গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার ভাল্লুকবেড়, পামওয়েল বাজার, গন্দ্রেকচালা, ধূলিগড়া ও সাতকুড়া এলাকায় পাগলা শিয়ালের কামড়ে ২০ জন আহতের ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে তিনটি শিয়ালকে পিটিয়ে হত্যা করেছে স্থানীয়রা।
শুক্রবার সকালে শিয়াল তিনটিকে হত্যা করা হয়। আহতরা উপজেলার বিভিন্ন ক্লিনিক ও হাসপাতালে ভ্যাকসিন নিচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি পাগলা শিয়াল ভাল্লকবেড়, পামওয়েল বাজার, ধূলিগড়া, সাতকুড়া ও গন্দ্রেকচালা এলাকায় কামড়ে পথচারী ও বিভিন্ন বাড়ির ২০ জনকে আহত করে। এ সময় কয়েকটি গবাদি পশুকেও কামড়ায়।
আহতদের মধ্যে দীন ইসলাম (৯), আলমাস (৪০), তরু শীলের মাসহ (৭২) ২০ জন এবং সুলতান মিয়ার গরু-ছাগল রয়েছে। তাদের হাত, পা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে কামড়ের দাগ রয়েছে। আহতরা কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন ও চিকিৎসা নিচ্ছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, চিকিৎসকেরা সবাইকে পাঁচটি করে ভ্যাকসিনের ডোজ সম্পন্ন করার পরামর্শ দিয়েছেন।
তরু শীল বলেন, রাতে হঠাৎ শিয়াল এসে আমার বৃদ্ধ মাকে কামড় দেয়। সারা রাত ঘুমাতে পারিনি। ঘটনার পর থেকে ভাল্লুকবেড়-পামওয়েল এলাকার মানুষ রাতে ঘর থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছে। কৃষকেরা মাঠে যেতে পারছেন না। গবাদি পশু নিয়ে চিন্তায় আছেন গৃহস্থরা।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আবদুস সবুর বলেন, এভাবে শিয়ালের কামড়ের ঘটনা আগে দেখিনি। দ্রুত উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস ও বন বিভাগের লোকজন এসে শিয়ালটিকে ধরে নেওয়ার জন্য অনুরোধ করছি।
ওই এলাকার বাসিন্দা সোরহাব আলী জানান, শিয়ালের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে এলাকার মানুষ তিনটি শিয়াল পিটিয়ে হত্যা করেছে।
কালিয়াকৈর ফরেস্ট রেঞ্জ কর্মকর্তা তাওসিফ জামান বলেন, বন্য পশু আমাদের জাতীয় সম্পদ, কেউ শিয়ালসহ অন্য বন্য পশু হত্যা করবেন না। আপনাদের সহযোগিতায় শিয়ালটি ধরার চেষ্টা করব।
কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুনমুন বলেন, জলাতঙ্ক একটি মারাত্মক রোগ। যাদের শিয়াল কামড়েছে, তাদের দ্রুত ভ্যাকসিন নিতে হবে। আমাদের হাসপাতালে পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন আছে।
চিকিৎসকেরা বলছেন, কুকুর বা শিয়াল কামড়ালে সঙ্গে সঙ্গে সাবান-পানি দিয়ে ১৫ মিনিট ক্ষতস্থান ধুতে হবে এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভ্যাকসিন নিতে হবে। অবহেলা করলে জলাতঙ্কে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

