সাহরির পর রাজধানীর বেইলি রোড থেকে টঙ্গী রওনা হলাম। গাড়িতে তেল রিজার্ভে নামার সংকেত দিচ্ছে। সাতরাস্তা পেরিয়ে অকটেন নেব। মগবাজার ফ্লাইওভার থেকে নামতেই দেখি সিটি পেট্রোল পাম্পে যানবাহনের দীর্ঘ সারি। তেল ও সিএনজি দুটোর জন্য ভোরবেলা দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করছে বহুসংখ্যক প্রাইভেট কার, মাইক্রোসহ বিভিন্ন যান। মহাখালী থেকে নেওয়ার চিন্তা করে এগোলাম। সেখানে গাড়ির সারি এতই দীর্ঘ যে, শুক্রবার ছুটির দিনের প্রত্যুষে মূল সড়কেও যানজট লেগে গেছে। খিলক্ষেত থেকে নেওয়ার আশায় অগ্রসর হয়ে দেখি সেখানেও একই অবস্থা। টঙ্গী পৌঁছে এশিয়া পেট্রোল পাম্পে ঢুকতে চাইলে একজন বাধা দিয়ে বলল, তেল নেই। শেষ পর্যন্ত অকটেনচালিত গাড়িটির প্রায় শূন্য ট্যাংক নিয়ে বাসায় ঢুকলাম। এমন অবস্থা শেষ কবে হয়েছিল স্মরণ করতে পারছি না।
ইরানে মার্কিন-ইসরাইল আগ্রাসনে মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়া চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে বড় সংকট পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। বিশ্বের ২০ শতাংশ জ্বালানি পণ্য সরবরাহ কার্যক্রমে ব্যবহার হয় হরমুজ প্রণালি। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এই জলপথ বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। এতে শত শত জ্বালানিবাহী ট্যাংকার আটকে পড়েছে প্রণালিতে। যদিও সর্বশেষ খবর অনুযায়ী ইরান বলেছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে আমেরিকা ও ইসরাইলের সঙ্গে যুক্ত জাহাজ চলাচল করলে তাদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে। অন্যেরা নিজ দায়িত্বে নিরাপত্তাঝুঁকি এড়িয়ে চলাচল করতে পারবে। দেশের গ্যাস সরবরাহের ৪৫ শতাংশ আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। এছাড়া জ্বালানি তেলের বড় সরবরাহকারীও মধ্যপ্রাচ্য। সংঘাত ও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি পণ্য আমদানিতে বড় প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে।
জাতিগতভাবে আমরা হুজুগি। কোনো কিছু সংকটের আভাস মিললে অপ্রয়োজনেও কিনি, মজুত করি। রমজানের শুরুতে যেমন খেজুর, বেগুন, কাঁচামরিচ, পেঁয়াজ ইত্যাদি পুরো মাসেরটা কেনার জন্য মরিয়া হয়ে যাই, তেলের ক্ষেত্রেও তেমনটাই ঘটেছে। যারা সাধারণত ৫-১০ কিংবা ২০ লিটার করে তেল নিয়ে নিয়মিত গাড়ি চালান, তারা ফুল ট্যাংক নেওয়ার জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন। অতিরিক্ত চাহিদার কারণে রাজধানী ঢাকার কোনো কোনো পাম্পের দুদিনের মজুত একদিনেই শেষ হয়ে গেছে। জ্বালানি তেলের পরবর্তী চালান না আসা পর্যন্ত এসব পাম্প যানবাহনে জ্বালানি সরবরাহ করতে পারবে না বলে কোনো কোনো পাম্প জানিয়ে দিচ্ছে। গত সপ্তাহের শেষ চারদিনে ডিজেল বিক্রি হয়েছে প্রায় ৯৮ হাজার টন, যা আগের সময়ের একই সময়ের প্রায় দ্বিগুণ। গত বছর একই সময়ে বিক্রি হয়েছিল ৫৫ হাজার টন। আলোচ্য চারদিনে পেট্রোল বিক্রি হয়েছে ৯ হাজার ৩৮০ টন, গত বছর একই সময়ে বিক্রি হয়েছিল ৬ হাজার ৪৮০ টন। অকটেন বিক্রি হয়েছে প্রায় আট হাজার টন। এক বছর আগে যা ছিল ৫ হাজার ২৪৭ টন। যদিও পেট্রোল ও অকটেনের মজুত নিয়ে দুশ্চিন্তা নেই, তবু সবাই অতিরিক্ত সংগ্রহের জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়েছে।
জ্বালানি তেল সংগ্রহ নিয়ে কোনো কোনো পাম্পে যানবাহন চালকদের সঙ্গে হাতাহাতি. মারামারির ঘটনাও ঘটছে। শেষ পর্যন্ত শুক্রবার এক আদেশে যানবাহনে জ্বালানি তেল সরবরাহের সীমা বেঁধে দিয়েছে পেট্রোলিয়াম করপোরেশন। মোটরসাইকেল চালকরা এখন থেকে দিনে দুই লিটারের বেশি জ্বালানি তেল কিনতে পারবেন না। গাড়ির মালিকরা পাবেন দিনে ১০ লিটার তেল। জিপ ও মাইক্রোবাস দিনে ২০ থেকে ২৫ লিটার তেল নিতে পারবে। পিকআপ বা লোকাল বাস দিনে ডিজেল নিতে পারবে ৭০ থেকে ৮০ লিটার। আর দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, কভার্ড ভ্যান ও কনটেইনার ট্রাকের ক্ষেত্রে পরিমাণ হবে ২০০ থেকে ২২০ লিটার। জ্বালানি তেল কেনার সময় রসিদ নিতে হবে এবং পরেরবার কেনার সময় সেই রসিদ দেখাতে হবে। যদিও চালকরা বলছেন, বিপিসি নির্ধারিত তেল দিয়ে সাধারণ গ্রাহকরা চলতে পারবেন। তবে ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল ও গাড়ির ক্ষেত্রে এই পরিমাণ তেল দিয়ে চলবে না।
দেশের জ্বালানি তেল চাহিদার পুরোটাই প্রায় আমদানিনির্ভর। মধ্যপ্রাচ্য, চীন, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া থেকে জ্বালানি তেল সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে জ্বালানি রপ্তানিকারক বড় দেশগুলোও সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি তেল সংগ্রহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় চীন পরিশোধিত জ্বালানি তেল ডিজেল ও পেট্রোলের রপ্তানি কার্যক্রম স্থগিত করেছে। ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে সংকটের আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় চীন তার বৃহত্তম তেল শোধনাগারগুলোকে ডিজেল ও পেট্রোল রপ্তানি সাময়িকভাবে স্থগিত করার নির্দেশ দিয়েছে।
যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কার সঙ্গে সামনের দিনে গভীর জ্বালানি সংকটের শঙ্কা ক্রমেই প্রবল হচ্ছে। এরই মধ্যে সরকারিভাবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে বৈদ্যুতিক বাতি, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্রাংশ (এসি) ব্যবহার কমিয়ে আনা, আলোকসজ্জা পরিহারসহ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে গ্যাস সাশ্রয়ের লক্ষ্যে পাঁচটি সার কারখানা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। জাতীয় গ্রিডে এরই মধ্যে এলএনজির সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে পেট্রোবাংলা। সেই সঙ্গে বিদ্যুৎকেন্দ্রেও গ্যাসের সরবরাহ কিছুটা কমানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে জ্বালানি আমদানিতে সংকট তৈরি হওয়ায় জ্বালানি পণ্যে রেশনিং করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজের অফিসে বাতি নিভিয়ে, এসি বন্ধ করে কৃচ্ছ্রতার বার্তা দিয়েছেন। জানা গেছে, বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে এমন কথাও বলেছেন, যেসব মন্ত্রী কাছাকাছি বা পাশাপাশি বাসায় বসবাস করেন, তারা যেন দুজন এক গাড়িতে যাতায়াত করেন। ওইদিন দুপুরে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে গিয়ে দেখা গেল বারান্দায় চায়নিজ রেস্টুরেন্ট টাইপের মিটিমিটি আলো। সাশ্রয়ের অংশ হিসেবে অর্ধেকেরও কম বাতি জ্বালানো হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী নিজে হেঁটে হেঁটে বাতি বন্ধ করছেন-এমন একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে দেশের জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব পড়বে-এটা সহজেই অনুমেয়। এমনকি এ যুদ্ধ দীর্ঘ মেয়াদে চললে বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাপনা বড় ঝুঁকির মধ্যে পড়বে, তাতে কোনো সন্দেহ-সংশয়ের অবকাশ নেই। বিএনপি এর আগে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে যে দুবার ক্ষমতায় এসেছিল, সে দুবারও দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রায় একই ধরনের যুদ্ধ-সংকটের মুখোমুখি হয়েছিল। ফলে সংকট মোকাবিলা বা ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্টের কমবেশি অভিজ্ঞতা থাকার কথা। যুদ্ধের মূল অভিঘাতটি অর্থনীতির ওপর। নানামুখী সংকটে থাকা অর্থনীতির সে ধাক্কা হজম করার ক্ষমতা নেই বললেই চলে।
দেশে গ্যাসের ৬০ শতাংশের বেশি ব্যবহার হয় বিদ্যুৎ ও সার কারখানায়। জ্বালানি সংকটের কারণে পাঁচটি ইউরিয়া সার কারখানার মধ্যে চারটি এবং কাফকো এরই মধ্যে বন্ধ করা হয়েছে। বর্তমানে শাহজালাল ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড, টিএসপি কমপ্লেক্স লিমিটেড ও ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড চালু রয়েছে। সরকার নিরুপায় হয়েই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী মৌসুমে পর্যাপ্ত সার সরবরাহে এর নেতিবাচক প্রভাব অবশ্যম্ভাবী।
বুধবার এক জরুরি সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানান, বর্তমান পরিস্থিতি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের চেয়েও মারাত্মক। সবাই সহযোগিতা না করলে বিরাট সংকট থেকে উত্তরণ করা কঠিন। যা আছে, তার সাশ্রয়ী ব্যবহার করতে হবে। খোলাবাজার থেকে বাড়তি জ্বালানি কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে তেমন সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। তাই সংকটের ব্যবস্থাপনা এখন প্রধান কাজ। সাশ্রয়ী ব্যবস্থাপনা করা গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে। ঈদের ছুটির সময়ে শিল্প-কারখানার কার্যক্রম কমে গেলে বিদ্যুতের চাহিদাও কমবে, ফলে চাপ কিছুটা হ্রাস পাবে।
জ্বালানি আমদানির উৎসগুলোয় যেহেতু সরবরাহ সংকট তৈরি হয়েছে, সে কারণে বিকল্প উৎসগুলোর সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখে পণ্য পাওয়ার চেষ্টা চালানো জরুরি। পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে এখন থেকেই কাজ শুরু করাটাও সময়োচিত। প্রয়োজনে এখন থেকেই কিছুটা লোডশেডিং করা যেতে পারে।
দেশে প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট। সেখানে বর্তমানে সরবরাহ দেওয়া হয় ২৬৫ কোটি ঘনফুটের কিছু বেশি। এর মধ্যে এলএনজি সরবরাহ ৯৫ কোটি ঘনফুট। দীর্ঘ মেয়াদে কাতার ও ওমান ছাড়াও স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কার্গো এনে গ্রিডে সরবরাহ দেওয়া হয়। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে বৃহৎ এলএনজি সরবরাহকারী দেশ কাতারের উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এতে বিশ্বব্যাপী এলএনজির দামে উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কার্গো আমদানি বাড়িয়ে সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা যাবে-এমন পরিস্থিতিও নেই এ মুহূর্তে। তবু সরকার জরুরিভাবে দুই কার্গো এলএনজি আমদানি করতে যাচ্ছে। শঙ্কার মধ্যে এ খবর কিছুটা হলেও স্বস্তির।
রাষ্ট্রীয় কোষাগারের অবস্থা খুবই নাজুক। রাজস্ব বাবদ চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথমার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) ২ লাখ ২৩ হাজার কোটি টাকার মতো আয় হয়েছে সরকারের। যদিও পরিচালন ও উন্নয়ন খাত মিলিয়ে এ সময়ে আড়াই লাখ কোটি টাকারও বেশি ব্যয় হয়েছে। আর জানুয়ারি পর্যন্ত সাত মাসের হিসাবে রাজস্ব ঘাটতি ৬০ হাজার কোটি টাকা। আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি হওয়ায় ৩৩ হাজার ৩৪০ কোটি টাকার ঋণ নিতে হয়েছে সরকারকে। তার ওপর বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বকেয়া এবং ঋণ পরিশোধের চাপ। এ অবস্থায় দায়িত্ব নিয়েই সরকার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দিকে নজর দিয়েছে। এরই মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতাসহ বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তাবিষয়ক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি পূরণের জন্য অর্থের সংস্থান কীভাবে হবে তা নিয়ে রয়েছে অনিশ্চয়তা।
নেতিবাচক ধারা থেকে বের হতে পারছে না দেশের রপ্তানি খাত। গত ফেব্রুয়ারিতে টানা সপ্তম মাসের মতো রপ্তানি কমেছে। ফেব্রুয়ারিতে রপ্তানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১২ শতাংশ কম। যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে পণ্য রপ্তানিতে ধস নেমেছে। ফলে যুদ্ধের অভিঘাত রপ্তানি খাতকেও বড় বিপদের মুখে ফেলেছে। টানা সাত মাস রপ্তানি কমায় চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) দেশের সামগ্রিক পণ্য রপ্তানি কমেছে ৩ দশমিক ১৫ শতাংশ।
বিদেশি ঋণ পরিশোধের চাপও ক্রমাগতভাবে বাড়ছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) যত বিদেশি ঋণ এসেছে, এর চেয়ে বেশি শোধ করতে হয়েছে। এ সময় বিদেশি ঋণ ও অনুদান এসেছে ২৬৪ কোটি ১৬ লাখ ডলার। একই সময়ে বাংলাদেশ সরকারকে বিভিন্ন দাতা সংস্থা ও দেশকে ২৬৭ কোটি ৬৮ লাখ ডলার পরিশোধ করতে হয়েছে।
জ্বালানি সংকটের বহুমাত্রিক প্রভাব সামাল দিতে গিয়ে দীর্ঘ মেয়াদে সরকারকে টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে যেতে হবে। সামনে গরমের মৌসুমে বিদ্যুৎ সংকট মারাত্মক রূপ নিতে পারে। তাদের জন অসন্তোষ সামাল দিতে হবে সরকারকে। সার উৎপাদন কমিয়ে দেওয়ার রেশে কৃষিতে নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলাও অন্যতম চ্যালেঞ্জ। জ্বালানির কারণে পণ্য সরবরাহের ভারসাম্য নষ্ট হলে বাজার অস্থির হয়ে উঠতে পারে। ‘হানিমুন পিরিয়ড’ পার করার আগেই নানামুখী এ সংকট কতটা দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করতে পারবে, তার ওপরই নির্ভর করছে সরকারের মসৃণ পথচলা।
লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক, কলামিস্ট ও রাজনীতি বিশ্লেষক
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

