমন ফিলিস্তিনে ইহুদি বসতি স্থাপন করেছে, তেমনি কাশ্মীরেও হিন্দু সেটলার বা হিন্দু টাউনশিপ গড়ে তোলার। হিন্দু সেনা নামের একটি সংগঠন প্রকাশ্যে দাবি জানায় ভারত সরকার অনুমতি দিলে এবং ইসরাইল রাজি হলে তারা সেনা পাঠাবে হামাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য। ভারতের অনেকে তখন ‘স্ট্যান্ড উইথ ইসরাইল’ নামে হ্যাশট্যাগ আন্দোলন শুরু করে। তারা প্রচার চালায়-ইসরাইল যেমন সন্ত্রাসের শিকার, ভারতও তেমনি মুসলমান সন্ত্রাসের শিকার। তাদের ভাষায় কাশ্মীরসহ ভারতের মুসলমান সন্ত্রাসীদেরও ইসরাইলের ন্যায় শেষ করে দিতে হবে।
ভারতকে আরএসএস আদর্শের ভিত্তিতে একটি হিন্দুরাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার দায়িত্বপ্রাপ্ত সংগঠন বা দল হলো বিজেপি। দলটির প্রচারের ক্ষেত্রে প্রধান এজেন্ড হলোÑভারত হিন্দুদের দেশ, মুসলমানরা বহিরাগত। ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য বিজেপির নির্বাচনি প্রচারের প্রধান টার্গেট হলো দেশটির মুসলমান সম্প্রদায়। গুজরাট দাঙ্গার পর মোদি গোটা ভারতে পরিচিতি লাভ করেন একজন হিন্দুত্ববাদী মুসলিমবিদ্বেষী বর্ণবাদী নেতা হিসেবে। ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিজেপি তাই মোদিকে তাদের আইডল হিসেবে সামনে রেখে প্রচার চালায় এবং এতে সফল হয়। ভারতের উগ্রপন্থি হিন্দুরা মুসলমানদের দমনের জন্য মোদিকেই উপযুক্ত ব্যক্তি হিসেবে বেছে নেয়। এরপর থেকে মোদির নেতৃত্বে লোকসভাসহ ভারতের যত রাজ্যসভা নির্বাচন হয়েছে, তার প্রচারে মূল এজেন্ড ছিল হিন্দু কার্ড তথা তীব্র মুসলিমবিদ্বেষ। সর্বশেষ এর সফল প্রয়োগ দেখা গেছে আসাম ও পশ্চিমবঙ্গে।
নির্বাচনি প্রচারণায় বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী পশ্চিমবঙ্গের মুসলমানদের বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশকালী হিসেবে আখ্যায়িত করে তাদের বাংলাদেশে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেন। অন্যথায় নির্বাচনে জয়ী হয়ে তাদের বাংলাদেশে পাঠানো হবে বলে ঘোষণা দেন।
অন্য এক জনসভায় শুভেন্দু বলেছেন, যদি সনাতনের বাচ্চা হয়ে থাকি, চৌরাস্তায় দাঁড় করিয়ে এদের মুখ দিয়ে জয়শ্রীরাম বলাব।
শুভেন্দু বলেছেন, ৮০ লাখ থেকে ১ কোটি বহিরাগত রোহিঙ্গা মুসলমান ঢুকে আমাদের রাজ্য কার্যত দখল করে নিয়েছে।
শুভেন্দু অধিকারী হিন্দিতে একটি জনসভায় বলেছেন, ইসরাইল যেমন গাজায় শিক্ষা দিয়েছে, তেমনি ভারতকে শিক্ষা দিতে হবে।
এর মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশের বিরুদ্ধে, ভারতের মুসলমানদের বিরুদ্ধে ইসরাইলের মতো পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন।
এপ্রিলের নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি জয়ের পর বিজেপির উগ্র হিন্দুরা বিভিন্ন এলাকায় মুসলমান সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে তাণ্ডব চালিয়েছে, বুলডোজার দিয়ে গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। জয়ের পরপরই শুভেন্দু বলেছেন, ‘মুসলমানরা আমাকে ভোট দেয়নি। এর মাধ্যমে তিনি মূলত উগ্র হিন্দুদের মুসলমানদের বিরুদ্ধে পরোক্ষভাবে লেলিয়ে দিয়েছেন উন্মত্ততার জন্য। সরকার গঠনের পরপরই উত্তর প্রদেশের যোগী আদিত্যনাথ সরকারের মতো শুভেন্দু সরকারও বুলডোজার অভিযান শুরু করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায় শুভেন্দু অধিকারী সব হিন্দুদের বাড়িতে পতাকা টানানোর নির্দেশ দিচ্ছেন মুসলমানদের আলাদা করে চিহ্নিত করার জন্য। এ সময় একদল গ্রামবাসী কিছু দাবি নিয়ে এলে তাকে বলতে শোনা গেছে, ওটা হয়ে যাবে। এরপর মুসলমানদের উদ্দেশে তাকে বলতে শোনা গেছে, ধর্ম পরিবর্তন করতে হবে।
নির্বাচনে জয়ের পর পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সমর্থক একজন নারী গণমাধ্যমের কাছে বলেছেন, ভারতকে মুসলমানমুক্ত করতে হবে আর সেটা পশ্চিমবঙ্গ থেকে শুরু করতে হবে। ভারত হিন্দুদের জন্য, মুসলমানদের জন্য নয়। তখন তাকে প্রশ্ন করা হয়, ভারতের সংবিধানে তো সব ধর্মের মানুষের সমান সুরক্ষার ও সমান অধিকারের কথা বলা হয়েছে। তখন তিনি বলেন, এই সংবিধান আমরা মানি না। এই সংবিধান বাতিল করতে হবে।
গাজা, পশ্চিম তীর, বসনিয়া, মিয়ানমারসহ বিভিন্ন অঞ্চলে পরিচালিত গণহত্যার আগে মুসলমানদের বিরুদ্ধে যেভাবে পরিকল্পিতিভাবে প্রচারণা চালানো হয়েছিল, সেই একই প্রক্রিয়া চলমান ভারতে । ভারতের মুসলমানদের জন্য এটা গভীর উদ্বেগজনক বিষয়। এটিকে শুধু ভোটের রাজনীতি হিসেবে দেখলে ভুল হবে।
লেখক : সহকারী সম্পাদক, আমার দেশ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


