সংস্কারের অভাবে সারা দেশেই সড়কব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। এতে যাতায়াতে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন মানুষ। অন্যদিকে বাড়ছে দুর্ঘটনা।
সাঘাটা (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি জানান, গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার জুমারবাড়ী ওয়াপদা সড়ক ধসে যানবাহন চলাচল বন্ধের উপক্রম হয়েছে। কোনোমতে ছোট ছোট যানবাহন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। প্রতিদিন দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে এলাকার বাসিন্দারা। মাঝে মাঝে বালু দিয়ে কোনোরকমে ধস ঠেকানোর চেষ্টা করলেও তা টিকছে না। জানা গেছে, সাঘাটা উপজেলা থেকে জুমারবাড়ী, সোনাতলা হয়ে বগুড়ার মোকামতলায় মহাসড়কে সংযোগ স্থাপনের একমাত্র সড়কটির ডাকবাংলো হতে জুমারবাড়ী পর্যন্ত ওয়াপদা বাঁধের প্রায় ১০ কিলোমিটার অংশে ধস দেখা দিয়েছে। বাঁধটির ডাকবাংলো হতে জুমারবাড়ী বাজারের প্রবেশ পথ অসংখ্য স্থানে অতিরিক্ত বালু ব্যবহার, একপাশে ব্যক্তিগতভাবে চাষাবাদ করা, অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ ও বাঁধের ওপর পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টি হলেই ধসে যায়।
এলজিইডির সাঘাটা উপজেলা প্রকৌশলী মো. হেলালুর রহমান বলেন, সড়কটি ধসের বিষয়ে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করেছি। এর পরিপ্রেক্ষিতে পরিদর্শন ও মাপজোখ সম্পন্ন করেছেন। স্থায়ীভাবেই সড়কটির সংস্কার হবে।
রাজিবপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি জানান, দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে কুড়িগ্রামের চর রাজিবপুর উপজেলার অধিকাংশ সড়ক বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে রাস্তার পিচ ও খোয়া ওঠে গিয়ে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। এতে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
মোহনগঞ্জ ইউনিয়নের স্থানীয় বাসিন্দা রাশেদুল ইসলাম জানান, পাটাদহপাড়া গ্রামের সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে স্বাভাবিক যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে। কোথাও কোথাও গর্ত ও ভাঙাচোরা অংশের কারণে ছোট যানবাহন চলাচলেও নানা সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। দ্রুত সংস্কার না করা হলে জনদুর্ভোগ আরো বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। বটতলা নিবাসী তুরাব আলী জানান, বটতলা বাসস্ট্যান্ড থেকে বালিয়ামারী বাজার পর্যন্ত রাস্তাটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। দ্রুত গতিতে সংস্কার দরকার।
ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি জানান, বগুড়ার ধুনট-সোনাহাটা গুরুত্বপূর্ণ সড়কে উঠে গেছে কার্পেটিং ও ইটের সোলিং। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন পথচারী ও যাত্রীরা। বিভিন্ন অংশে পাকা সড়কের ওপর ইটের সোলিং করে চলাচলের ব্যবস্থা করায়, চরম দুর্ভোগে পড়েছেন পথচারী, যাত্রী ও যানবাহনের চালকরা। সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতাধীন এ সড়কের বিভিন্ন অংশে এমন পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, এই সড়কটিতে প্রতিদিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, কৃষক, চাকরিজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ চলাচল করেন। পাশাপাশি পণ্যবাহী ট্রাক, বাস, সিএনজি, অটোরিকশা, ভ্যানসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহনও নিয়মিত চলাচল করে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে সড়কটির বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও পিচ ও পাথর উঠে গিয়ে বড় বড় খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। এতে সামান্য বৃষ্টি হলেই এসব গর্তে পানি জমে চলাচল দুষ্কর হয়ে পড়ে। ধুনট উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফ উল্লাহ নিজামী বলেন, সড়কটি সংস্কারের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। এ সমস্যার সমাধান করতে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা।
শ্রীবরদী (শেরপুর) প্রতিনিধি জানান, শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার সীমান্তবর্তী রানীশিমুল ইউনিয়নের বালিজুরি বাজার থেকে রাঙ্গাজান মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভ পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার রাস্তা দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তার বিভিন্ন স্থানে পানি জমে সৃষ্টি হয় কাদা ও জলাবদ্ধতার। ফলে এই সড়কে চলাচলকারী হাজারো মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এদিকে রাস্তাটিতে যানবাহন চলাচল করতে না পারায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদেরও টহল কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে চোরাকারবারিরা মাদক ও ভারতীয় চোরাই পণ্য পাচারের নিরাপদ রুট হিসেবে বেছে নিয়েছে ।
শেরপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য সড়কটির উন্নয়নের বিষয়ে অত্যন্ত তৎপর রয়েছেন। সড়কটি সংস্কার ও উন্নয়নের লক্ষ্যে তিনি ইতোমধ্যেই সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে ডিও লেটার প্রদান করেছেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

