শারীরিক প্রতিবন্ধকতা জয় করে গোল্ডেন এ প্লাস পেল ছায়েম



শারীরিক প্রতিবন্ধকতা জয় করে গোল্ডেন এ প্লাস পেল ছায়েম
ছবি: আমার দেশ

শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থামাতে পারেনি সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার রামপুর গ্রামের ছায়েম আল হাসানের স্বপ্নযাত্রা। সদ্য প্রকাশিত দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে আলহেরা জামেয়া ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসা থেকে গোল্ডেন এ প্লাস অর্জন করেছে সে।

তবে ছায়েমের এই অসাধারণ সাফল্যের পেছনে রয়েছে তার অসুস্থ মায়ের সীমাহীন ত্যাগ, ভালোবাসা ও অদম্য মানসিক শক্তির গল্প।

বিজ্ঞাপন

শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে ছায়েমকে প্রতিদিন কোলে করে মাদরাসায় নিয়ে আসতেন তার মা। ঝড়-বৃষ্টি কিংবা প্রখর রোদ কোনো কিছুই সন্তানের পড়াশোনার পথে বাধা হতে দেননি তিনি। ছেলেকে শ্রেণিকক্ষে পৌঁছে দেওয়ার পর ছুটি না হওয়া পর্যন্ত মাদরাসার বারান্দায় বসে অপেক্ষা করতেন মা।

ছায়েমের মা মোসা. হাফসা বেগম জানান, তার বয়স যখন চার বছর তখন জটিল রোগে তার হাত পা অন্যরকম হয়ে যায়। ছোট থেকেই তাকে কোলে করে স্কুলে নিয়ে ভর্তি করাই। এবং প্রতিদিন স্কুল থেকে শুরু করে মাদরাসায় দাখিল পর্যন্ত কোলে করে নিয়ে যেতাম। আজ ছেলের ফলাফলের খবর শুনে আমি গর্বিত।

অথচ ছায়েমের এই মায়ের নিজের জীবনও নানা শারীরিক কষ্টে জর্জরিত। তার দুটি কিডনিই ক্ষতিগ্রস্ত। শরীরে রয়েছে নানা অসুস্থতা। এর পরও সন্তানের ভবিষ্যতের কাছে নিজের কষ্টকে কখনো বড় হতে দেননি তিনি।

ছেলের গোল্ডেন এ প্লাস অর্জনের পর সেই মায়ের চোখে এখন আনন্দের অশ্রু। তার কাছে এই ফলাফল শুধু একটি ভালো ফল নয়; এটি দীর্ঘদিনের কষ্ট, অসংখ্য ত্যাগ ও সন্তানের স্বপ্ন পূরণের এক অনন্য স্বীকৃতি।

নিজের সাফল্যের জন্য মা, শিক্ষক ও পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ছায়েম আল হাসান জানায়, ‘আমার এই সাফল্যের পেছনে আমার মা, শিক্ষক ও পরিবারের অনেক অবদান রয়েছে। আমি সবার কাছে কৃতজ্ঞ। সবার সহযোগিতা পেলে ভবিষ্যতে বিসিএস ক্যাডার হয়ে দেশসেবার কাজে নিজেকে নিযুক্ত করব।

তার সাফল্যে দারুণ খুশি প্রতিবেশীরাও। তার প্রতিবেশী আনোয়ার হোসেন বলেন, অনেক কষ্ট ছায়েমের মা প্রায় ৭ কিলোমিটার কোলে নিয়ে তাকে মাদরাসায় নিয়ে যেতেন। এত কষ্টের পর তার ফলাফলে আমরা আনন্দিত। দোয়া করি ভবিষ্যতে সে যেন বড় কিছু হয়ে দেশের সেবায় এগিয়ে আসে।

ছায়েমের এই সাফল্যে উচ্ছ্বসিত তার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও। আলহেরা জামেয়ার ভাইস প্রিন্সিপাল তোফায়েল আহমদ খান জানান, ছায়েম খুবই মেধাবী। তার এই অর্জনে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। ছায়েম আলিমে ভর্তি হলে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে তাকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করারও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

ছায়েমের গল্প যেন আরও একবার প্রমাণ করল শারীরিক প্রতিবন্ধকতা স্বপ্নের পথে শেষ কথা নয়। অদম্য ইচ্ছাশক্তি, পরিবারের ভালোবাসা ও কঠোর পরিশ্রম থাকলে প্রতিকূলতাকেও জয় করে সফলতার শিখরে পৌঁছানো সম্ভব।

এমএইচ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন