বাকৃবিতে অনুষ্ঠিত হলো এআইভিত্তিক ‘বিল্ড উইথ এআই’ হ্যাকাথন

বাকৃবিতে অনুষ্ঠিত হলো এআইভিত্তিক ‘বিল্ড উইথ এআই’ হ্যাকাথন

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিষয়ক প্রতিযোগিতা ‘বিল্ড উইথ এআই’ হ্যাকাথন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২২ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের সম্মেলন কক্ষে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ম্যাথমেটিক্স বিভাগের উদ্যোগে এ আয়োজন করা হয়।

বিজ্ঞাপন

প্রচলিত প্রতিযোগিতামূলক প্রোগ্রামিংয়ের বাইরে গিয়ে দলবদ্ধভাবে শেখা, কমিউনিটি তৈরি এবং বাস্তব সমস্যার সমাধানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার করাই এ হ্যাকাথনের মূল লক্ষ্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের, মাস্টার্স ও পিএইচডি শিক্ষার্থীসহ প্রায় ১০০ জনকে চূড়ান্তভাবে এ আয়োজনে অংশগ্রহণের জন্য বাছাই করা হয়। তিনটি ক্যাটাগরিতে অংশগ্রহণকারীদের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিভিন্ন বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ ও সেশন পরিচালনা করা হয়।

আয়োজকরা জানান, হ্যাকাথনে জেমিনাই ও ইলেভেন ল্যাবসের অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেস (এপিআই) ব্যবহার করে বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশন তৈরির পাশাপাশি কৃষিক্ষেত্রের বিদ্যমান সমস্যার টেকসই সমাধান উদ্ভাবনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। তিনটি প্রধান ক্যাটাগরিতে মোট পাঁচটি পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে এপিআইভিত্তিক অ্যাপ উন্নয়নের জন্য দুটি এবং কৃষির বিদ্যমান সমস্যার টেকসই সমাধান উদ্ভাবনের জন্য তিনটি পুরস্কার রাখা হয়েছে। প্রতিযোগিতায় সবচেয়ে প্রভাবশালী ওয়েব অ্যাপ তৈরি, সফলভাবে এপিআই ব্যবহার এবং কৃষি খাতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম অ্যাপ উদ্ভাবনকে মূল্যায়নের প্রধান ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হবে। আয়োজন শেষে অংশগ্রহণকারী সবাইকে ডিজিটাল সার্টিফিকেট দেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ম্যাথমেটিক্স বিভাগের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক মো. সাইদ ইফতেখার ইউসুফের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মজিদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ‘ডিজিটাল এন্ট্রোপ্রেনারশিপ অ্যান্ড ইনোভেশন ইকোসিস্টেম ডেভেলপমেন্ট’ প্রকল্পের পরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার এবং কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ম্যাথমেটিক্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রাকিব হাসান।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মেছবাহ উদ্দিন। তিনি প্রতিযোগিতার বিভিন্ন বিষয় ও অংশগ্রহণকারীদের করণীয় সম্পর্কে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মো. রাকিব হাসান বলেন, ‘জেমিনি, চ্যাটজিপিটি কিংবা ক্লডের মতো এআই মডেলগুলো ভিডিও তৈরি, কোডিং থেকে শুরু করে অর্থনীতি ও বিজ্ঞানের বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজকে সহজ করে দিচ্ছে। তবে এআই ব্যবহারে সতর্কতাও জরুরি। এআই ভুল তথ্য দিতে পারে, তাই অন্ধভাবে বিশ্বাস না করে তথ্য যাচাই করতে হবে। ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করা থেকেও বিরত থাকতে হবে। পাশাপাশি এআই বা প্রযুক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতার কারণে নিজেদের চিন্তাশক্তি ও সমস্যা সমাধানের মৌলিক দক্ষতা যেন হারিয়ে না যায়, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।’

সভাপতির বক্তব্যে সহযোগী অধ্যাপক মো. সাইদ ইফতেখার ইউসুফ বলেন, ‘এ আয়োজন থেকে শিক্ষার্থীরা অনেক কিছু শেখার সুযোগ পাবে। প্রশিক্ষণের প্রতিটি সেশন মনোযোগ দিয়ে অনুসরণ করে নিজেদের কাজের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করতে হবে। আশা করি, এ হ্যাকাথনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করবে এবং ভবিষ্যতে তা কাজে লাগিয়ে নতুন ও উদ্ভাবনী কিছু তৈরি করতে পারবে।’

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন