শিক্ষক নিয়োগ ও র‌্যাংকিংয়ে অবনতি

শিক্ষক নিয়োগ ও র‌্যাংকিংয়ে অবনতি

আমার দেশ-এর গত ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সংখ্যায় ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বোধোদয় হোক’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রবন্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগপ্রক্রিয়ার দুর্বলতা উল্লিখিত হয়। শুধু একটি মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে সর্বোচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ করার অযৌক্তিকতাও ওই প্রবন্ধে উপস্থাপিত হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় অথবা ইউজিসি এসব নিয়ে না ভেবে উচ্চশিক্ষার উন্নয়ন বিষয়ে সেমিনার করছে।

বিজ্ঞাপন

শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। তবে শিক্ষকদের বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে জাতীয় দলীয় রাজনীতির লেজুড়বৃত্তি চর্চার সুযোগ বন্ধ করে তাদের একাডেমিক গবেষণা ও শ্রেণিকক্ষমুখী করার লক্ষ্যে ১৯৭৩ সালের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ/আইন যুগোপযোগী করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এ সত্য স্বীকার্য, যোগ্য শিক্ষক নিয়োগের মূল কাজে অবহেলা করলে শিক্ষা ও গবেষণায় উন্নয়ন অর্জন সম্ভব নয়।

শুধু মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ করে বিশ্ববিদ্যালয়কে যে একাডেমিকভাবে এগিয়ে নেওয়া যায় না, সে বিষয়টি সম্প্রতি ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত টাইমস হায়ার এডুকেশন র‌্যাংকিং-২০২৭-এ প্রমাণিত হয়েছে। এ র‌্যাংকিংয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান যেখানে এক থেকে এক হাজার বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগে ছিল, সেখানে এবার উল্লিখিত র‌্যাংকিংয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির অবনমন হয়ে ১০০১ থেকে ১২০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগে নেমে এসেছে। এ বিভাগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ও নিজের অবস্থান করে নিয়েছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আরেকটু নিচে নেমে ১২০১ থেকে ১৪০০-এর বিভাগে স্থান পেয়েছে। পাশ্চাত্যের বিশ্বসেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কথা বাদ দিলেও এশিয়ার অনেক দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ই প্রথম কয়েকশ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে নিজেদের স্থান করে নিয়েছে। উদাহরণ হিসেবে আলোচ্য র‌্যাংকিংয়ের প্রথম ১০টি আসনে ইউরোপ-আমেরিকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থানের পর ১১তম স্থানে চীনের সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয় (Tsinghua University) নিজের স্থান করে নিয়েছে। একইভাবে ১ থেকে ৫, ৬, ৭ বা ৮০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে চীন, ভারত, জাপান, সিঙ্গাপুর, কোরিয়া, জার্মানি, মালয়েশিয়া, সৌদি আরব এবং পাকিস্তানের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বিশ্ববিদ্যালয় নিজেদের অবস্থান নিশ্চিত করেছে। প্রথম পাঁচশ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ইরানের তেহরান বিশ্ববিদ্যালয় নিজের অবস্থান সুনিশ্চিত করেছে। আর অন্যদিকে বাংলাদেশের বড় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শুধু অব্যাহতভাবে র‌্যাংকিংয়ে অবনমন ঘটছে।

র‌্যাংকিংয়ে বাংলাদেশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মানের অবনতির বিভিন্ন কারণ রয়েছে। এর অন্যতম প্রধান কারণ হলো, যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ দিতে না পারা। শিক্ষক যোগ্য না হলে তারা শিক্ষার্থীদের ভালোভাবে পাঠদান করবেন কীভাবে? আর শিক্ষকরা যদি ক্লাসে ভালোভাবে পাঠদান করতে না পারেন, তাহলে শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে কীভাবে আকৃষ্ট হবেন? সে ক্ষেত্রে কীভাবে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যোগ্য গ্র্যাজুয়েট বেরোবে? শিক্ষকরা কীভাবে করবেন মৌলিক অবদানমূলক গবেষণা? এ দেশের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ক্রমান্বয়ে একাডেমিক চর্চা কমিয়ে রাজনৈতিক দলাদলি ও বর্ণের ছদ্মাবরণে জাতীয় দলীয় রাজনীতির লেজুড়বৃত্তির চর্চায় নিয়োজিত হওয়ায় এ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একাডেমিক র‌্যাংকিংয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। একাডেমিক যোগ্যতার চেয়ে অধিকাংশ ক্ষেত্রে দলীয় পরিচয়ের প্রভাবে তদবির করে একেকজন শিক্ষক সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হচ্ছেন। এমনভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত উপাচার্যরা বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনে যোগ্যতার পরিবর্তে বর্ণপরিচয়ের পরিমাপকে শিক্ষকদের মধ্যে পদ-পদবি বণ্টন করছেন। পৃথিবীর কোনো দেশের একাডেমিয়ায় কি এমন কর্মকাণ্ড হয়? গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী চুয়েটের জনপ্রিয় ভিসিকে নিয়োগের ৫৬ দিন পরে অশালীন প্রক্রিয়ায় অব্যাহতি দিলে শিক্ষার্থীরা এর বিরুদ্ধে আন্দোলন করে যাচ্ছেন। কেন চুয়েটের এ জনপ্রিয় ভিসিকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে, তার আনুষ্ঠানিক সরকারি ব্যাখ্যা নেই। আশ্চর্য, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা তাদের জনপ্রিয় ভিসির অব্যাহতি প্রদানের বিরুদ্ধে নবনিযুক্ত ভিসিকে আন্দোলন করে লাল কার্ড দেখিয়ে আন্দোলন করে যাচ্ছেন, আর সরকার দেড় সপ্তাহ ধরে তা দেখে যাচ্ছেন। এ আন্দোলন নিয়ন্ত্রণ করে শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষমুখী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে কি? এই যদি হয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থা, তাহলে কীভাবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো র‌্যাংকিংয়ে উন্নতি করবে?

যেসব বিষয়ে পয়েন্ট দিয়ে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের র‌্যাংকিং নির্ধারণ করা হয়, তার অনেকগুলো ক্ষেত্রের মধ্যে দুটি প্রধান ক্ষেত্র হলো ‘শিক্ষকতা’ এবং ‘গবেষণার পরিবেশ’। এ দুটি ক্ষেত্রে বাংলাদেশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পিছিয়ে রয়েছে। শিক্ষকতায় টাইমস র‌্যাংকিংয়ে ১ ও ২ নম্বরে থাকা যথাক্রমে অক্সফোর্ড এবং ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি) যেখানে যথাক্রমে স্কোর করেছে ৯৭ দশমিক ১ এবং ৯৯ দশমিক ১, সেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কোর ১৭ দশমিক ৪। আবার ‘গবেষণার পরিবেশ’-এর ওপর অক্সফোর্ড এবং এমআইটি যেখানে যথাক্রমে স্কোর করেছে ১০০ এবং ৯৬ দশমিক ৫, সেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কোর ১৫ দশমিক ৭। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা এবং গবেষণার পরিবেশের স্কোর যথাক্রমে ১৫ দশমিক ৭ এবং ১২ দশমিক ১। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এই দুই বিভাগের স্কোর যথাক্রমে ১২ দশমিক ৩ এবং ১০ দশমিক ৯। যারা এই বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানোর এবং গবেষণা করার কাজে জড়িত, তারা কীভাবে মুখ দেখাবেন? কেউ বলতে পারেন, অক্সফোর্ড আর এমআইটির সঙ্গে কি বাংলাদেশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর তুলনা করা ঠিক হচ্ছে? ঠিক আছে, এশীয় দেশগুলোর সঙ্গে তো তুলনা করা যায়, যায় না? চীনের একটি বিশ্ববিদ্যালয় যদি শিক্ষকতা এবং গবেষণার পরিবেশের ওপর যথাক্রমে ৯৬ দশমিক শূন্য এবং ৯৯ দশমিক ৩ স্কোর করতে পারে, তাহলে আমাদের বড় সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কি এসব ক্যাটাগরিতে ৩০ বা ৪০ স্কোর করা খুবই বেমানান? কিন্তু আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তা পারছে না কেন? দলীয় রাজনীতির তীব্রতায় একাডেমিক চর্চা হ্রাস পাওয়ার যে সংস্কৃতি এ দেশের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় চর্চিত হচ্ছে, তাতে এ প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকলে হয়তো আগামীতে এ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর এ দুটি বিভাগের স্কোর সিঙ্গেল ডিজিটে নেমে এলেও অবাক হওয়া যাবে না।

দলীয় প্রভাবে শুধু মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ করে পরে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের যোগ্য করার যে সাম্প্রতিক উদ্যোগ লক্ষ করা যাচ্ছে, তা ভুল সিদ্ধান্ত। প্রথমে যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ করে তাদের একটিমাত্র বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ দিলে তারা শিক্ষক হিসেবে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করতে পারবেন। কিন্তু যোগ্য শিক্ষক নিয়োগে মনোনিবেশের পরিবর্তে বড় সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় চলছে প্রশিক্ষণের বন্যা। প্রশিক্ষণ গ্রহণে জুনিয়র শিক্ষকরা ব্যস্ত সময় কাটিয়েও পাঠদান ও গবেষণায় বিরল ব্যতিক্রম ছাড়া প্রত্যাশিত মাত্রায় উন্নতি করতে পারছেন না। একদিকে ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসিউরেন্স সেলের (আইকিউএসি) অনুষদভিত্তিক শিক্ষকদের জন্য আয়োজিত প্রশিক্ষণ, মাঝেমধ্যে ইনোভেশন হাব আয়োজন করছে প্রশিক্ষণ বা ওয়ার্কশপ। আবার হায়ার এডুকেশন এক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট) প্রকল্পের আয়োজিত বিভিন্ন রকম প্রশিক্ষণ। এছাড়া ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং ইউজিসি আয়োজিত বিভিন্ন প্রশিক্ষণে নতুন শিক্ষকরা ব্যস্ত সময় কাটান। এত প্রশিক্ষণের পরও পাঠদান এবং গবেষণায় শিক্ষকদের প্রত্যাশিত মান অর্জন করতে না পারার প্রকৃত কারণ হলো শিক্ষক নিয়োগব্যবস্থার গলদ।

টাইমস-এর বিশ্ববিদ্যালয় র‌্যাংকিং প্রকাশের দিনই ইউজিসির পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সম্মানিত সদস্য অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ-আল-মামুন ঢাবির সিনেট ভবনে আইকিউএসি আয়োজিত কর্মশালায় মূল বক্তব্য প্রদানকালে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের জন্য প্রশিক্ষণ একাডেমি প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন। এ প্রশিক্ষণ একাডেমি প্রতিষ্ঠার জন্য সরকারের অর্থ বরাদ্দের কথাও তিনি উল্লেখ করেছেন। নতুন নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের জন্য নতুন প্রশিক্ষণ একাডেমি প্রতিষ্ঠা করে প্রশিক্ষণ দেওয়া ভালো কথা। কিন্তু কোন প্রক্রিয়ায় নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে? অবৈধ আর্থিক লেনদেন বা রাজনৈতিক প্রভাবে প্রভাবিত হয়ে শুধু মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে প্রভাষক নিয়োগ দিয়ে তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হলে এমন প্রশিক্ষণের পরও বিশ্ববিদ্যালয়ের র‌্যাংকিং বাড়বে না।

কর্তৃত্ববাদী সরকারামলে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগে যে অবৈধ আর্থিক লেনদেন প্রচলিত ছিল, তা এখনো চলমান আছে নাকি বন্ধ হয়েছে, সে বিষয়টি পরখ করে দেখার ব্যাপারে কারো মাথাব্যথা নেই। অবৈধ আর্থিক লেনদেন করে শিক্ষক হলে ওই শিক্ষককে হাজারো প্রশিক্ষণ দিয়েও বিশ্ববিদ্যালয়ের র‌্যাংকিং বাড়ানো যাবে না। কারণ, এমন শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক হওয়ার জন্য প্রদত্ত টাকা ওঠাতেই শুধু দুর্নীতি করবেন না, বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক সততাকে জলাঞ্জলি দিয়ে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন ও সেবা প্রদানে ভেদাভেদ সৃষ্টি করবেন। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) ২০০১ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত সময়কালের মধ্যে ১৩টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক নিয়োগের তথ্য বিশ্লেষণ করে এ ক্ষেত্রে ৩ থেকে ২০ লাখ টাকা অবৈধ লেনদেনের তথ্য উপস্থাপন করে। টিআইবির ওই প্রতিবেদন কমসংখ্যক শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞাপন দিয়ে বেশিসংখ্যক শিক্ষক নিয়োগ করে অর্থবাণিজ্য করার তথ্যও উপস্থাপন করে। উল্লিখিত প্রতিবেদনে ১৪টি প্রভাষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ৪৪ জন শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞাপন দিয়ে ৯২ জন শিক্ষক নিয়োগের তথ্য উপস্থাপিত হয়। যুগান্তর পত্রিকার অনুসন্ধানী সাংবাদিকরা কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক পদে চারটি ফার্স্ট ক্লাস পাওয়া আবেদনকারীদের কাছ থেকে ১২ এবং একই পদে তিনটি ফার্স্ট ক্লাস পাওয়া আবেদনকারীদের কাছ থেকে ১৫ লাখ টাকা ঘুনগ্রহণবিষয়ক কথোপকথনের তথ্য উপস্থাপন করেন (যুগান্তর : ০২-০৪-২০১৭)। এভাবে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক প্রশিক্ষণ একাডেমিতে প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের চরিত্র বদলানো যাবে না। সবার আগে উচিত হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালাকে এমনভাবে সংস্কার করা, যাতে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় যোগ্য শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি লাভ করেন। এমনভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত যোগ্য ও মেধাবী শিক্ষকদের জন্য প্রশিক্ষণ ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

অন্তর্বর্তী সরকারামলে কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালা সংস্কার করে মেধাবী শিক্ষক নিয়োগের সূচনা হয়েছিল। কিন্তু নির্বাচিত সরকারামলে প্রায় সব বড় বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য পরিবর্তন করে দলীয় পরিচয়ের পরিমাপকে উপাচার্য নিয়োগ দেওয়ায় নতুন উপাচার্যরা কীভাবে শিক্ষক নিয়োগ করেন, তা গোয়েন্দা তৎপরতার সহায়তায় ইউজিসি, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে লক্ষ করা প্রয়োজন। এসব কাজ না করে শুধু যেনতেন প্রক্রিয়ায় শিক্ষক নিয়োগ করে তাদের নির্মিতব্য বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক প্রশিক্ষণ একাডেমিতে প্রশিক্ষণ দিয়ে ভালো শিক্ষক ও গবেষকে রূপান্তরিত করা যাবে না। আর এহেন শিক্ষকদের একাডেমিক কার্যদক্ষতা ব্যবহার করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য সম্মানজনক র‌্যাংকিং অর্জন সহজ হবে না।

লেখক: সাবেক উপাচার্য, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন