ইতিহাসসেরা ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের উদ্বোধনী অধিবেশন বসছে আগামী ১২ মার্চ বেলা ১১টায়। রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের (১) দফায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সংসদের অধিবেশন আহ্বান করেছেন।
সাধারণত বিদায়ি স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের সভাপতিত্বে নতুন সংসদের প্রথম বৈঠক শুরু হয়। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী পদত্যাগ করায় এবং ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু খুনের মামলায় বর্তমানে জেলে বন্দি থাকায় উভয় পদই শূন্য রয়েছে। এই বিশেষ পরিস্থিতিতে সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির ৫ বিধি অনুযায়ী নতুন স্পিকার নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে তার মনোনীত কোনো সদস্য অধিবেশনের প্রথম সভায় সভাপতিত্ব করতে পারেন। অধিবেশনের শুরুতেই সংসদের প্রথম কাজ হবে নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা। নবনির্বাচিত স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে ওইদিনই রাষ্ট্রপতি শপথ করাবেন। শপথগ্রহণের পর নতুন স্পিকার সংসদ কক্ষের আসনে বসবেন এবং তার সভাপতিত্বে অধিবেশনের বাকি কার্যক্রম শুরু করবেন। অধিবেশন পরিচালনার জন্য স্পিকার নির্দিষ্টসংখ্যক ‘প্যানেল অব চেয়ারম্যানের’ নাম ঘোষণা করবেন। সংসদীয় রীতি অনুযায়ী বিশিষ্ট ব্যক্তি ও সাবেক সংসদ সদস্য যারা মারা গেছেন, তাদের স্মরণে শোক প্রস্তাব উত্থাপন এবং গ্রহণ করবেন। এরপর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ অনুমোদনের জন্য সংসদে পেশ করা হবে। অধিবেশনের শুরুতে রাষ্ট্রপতি সংসদে ভাষণ দেবেন। সংবিধান অনুযায়ী প্রতি নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে এবং প্রতিবছরের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির এই ভাষণ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। অধিবেশন শুরুর আগে গঠিত কার্য-উপদেষ্টা কমিটির একটি বৈঠক হতে পারে এবং সেখানে অধিবেশনের সময়সীমা ও অন্য আলোচ্য বিষয় নির্ধারণ করা হবে।
গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে এবং দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ইতোমধ্যে সংসদ নেতা এবং জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাচনে বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসন (জোট গত ২১২), জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসন (জোটগত ৭৭টি), জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৬টি, স্বতন্ত্র ৭টি এবং অন্যান্য দল ৭টি আসন পেয়েছে।
কার্যকর ও শক্তিশালী সংসদ কীভাবে হতে পারে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ যেন একটি কার্যকর ও শক্তিশালী সংসদে পরিণত হতে পারে, সে জন্য দেশের মানুষ সেদিকে তাকিয়ে আছে। কারণ শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনামলের সংসদ ‘রাবার স্ট্যাম্পের’ সংসদ বা একদলীয় সংসদ হিসেবে ছিল। ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে নির্বাচনের নামে প্রহসন করা হয়। জাতীয় নির্বাচন তদন্ত কমিশন তাদের তদন্ত রিপোর্টে এই নির্বাচনগুলোকে ‘সুপরিকল্পিত ও সাজানো নাটক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। ফলে ওই ভুয়া নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত ২০১৪ সালের দশম সংসদকে ‘বিনা ভোটের সংসদ’ ২০১৮ সালের একাদশ সংসদকে ‘রাতের ভোটের সংসদ’ এবং ২০২৪ সালের দ্বাদশ সংসদকে ‘ডামি প্রার্থীর সংসদ’ হিসেবে বলা হয়। তদন্ত কমিশন ওই তিনটি নির্বাচন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসের ‘এক কলঙ্কজনক অধ্যায়’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
পতিত শেখ হাসিনা আমলের অভিজ্ঞতার পরিপ্রেক্ষিতে দেশের মানুষ চাচ্ছেন এমন স্বৈরাচারী একদলীয় সংসদ যেন আর না হয়। তারা আশা করছেন, নতুন সংসদে সরকারি ও বিরোধী দল উভয়েই যেন দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে। সুন্দর নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে গঠিত ত্রয়োদশ সংসদ যেন জনআকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী কাজ করে। সে ক্ষেত্রে সরকারি দলের প্রধান দায়িত্ব যেন হয়, সংসদকে তুচ্ছজ্ঞান না করে সেটিকে সব আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করা। নির্বাহী বিভাগ বা মন্ত্রিসভাকে সংসদের কাছে দায়বদ্ধ রাখা। মন্ত্রীরা যেন সংসদে এমপিদের প্রশ্নের সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ উত্তর দেন। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিগুলো যেন শক্তিশালী হয়। বিশেষ করে, সরকারি হিসাব কমিটি বা অনুমিত হিসাব কমিটির মতো গুরুত্বপূর্ণ কমিটির প্রধান হিসেবে বিরোধী দলের সদস্যদের সুযোগ দেওয়া একটি ইতিবাচক চর্চা হতে পারে। কোনো বিল বা আইন পাস করার সময় বিরোধী দলের যৌক্তিক সংশোধনী বা প্রস্তাবগুলো যেন গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়।
গণতন্ত্রে শক্তিশালী বিরোধী দল হলো ‘গভর্নমেন্ট ইন ওয়েটিং’। তাদের ভূমিকা শুধু বিরোধিতা করা নয় বরং ছায়া সরকার হিসেবে কাজ করা। অতীতে বাংলাদেশে সংসদ বর্জনের যে সংস্কৃতি ছিল, তা থেকে বেরিয়ে এসে সংসদের প্রতিটি অধিবেশনে সক্রিয়ভাব অংশগ্রহণ করা উচিত বিরোধী দলকে। সরকারের ভুলত্রুটির শুধু সমালোচনা না করে বিকল্প প্রস্তাব যেন বিরোধী দল পেশ করে। ভালো হলে তাদের প্রস্তাবটি যেন সরকার গ্রহণ করতে পারে। জনগণের দাবি ও সমস্যাগুলো সংসদের ফ্লোরে জোরালোভাবে তুলে ধরতে হবে। প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের কাজের ওপর নজর রাখতে অভিজ্ঞ সদস্যদের দিয়ে ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ বা ‘শ্যাডো ক্যাবিনেট’ গঠন করা যায়, যা সরকারকে স্বচ্ছ থাকতে বাধ্য করবে।
স্পিকারকে সব দলের প্রতি সমান আচরণ করতে হবে এবং বিরোধী দলকে কথা বলার পর্যাপ্ত সময় দিতে হবে। সংসদ সদস্যদের আইনপ্রণয়ন ও বাজেট বিশ্লেষণে সহায়তার জন্য সংসদ সচিবালয়কে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ও আধুনিক করতে হবে। সার্বিকভাবে সরকারি দল যদি বিরোধী দলকে ‘প্রতিপক্ষ’ না ভেবে ‘সহযোগী’ মনে করে এবং বিরোধী দল যদি শুধু বিরোধিতার খাতিরে বিরোধিতা না করে গঠনমূলক ভূমিকা রাখে, তাহলেই ত্রয়োদশ সংসদ প্রাণবন্ত এবং একটি সত্যিকারের কার্যকর সংসদ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারবে। আমাদের সামনে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাসনামলের ১৯৭৯ সালের সংসদটি উদাহরণ হিসেবে রয়েছে। ওই সংসদকে এ যাবৎকালের ‘সবচেয়ে প্রাণবন্ত সংসদ’ হিসেবে বলা হয়ে থাকে।
সরকার ও বিরোধী দল উভয়কে মাথায় রাখতে হবে ‘আগে দেশ’। দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েই সংসদে তারা কাজ করবেনÑএমন মানসিকতা থাকতে হবে। তেমনি সংসদের বাইরেও জাতীয় ইস্যুতে ঐকমত্য থাকতে হবে। বড় কোনো সংকটের সৃষ্টি হলে সর্বদলীয় সভা ডেকে দেশের স্বার্থে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। একে অন্যের প্রতি ব্যক্তিগত আক্রমণ বা কুরুচিপূর্ণ ভিন্নমতকে ব্যক্তিগত শত্রুতা হিসেবে না দেখার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবেÑযেটা রাজনৈতিক শিষ্টাচারের মধ্যে পড়ে। উভয় দলই বিশেষজ্ঞ ও গবেষকদের নিয়ে নিজস্ব গবেষণাগার তৈরি করতে পারে, যাতে রাস্তাঘাটের স্লোগান দেওয়ার চেয়ে সংসদে তথ্যভিত্তিক বিতর্ক বেশি গুরুত্ব পায়।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ চলছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালিয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ইরান পাল্টা হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যের ঘাঁটিগুলোয়। আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদে এ বিষয়টির ওপর একটি সংক্ষিপ্ত আলোচনা করে বাংলাদেশের সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় করণীয় ঠিক করা যায়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেই বিষয়টি সংসদের নজরে আনতে পারেন। অর্থনৈতিক ঝুঁকি মোকাবিলায় এটা ভালো হতে পারে। যুদ্ধের অজুহাতে অসাধু ব্যবসায়ীরা যাতে পণ্যের দাম না বাড়াতে পারেন, সেই লক্ষ্যে সংসদ থেকেও কঠোর আইন প্রয়োগের হুঁশিয়ারি আসতে পারে। অর্থাৎ সংসদকে শুধু রাজনৈতিক বিতর্কের মঞ্চ না বানিয়ে ‘জাতীয় সংকট সমাধানের কেন্দ্রবিন্দু’ করা হয়Ñসেটাই সবার প্রত্যাশা।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে সম্ভাব্য বিপদ মোকাবিলার উপায়
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য ইরান এবং ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্র জোটের মধ্যে যুদ্ধ চলছে। যুদ্ধের আজ নবম দিন। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যৌথভাবে ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে অব্যাহতভাবে ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলা চালাচ্ছে। গতকাল তেহরানে একটি তেল ডিপোতে ইসরাইলি হামলায় বিশাল অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া গেছে। এই যুদ্ধে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনিসহ নিহতের সংখ্যা ১৩০০ ছাড়িয়ে গেছে। এর মধ্যে ১২৩০ জন নাগরিক প্রাণ হারিয়েছে, যার মধ্যে নারী-শিশুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। ইরানও প্রতিবেশী দেশগুলোয় অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনা এবং ইসরাইলের অভ্যন্তরে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ইরান দাবি করেছে, যুদ্ধের পর থেকে তারা বেশ কয়েকজন মার্কিন সেনাকে আটক করেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানকে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের আহ্বান জানালেও ইরান ঘোষণা করেছে, তারা ন্যায়ের পক্ষে যুদ্ধ চালিয়ে যাবেন। এই যুদ্ধ শুধু মধ্যপ্রাচ্য এবং উপসাগরীয় অঞ্চলকেই নয়, বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশকেও বিপদের মধ্যে ফেলে দিয়েছে।
যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশের জন্য কয়েকটি বড় ধরনের বিপদ ও ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় জ্বালানি তেলের সিংহভাগ মধ্যপ্রাচ্যে তথা সৌদি আরব, কাতার, ইউএই থেকে আমদানি করে থাকে। হরমুজ প্রণালি বর্তমানে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় হওয়ায় এবং সরবরাহ রোড বন্ধ থাকায় জ্বালানি আমদানিতে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। তেলের দাম এখন ব্যারেলপ্রতি ৯৩ ডলার হয়েছে এবং তা ১০০ ডলারে পৌঁছানোর আশঙ্কা করা হচ্ছে, যা বাংলাদেশে আমদানি ব্যয় বহু গুণ বাড়িয়ে দেবে। মধ্যপ্রাচ্যের জিসিসি দেশগুলোয় প্রায় ৬০ লাখ বাংলাদেশি কাজ করে, যেখান থেকে মোট রেমিট্যান্সের প্রায় ৪৫ শতাংশ আসে। ইতোমধ্যে বৈদেশিক শ্রমবাজারে হুমকির সৃষ্টি হয়েছে। এই যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে প্রবাসীদের নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থান বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়বে, যা দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। যুদ্ধের ফলে জাহাজের ভাড়া এবং বীমা প্রিমিয়াম ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর ফলে পোশাকশিল্পসহ বিভিন্ন রপ্তানি পণ্যের উৎপাদন খরচ বাড়বে এবং বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতার সক্ষমতা কমবে। জ্বালানি ও পরিবহন খরচ বাড়ার ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বেড়ে যাচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। ইতোমধ্যে বিশেষজ্ঞদের পূর্বাভাস হচ্ছেÑ মুদ্রাস্ফীতি বর্তমানের চেয়ে আরো শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ পয়েন্ট বাড়তে পারে।
এই বিপদ থেকে উত্তরণের জন্য বিশ্লেষক ও অর্থনীতিবিদদের পরামর্শ হচ্ছেÑমধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প দেশগুলো থেকে জ্বালানি সংগ্রহের চেষ্টা করতে হবে। জ্বালানি নিরাপত্তা এবং প্রবাসীদের স্বার্থরক্ষায় বড় শক্তিগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার রাখা জরুরি। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাঁচাতে ও প্রয়োজনীয় বিলাসবহুল পণ্যের আমদানি কঠোরভাবে সীমিত করতে হবে। দেশের শিল্পোৎপাদন সচল রাখতে গৃহস্থালি বা অপ্রয়োজনীয় খাতে জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয় হতে হবে এবং প্রয়োজনে রেশনিং ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং নিজস্ব গ্যাস অনুসন্ধানে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। মুদ্রাস্ফীতির ফলে সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘবে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি এবং টিসিবির মাধ্যমে সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্যের সরবরাহ ব্যাপক বাড়াতে হবে।
সরকারের সামনে চ্যালেঞ্জ
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নতুন সরকারের জন্য এক কঠিন অগ্নি পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে। শপথ নেওয়ার মাত্র ১৫ দিনের মাথায় শুরু হওয়া এই যুদ্ধ সরকারের পূর্বনির্ধারিত উন্নয়ন পরিকল্পনা ও বাজেট ভাবনায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে বাধ্য করেছে। যুদ্ধকবলিত অঞ্চলে বিশেষ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোয় কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনে তাদের দ্রুত প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করা এখন সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার। যুদ্ধের কারণে অনেক ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় প্রবাসীদের যাতায়াত বিঘ্নিত হচ্ছে, যার রেমিট্যান্সপ্রবাহে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। আগেই বলেছি, বাংলাদেশ তার জ্বালানি তেলের সিংহভাগ মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করে। হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বন্ধের কারণে জ্বালানি সংকট ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের চরম ঝুঁকি তৈরি করেছে। লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় রাসায়নিক সার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য যেমন গুম, বুর্জ্য তেল সরবরাহ চেইন ভেঙে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যা কৃষি উৎপাদন ও বাজার দরের ওপর সরাসরি আঘাত হানছে। ইতোমধ্যে সরকার ঘোষণা করেছে, তারা নতুন শ্রমবাজার তৈরির জন্য কাজ করছে। বিষয়গুলো নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী এবং বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জ্বালানি তেলের সংকট নিয়ে চিন্তার কারণ নেই। দুমাসের জ্বালানি মজুত আছে। আরো আসছে। সংসদ সদস্যদের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কর্মশালার আয়োজন করেছেন। সংসদে সব ধরনের আলোচনার জন্য সরকারের আগ্রহের কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, সংসদকে তারা একটি ব্যতিক্রমী সংসদ হিসেবে গড়ে তুলতে চান। সেটা আমরা বাস্তবে দেখতে চাই।
লেখক : নির্বাহী সম্পাদক, আমার দেশ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

