বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা দিন দিন এমন এক অবস্থায় দাঁড়িয়েছে, যেখানে পুরোনো দলীয় রাজনীতির কাঠামো ক্রমেই ভেঙে পড়ছে এবং নতুন রাজনৈতিক শক্তির জন্য এক ধরনের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থেকে রাষ্ট্রের প্রায় সব প্রতিষ্ঠানকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে এনেছে, কিন্তু সেই সঙ্গে তারা ব্যাপক জন-অসন্তোষও তৈরি করেছে। বিএনপি, যেটি তত্ত্বগতভাবে প্রধান বিরোধী দল, তার সাংগঠনিক দুর্বলতা, নেতৃত্বসংকট এবং নতুন প্রজন্মের সঙ্গে সংযোগহীনতার কারণে ক্রমেই রাজনীতির মাঠে প্রান্তিক শক্তিতে পরিণত হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে ইসলামি দলগুলো—বিশেষত জামায়াতে ইসলামী এবং তাদের ছাত্রসংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবির ধীরে ধীরে নিজেদের জন্য নতুন রাজনৈতিক সুযোগ তৈরি করছে। জাতীয় নির্বাচনে যে নাটকীয় পরিবর্তন ঘটবে, জামায়াতই সেই পরিবর্তনের মূল কেন্দ্রবিন্দু হতে পারে বলে অনুমান করি। এর পেছনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে।
প্রথমত, বাংলাদেশের সামাজিক কাঠামোতে ইসলামের প্রভাব খুবই গভীর। যদিও সংবিধান ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলে, কিন্তু বাস্তবে সমাজের অধিকাংশ মানুষ তাদের রাজনৈতিক পরিচয় ও দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলে ধর্মীয় রেফারেন্সকে কেন্দ্র করে। বিখ্যাত ইতিহাসবিদ ও রাজনৈতিক তাত্ত্বিক বেনেডিক্ট অ্যান্ডারসনের ‘ইমাজিন্ড কমিউনিটিজ’ (Imagined Communities) তত্ত্ব অনুযায়ী, জাতি গঠিত হয় একটি কল্পিত কমিউনিটির ভিত্তিতে। বাংলাদেশের কল্পিত কমিউনিটি মূলত গঠিত হয়েছে ইসলাম ও বাঙালি মুসলমান পরিচয়কে কেন্দ্র করে। আওয়ামী লীগ তাদের পরিচয় তৈরি করেছে মুক্তিযুদ্ধ ও বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে, বিএনপি তৈরি করেছে ইসলামপন্থি বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে, কিন্তু জামায়াত সরাসরি ইসলামিক পরিচয়কে রাজনৈতিক মূলধন হিসেবে ব্যবহার করেছে। আজকের তরুণ প্রজন্ম যখন বিদ্যমান রাজনৈতিক নেতৃত্বকে ব্যর্থ মনে করছে, তখন এই ধর্মীয় পরিচয় তাদের কাছে নতুন আশার প্রতীক হয়ে দাঁড়াতে পারে।
দ্বিতীয়ত, রাজনৈতিক শক্তি শুধু রাষ্ট্রযন্ত্র দখল করার মাধ্যমে আসে না, বরং সাংস্কৃতিক ও আদর্শিক ক্ষেত্র নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমেও আসে। আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের ন্যারেটিভকে ব্যবহার করে দীর্ঘদিন হেজেমনি বজায় রেখেছে, কিন্তু ক্রমাগত দুর্নীতি, স্বৈরাচারী প্রবণতা এবং ভারতের প্রতি নির্ভরশীলতা তাদের সেই হেজেমনি দুর্বল করেছে। বিএনপি কোনো নতুন হেজেমনি তৈরি করতে পারেনি, বরং আওয়ামী লীগের তৈরি করা ন্যারেটিভকে চ্যালেঞ্জ না করে প্রতিক্রিয়াশীল রাজনীতিতে আটকে গেছে। এখানে জামায়াত নিজেদের জন্য একটি নতুন অবস্থান তৈরি করেছে। তারা প্রকাশ্যে ইসলামিক ন্যারেটিভকে সামনে এনেছে এবং সেটিকে ‘প্রকৃত দেশপ্রেম’ এর সঙ্গে যুক্ত করেছে। বিশেষ করে, ভারতের বিরুদ্ধে জনগণের অসন্তোষকে জামায়াত সফলভাবে কাজে লাগাতে পেরেছে। যখনই ছাত্রদল বা বামপন্থিরা জামায়াতকে পাকিস্তানপন্থি বলে আক্রমণ করেছে, তখন অনেক ভোটার উল্টো জামায়াতকে ‘অ্যান্টি-ইন্ডিয়ান’ শক্তি হিসেবে বেশি গ্রহণ করেছে। এই সাংস্কৃতিক হেজেমনি তৈরি করার ক্ষমতা জামায়াতকে ভবিষ্যতে নির্বাচনি সুবিধা দিতে পারে।
তৃতীয়ত, জামায়াত সাংগঠনিকভাবে বাংলাদেশের অন্যতম শক্তিশালী দল। বিএনপি বা বামপন্থি ছাত্রসংগঠনগুলো তাদের সাংগঠনিক ভিত্তি হারিয়েছে, কিন্তু শিবির ও জামায়াত নানা চাপ, দমন-পীড়ন ও নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ক্যাম্পাস থেকে গ্রামপর্যায় পর্যন্ত একটি কার্যকর নেটওয়ার্ক ধরে রেখেছে। মিশেলসের ‘আয়রন ল অব অলিগার্কি’ (Iron Law of Oligarchy) তত্ত্ব বলে যে, বড় রাজনৈতিক সংগঠনগুলোয় কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার হাতে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হয়। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি এই নিয়মের শিকার হয়েছে—তাদের কাছে নতুন প্রজন্মের জন্য কোনো সুযোগ নেই। কিন্তু জামায়াত-শিবিরের মাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে নতুন নেতৃত্ব তৈরি করেছে। ফলে তাদের কাছে এখনো নতুন মুখ, শিক্ষিত নেতৃত্ব এবং তরুণ প্রজন্মের জন্য সুযোগ রয়েছে।
চতুর্থত, ক্ষমতা ও জ্ঞানের মধ্যে অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক রয়েছে। শিবির দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পাসে নিজেদের ন্যারেটিভকে জ্ঞানের আকারে প্রতিষ্ঠা করেছে। তারা বলেছে, প্রকৃত দেশপ্রেম মানে ভারতীয় আধিপত্যের বিরোধিতা করা এবং প্রকৃত ইসলামপন্থা মানে শিক্ষিত, সৎ ও নৈতিক নেতৃত্ব গড়ে তোলা। এই ন্যারেটিভ অনেক শিক্ষার্থীর কাছে গ্রহণযোগ্য হয়েছে। সাম্প্রতিক ডাকসু নির্বাচনের ফল সেটিরই প্রতিফলন। অর্থাৎ, তারা নিজেদের বক্তব্যকে এমনভাবে পরিবেশন করেছে যে সেটি ‘সত্য’ বা ‘বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে সঠিক’ বলে মনে হয়েছে।
পঞ্চমত, অর্থনৈতিক বাস্তবতা। বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ, কিন্তু অর্থনৈতিক বৈষম্য ও দুর্নীতি জনগণের অসন্তোষ বাড়াচ্ছে। আওয়ামী লীগ উন্নয়নকে তাদের রাজনৈতিক মূলধন হিসেবে ব্যবহার করেছে, কিন্তু সেই উন্নয়নের সুফল সমানভাবে বণ্টিত হয়নি। পোশাকশ্রমিক, প্রবাসী পরিবার, কৃষক—এরা সবাই বঞ্চনার শিকার। বিএনপি এই অর্থনৈতিক অসন্তোষকে কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছে। কিন্তু জামায়াত ইসলামি অর্থনীতির ধারণাকে সামনে এনে একটি বিকল্প দিতে পারছে। ইসলামি ব্যাংকিং, সুদমুক্ত অর্থনীতি, জাকাতভিত্তিক পুনর্বণ্টন—এসব ধারণা অনেক মানুষের কাছে বাস্তব সমস্যার সমাধান হিসেবে শোনাচ্ছে। ফরাসি দার্শনিক বোর্দিয়ুর ‘Capital’ ধারণা এখানে কাজে লাগানো যায়। আওয়ামী লীগের কাছে অর্থনৈতিক ক্যাপিটাল আছে, বামদের কাছে সাংস্কৃতিক ক্যাপিটাল আছে, কিন্তু জামায়াত অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং সামাজিক—সব ধরনের ক্যাপিটালকে মিলিয়ে একটি নতুন শক্তি তৈরি করছে।
ষষ্ঠত, জামায়াত নারী ভোটারদের ক্ষেত্রেও নতুনভাবে অবস্থান তৈরি করার চেষ্টা করছে। যদিও অতীতে তাদের বিরুদ্ধে নারীবিরোধী নীতি চাপিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ছিল, কিন্তু বাস্তবে তারা কৌশল পরিবর্তন করেছে। তারা এখন নারী শিক্ষা ও কর্মসংস্থানকে স্বীকৃতি দিচ্ছে, যদিও ধর্মীয় মূল্যবোধের কাঠামোর মধ্য থেকে। বাংলাদেশের নারী সমাজ বিশেষ করে, পোশাকশ্রমিক ও প্রবাসী নারীরা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী হয়ে উঠেছে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি তাদের সমস্যার সমাধান করতে ব্যর্থ হয়েছে। জামায়াত যদি এই শ্রেণিকে নিজের দিকে টানতে পারে, তবে তাদের নির্বাচনি ভিত্তি আরো মজবুত হবে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, তরুণ প্রজন্মের মানসিকতা। ৫ আগস্টের আন্দোলন প্রমাণ করেছে যে, তরুণরা পুরোনো রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আস্থা হারিয়েছে। তারা নতুন শক্তি খুঁজছে। রাজনীতি মানে হলো মানুষের সম্মিলিতভাবে কাজ করার ক্ষমতা। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয়ই এই সম্মিলিত শক্তিকে দমন করেছে। কিন্তু জামায়াত ও শিবির ক্যাম্পাসে, গ্রামে, সমাজের নানা স্তরে এই সম্মিলিত কার্যক্রম চালিয়েছে। ফলে তরুণদের চোখে তারা একটি সংগঠিত, সৎ ও নতুন বিকল্প শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে।
বস্তুত জামায়াতের অবস্থা হয়েছে খানিকটা
প্রাচীন গ্রিসের থিসিউসের জাহাজের মতো, যা বহু বছর ধরে সমুদ্রযাত্রা করত, কিন্তু ধীরে ধীরে তার প্রতিটি অংশ—কাঠ, পাল, দড়ি, নখ—সবকিছুই পাল্টে ফেলা হলো। একসময় প্রশ্ন উঠল : এই জাহাজ কি আসল থিসিউসের জাহাজ, নাকি সম্পূর্ণ নতুন? আদতে, একটি জাহাজ টিকে থাকে শুধু তার কাঠামো দিয়ে নয়, বরং তার পরিচিতি, স্মৃতি এবং যাত্রার ধারাবাহিকতা দিয়ে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে জামায়াতের বর্তমান অবস্থা অনেকটা সেই থিসিউসের জাহাজের মতো। অতীতের দায়, স্বাধীনতার সময়কার বিতর্ক এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক নিষিদ্ধতা তাদের কাঠামোকে ক্ষয়ে দিয়েছে। কিন্তু পুরোনো জামায়াতই একটি নতুন বৃহৎ রাজনৈতিক শক্তি হয়ে আবির্ভূত হয়েছে এবং ভবিষ্যৎ প্রধান রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার দ্বারপ্রান্তে বলে মনে করি। তাছাড়া শুধু ভোটের হিসাব করলে ফায়দা মিলবে না; জনগণের ন্যায়বোধ, আইনের প্রতি আস্থা এবং সাংস্কৃতিক গ্রহণযোগ্যতা ছাড়া রাজনৈতিক কামিয়াবি অর্জন করা কঠিন। জামায়াত নিজেকে শুধু ধর্মীয় পরিচয়ে সীমাবদ্ধ না রেখে গণতান্ত্রিক, সামাজিক ন্যায়ভিত্তিক ও প্রমাণভিত্তিক রাজনৈতিক সংস্থা হিসেবে পুনর্গঠিত করার কারণেই তাদের অকল্পনীয় জনপ্রিয়তা রোজ রোজ বেড়ে যাচ্ছে, যা আগে কখনো দেখা যায়নি।
যাই হোক, বাংলাদেশের এবারের নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সাম্প্রতিক ডাকসুসহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচনের ফলে দেখা গেছে—জামায়াতের ভোটার উপস্থিতি ও অসাধারণ সংগঠিত শক্তি বিএনপির চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর। বিশেষ করে, যেভাবে বিএনপির প্রার্থী ও জামায়াতের প্রার্থীর ভোটের ব্যবধান প্রায় ১/৩-এ নেমে এসেছে, তা প্রমাণ করে জামায়াত এখন আর শুধু সহযোগী শক্তি নয়; বরং স্বতন্ত্র বৃহৎ রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে হাজির হয়েছে। তবে এই সম্ভাবনার পাশাপাশি রয়েছে বড় চ্যালেঞ্জ। জামায়াতের ইতিহাসগত দায়—বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী বিতর্ক—আজও তাদের ভাবমূর্তির ওপর প্রভাব ফেলে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটা সময় আওয়ামী লীগকে কেন্দ্র করে একক আধিপত্য তৈরি হয়েছে, যা এখন শুধুই অতীত। তাদের দীর্ঘমেয়াদি শাসন দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও স্বৈরতান্ত্রিক প্রবণতায় ভুগছে। অন্যদিকে বিএনপি নীতি-অসংগতি, নেতৃত্বের দুর্বলতা ও সাংগঠনিক শিথিলতার কারণে জনগণের বিকল্প হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ। আর জামায়াতের এখন স্পষ্ট অর্থনৈতিক কর্মসূচি বা উন্নয়নভিত্তিক নীতি সামনে নিয়ে এসেছে। আদর্শের কথা বললেও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা যেমন স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি, কর্মসংস্থান কিংবা পরিবেশ নিয়ে তারা বিস্তারিত মেনিফেস্টো দিতে পেরেছে। ভোটারদের বিশ্বাস, জেতার জন্য এখন তাদের দরকার বাস্তবমুখী নীতি প্রস্তাব, যা সরাসরি সাধারণ মানুষের জীবনের সঙ্গে যুক্ত। এই জায়গায় জামায়াত জনগণের চোখে নতুন রাজনৈতিক বিকল্প হয়ে উঠছে।
সুতরাং, বলা যায়—জামায়াতের সামনে সুযোগ যেমন আছে, ঝুঁকিও তেমনি প্রবল। যদি তারা সাংগঠনিক শক্তিকে গণতান্ত্রিকভাবে প্রয়োগ করতে পারে, তবে এ নির্বাচনে তাদের সাফল্যের সম্ভাবনা উজ্জ্বল। জামায়াত সত্যিই কি নতুন জাহাজ, নাকি শুধু রঙ করা পুরোনো কাঠের ভেলা? আর তারা যে রূপান্তরের প্রমাণ দিয়েছে, তা মালুম করা যাবে এবারের নির্বাচনের নতিজা দেখে, দেশবাসী তাদের কীভাবে গ্রহণ করেছে, তবে বোধ করি সেই জাহাজ ডুবে যাবে না, বরং ইতিহাসের সমুদ্র তাদের নতুন যাত্রার ফুরসত করে দেবে আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে।
এসব কারণ মিলিয়ে বলা যায়, জামায়াত এই নির্বাচনে ক্ষমতায় আসতে পারে বা অন্তত রাজনীতির মূল খেলোয়াড় হয়ে উঠতে পারে। জনগণের অ্যান্টি-ইন্ডিয়ান আবেগ, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ক্ষোভ, বিএনপির দুর্বলতা, অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং তরুণ প্রজন্মের নতুন নেতৃত্বের খোঁজ—সব মিলিয়ে এক ধরনের রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি হয়েছে। এই শূন্যতা পূরণ করতে জামায়াতই সবচেয়ে সম্ভাব্য শক্তি।
আখেরে বলা যায়, জামায়াতে ইসলামী আজ শুধু একটি রাজনৈতিক দল নয়, বহু মানুষের ভাঙা বিশ্বাস আর দীর্ঘ হতাশার ভেতর জন্ম নেওয়া এক নীরব প্রত্যাশার নাম। বছরের পর বছর নিষেধাজ্ঞা, দমন-পীড়ন, অপবাদ আর একঘরে করে রাখার রাজনীতির মধ্যেও তারা সংগঠন, শৃঙ্খলা আর আদর্শিক দৃঢ়তা হারায়নি। এ দেশে মানুষ বহুবার ক্ষমতার বদল দেখেছে, কিন্তু নৈতিকতার বদল খুব কমই দেখেছে। জামায়াতকে ঘিরে যে আশা তৈরি হচ্ছে, তা মূলত সেই নৈতিক শূন্যতার আর্তনাদ। যদি তারা ক্ষমতার মোহে নয়, বরং মানুষের জীবনের নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার আর মর্যাদাকে রাজনীতির কেন্দ্রে রাখতে পারে, তাহলে এই রক্তাক্ত ইতিহাসের দেশে তারা হয়তো প্রথমবারের মতো মানুষকে বিশ্বাস করার সাহস ফিরিয়ে দিতে পারবে। এই সম্ভাবনাই একদিকে আশার, অন্যদিকে গভীর বেদনার—কারণ এত কষ্ট, এত ত্যাগের পরও আমরা এখনো এমন এক রাজনীতির খোঁজে, যেখানে মানুষ মরার আগে মানুষ হিসেবে বাঁচতে পারে।
লেখক : সাবেক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, লেখক ও গবেষক, ফ্রাই ইউনিভার্সিটি বার্লিন, জার্মানি
sahidkamrul25@gmail.com
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

