বাংলাদেশের নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিসর নির্মাণের লড়াই

বাংলাদেশের নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিসর নির্মাণের লড়াই

জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের রাজনীতিতে শুধু একটি ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটায়নি। এটি এমন কিছু প্রশ্ন সামনে নিয়ে এসেছে, যেগুলো নিয়ে গত পঞ্চাশ বছরে আমাদের সমাজের অনেক শিক্ষিত ও সচেতন মানুষও প্রকাশ্যে কথা বলতে দ্বিধা করেছেন। নতুন প্রজন্মের একটি অংশ এখন সেই দ্বিধার দেয়াল ভাঙছে। তারা প্রশ্ন করছে—আমরা কারা? আমাদের সাংস্কৃতিক পরিচয় কী? আমাদের ইতিহাস, বিশ্বাস, সংগীত, সাহিত্য ও জীবনবোধের সংজ্ঞা কে নির্ধারণ করবে?

বিজ্ঞাপন

এটি আমাদের সামনে আরেকটি প্রশ্নও এনেছে—আমরা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কেমন সাংস্কৃতিক বাংলাদেশ রেখে যেতে চাই? কারণ রাষ্ট্র শুধু সংবিধান, নির্বাচন আর অর্থনীতি দিয়ে তৈরি হয় না। একটি জাতি গড়ে ওঠে তার ইতিহাস, স্মৃতি, মূল্যবোধ আর নিজের গল্প নিজে বলার ক্ষমতার মধ্য দিয়েও। যে জাতি নিজের গল্প নিজে বলতে পারে না, একসময় সে অন্যের বলা গল্পের মধ্যেই নিজেকে খুঁজতে শুরু করে।

শহীদ শরীফ ওসমান হাদি এই প্রশ্নটাই সাহসের সঙ্গে তুলেছিলেন। তার ইনকিলাব মঞ্চ ও ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার একটি বিকল্প সাংস্কৃতিক পরিসর গড়ার চেষ্টা করেছিল। তার সব বক্তব্যের সঙ্গে সবাই একমত হবেন না, হওয়ার দরকারও নেই। কিন্তু তার প্রশ্নটা এড়ানো যায় না—বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাস আর ইতিহাসকে পাশ কাটিয়ে কি বাংলাদেশের সংস্কৃতির পূর্ণাঙ্গ পরিচয় তৈরি করা সম্ভব?

এখন সময় এসেছে এই প্রশ্নটিকে শুধু প্রতিবাদ বা পাল্টা বয়ানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে আরো বৃহত্তর, ইতিবাচক ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিসরে নিয়ে যাওয়ার। কোনো সমাজে যদি নিজস্ব কৃষ্টি ও সংস্কৃতির তুলনায় বাইরের কোনো সংস্কৃতি অস্বাভাবিকভাবে বেশি প্রাধান্য পেতে শুরু করে, তার পেছনেও কিছু সামাজিক, ঐতিহাসিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কারণ থাকে। তাই শুধু অভিযোগ বা সমালোচনায় সীমাবদ্ধ না থেকে, আসুন আমরা সেই কারণ ও সমস্যাগুলো চিহ্নিত করার চেষ্টা করি।

শূন্যস্থান আমরা নিজেরাই পূরণ করিনি

অন্যকে দোষ দেওয়ার আগে একটি বিষয় বুঝতে হবে—সাংস্কৃতিক জগতে শূন্যস্থান থাকে না। আমরা যদি নিজেদের ইতিহাস, বিশ্বাস ও মূল্যবোধ থেকে তৈরি ভালো সিনেমা, গান, নাটক বা অ্যানিমেশন নতুন প্রজন্মকে না দিই, তারা সেগুলো অন্য কোথাও খুঁজে নেবে। এটাই স্বাভাবিক।

তাই নিজেদের কিছু প্রশ্ন করা দরকার—আমাদের সন্তানদের জন্য বিশ্বমানের অ্যানিমেশন কোথায়? আমাদের মনীষী ও সংস্কারকদের নিয়ে আজকের প্রজন্মের উপযোগী গল্প কোথায়? আমাদের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস, সংগ্রাম ও আত্মত্যাগ নিয়ে আকর্ষণীয় সাংস্কৃতিক আয়োজন কোথায়?

উত্তর : আসলে খুব বেশি নেই। কারণ আমরা যথেষ্ট তৈরি করিনি।

জানাকে নির্ভরতা বানিয়ে ফেলেছি

পশ্চিমবঙ্গের সাংস্কৃতিক অঙ্গন থেকে জানার অনেক কিছু আছে, কিন্তু জানা আর কাউকে নিজের সাংস্কৃতিক মানদণ্ডের স্থায়ী অভিভাবক বানিয়ে ফেলা—এক জিনিস নয়। দীর্ঘদিন ধরে আমাদের সমাজের একটি অংশের মধ্যে এমন মানসিকতা তৈরি হয়েছে যে ‘শুদ্ধ’ উচ্চারণ কিংবা সাহিত্যিক স্বীকৃতির জন্যও কলকাতার দিকে তাকাতে হয়। আমাদের নিজেদের গল্প, গান, নাটক যেন তাদেরই দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার হওয়া উচিত—এ ধারণাটাই সমস্যা।

পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে আমাদের ভাষা এক। আমাদের ভাষার মিল আছে বলেই আমাদের ইতিহাসবোধ, ধর্মীয়-সামাজিক অভিজ্ঞতা, জীবনদর্শন কিংবা পৃথিবীকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গিও এক হতে হবে—এমন কোনো কারণ নেই। বরং প্রতিটি জনগোষ্ঠীর সাহিত্য, সংগীত, শিল্প ও সংস্কৃতিতে তার নিজস্ব জীবনবোধ, বিশ্বাস, ইতিহাস, আনন্দ-বেদনা ও সামাজিক অভিজ্ঞতার প্রতিফলন থাকা স্বাভাবিক। সেই নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গিই যদি অনুপস্থিত থাকে, তাহলে সেটিকে সেই জনগোষ্ঠীর পূর্ণাঙ্গ সংস্কৃতি বলা কঠিন। পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে সাহিত্য সম্পর্কটি হওয়া উচিত গুরু-শিষ্যের নয়, সমমর্যাদার দুই প্রতিবেশীর।

বাংলাদেশের নিজস্ব ইতিহাস আছে, নিজস্ব ধর্মীয়-সামাজিক অভিজ্ঞতা আছে, নিজস্ব সংকট আর আনন্দ-বেদনা আছে। পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে ভাষার মিল থাকলেই দৃষ্টিভঙ্গির মিল থাকতে হবে—এমন কোনো নিয়ম নেই। সম্পর্কটা হওয়া উচিত সমমর্যাদার দুই প্রতিবেশীর, গুরু-শিষ্যের নয়।

ইসলামি পরিচয়কে প্রতিপক্ষ বানিয়ে ফেলা

গত পঞ্চাশ বছরে আমাদের সাংস্কৃতিক চর্চার একটি অংশে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ইসলামি পরিচয়কে অনেক সময় আধুনিক বাঙালি সংস্কৃতির প্রতিপক্ষ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। অথচ বাঙালি, বাংলাদেশি এবং মুসলমান—এই পরিচয়গুলো পরস্পরের বিরোধী নয়; এগুলো একজন মানুষের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই পাশাপাশি থাকতে পারে।

আমাদের এমন একটি সাংস্কৃতিক পরিবেশ দরকার, যেখানে আধুনিক হতে গিয়ে কাউকে তার ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে সংকোচ বোধ করতে হবে না, আবার ধর্মীয় হতে গিয়ে সাহিত্য, সংগীত, শিল্প ও সৃজনশীলতাকেও প্রত্যাখ্যান করতে হবে না। একই সঙ্গে আমাদের নতুন প্রজন্মকে মুসলিম বিশ্বের শতাব্দীব্যাপী সাহিত্য, সংগীত, শিল্প, স্থাপত্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গেও পরিচিত করতে হবে। পারস্য, তুরস্ক, আরব বিশ্ব, মধ্য এশিয়া, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মুসলিম সমাজগুলো যে বিশাল এবং বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার গড়ে তুলেছে, তার সঙ্গে পরিচয় আমাদের সাংস্কৃতিক দৃষ্টিভঙ্গিকে আরো বিস্তৃত করবে। এতে আমরা শুধু নিজেদের শিকড়কেই নতুনভাবে চিনব না, বরং বুঝতে পারব যে ধর্মীয় পরিচয় এবং সৃজনশীল সংস্কৃতি ইতিহাসে কখনোই পরস্পরের স্বাভাবিক শত্রু ছিল না।

যেকোনো সমাজে সাংস্কৃতিক চর্চা শুধু বিনোদনের বিষয় নয়। সাহিত্য, সংগীত, চলচ্চিত্র, নাটক, শিল্পকলা ও অন্যান্য সৃজনশীল কর্মের মাধ্যমে একটি সমাজ নিজের ইতিহাস, মূল্যবোধ, পরিচয় এবং ভবিষ্যৎ সম্পর্কে একটি বয়ান বা ন্যারেটিভ তৈরি করে। এই বয়ানই ধীরে ধীরে মানুষের মধ্যে জাতীয় আত্মবিশ্বাস, আত্মপরিচয় এবং নিজের সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধ গড়ে তুলতে সাহায্য করে।

একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম জাতির জন্য এই সাংস্কৃতিক আত্মবিশ্বাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ যে জাতি নিজের ইতিহাস, অভিজ্ঞতা ও মূল্যবোধকে নিজের ভাষায় প্রকাশ করতে পারে, সে অন্যের দৃষ্টিভঙ্গির ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল হয়ে পড়ে না। রাজনৈতিক স্বাধীনতার পাশাপাশি এই মানসিক ও সাংস্কৃতিক স্বাধীনতাও একটি জাতির সার্বভৌম সত্তাকে শক্তিশালী করে।

ইসলামি সংস্কৃতি সম্পর্কে সীমিত ধারণা ও অতিরিক্ত রক্ষণশীলতা

সমস্যা শুধু বাইরের সাংস্কৃতিক প্রভাব নয়। বিশ্বের অন্যান্য মুসলিম সমাজের তুলনায় আমাদের অনেকের মধ্যে ইসলামি কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও সৃজনশীল ঐতিহ্য সম্পর্কে ধারণা তুলনামূলকভাবে সীমিত। এর ফলে কখনো কখনো সংগীত, অভিনয়, চিত্রকলা ও অন্যান্য সৃজনশীল শিল্পকে অযথা সন্দেহের চোখে দেখা হয় এবং তৈরি হয় অতিরিক্ত এবং অবাস্তব রক্ষণশীলতা।

এর প্রভাব নতুন প্রজন্মের ওপরও পড়ে। তাদের অনেকের মধ্যে এমন ধারণা তৈরি হতে পারে যে ধর্ম ও সংস্কৃতির মধ্যে সংঘাত যেন অনিবার্য। অথচ ধর্মীয় মূল্যবোধ বজায় রেখেও সাহিত্য, সংগীত, শিল্প ও অন্যান্য সৃজনশীল চর্চাকে সমৃদ্ধ করা সম্ভব এবং পৃথিবীর বিভিন্ন মুসলিম দেশ সেটি সফলতার সঙ্গে করছে।

তাই সমাধান ধর্মকে সংস্কৃতির শত্রু বানানো নয়। আবার সংস্কৃতির নামে ধর্মীয় অনুভূতিকে অবজ্ঞা করাও নয়। প্রয়োজন জ্ঞানের পরিসর বাড়ানো এবং মুসলিম বিশ্বের বহুমাত্রিক সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতার সঙ্গে পরিচিত হওয়া। তুরস্ক, ইরান, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন মুসলিম সমাজে ধর্মীয় ঐতিহ্যের পাশাপাশি চলচ্চিত্র, সংগীত, সাহিত্য, নাটক, শিল্পকলা ও অন্যান্য সাংস্কৃতিক চর্চাও বিকশিত হয়েছে। এসব অভিজ্ঞতা আমাদের দেখায় যে ধর্মীয় পরিচয় ও সৃজনশীল সংস্কৃতিকে পরস্পরের প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখার প্রয়োজন নেই।

আমাদের সাংস্কৃতিক যোগাযোগ শুধু পশ্চিমবঙ্গ বা পশ্চিমা বিশ্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। মুসলিম বিশ্বের শিল্পী, লেখক, সংগীতজ্ঞ, চলচ্চিত্র নির্মাতা ও গবেষকদের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ, সাংস্কৃতিক বিনিময়, যৌথ উৎসব ও কর্মশালার সুযোগ বাড়ানো দরকার। এতে আমাদের নিজেদের সাংস্কৃতিক দৃষ্টিভঙ্গিও আরো বিস্তৃত ও আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠবে।

একটি জাতীয় ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা

এবার সমস্যা নয়, সমাধানের কথা। এই প্রেক্ষিতে আমাদের প্রস্তাব : একটি জাতীয় ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা।

বাংলাদেশে একটি আন্তর্জাতিক মানের জাতীয় ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র (National Islamic Cultural Centre) প্রতিষ্ঠার। এটি ইসলামি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য আর আধুনিক সৃজনশীল শিল্পের মধ্যে একটি সেতু হিসেবে কাজ করবে।

এখানে থাকতে পারে : উন্নত মানের উপস্থাপনা ও যোগাযোগ দক্ষতা উন্নয়ন কেন্দ্র

যেখানে তরুণদের বক্তৃতা, উপস্থাপনা, সঞ্চালনা, বিতর্ক, গণযোগাযোগ ও মিডিয়া-কমিউনিকেশনে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

• প্রামাণ্যচিত্র ও ভিজ্যুয়াল মিডিয়া নির্মাণকেন্দ্র

যেখানে বাংলাদেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি, সমাজ, ধর্মীয় ঐতিহ্য ও সমকালীন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে গবেষণাভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র, স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র এবং ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি করা হবে।

• সংগীত বিভাগ : যেখানে আমাদের নিজস্ব সাংস্কৃতিক ও নৈতিক মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ আধুনিক সংগীতচর্চা, রচনা ও প্রযোজনার সুযোগ থাকবে।

• শিশু-কিশোর অ্যানিমেশন ও ডিজিটাল স্টুডিও : যেখানে ইতিহাস, নৈতিক শিক্ষা, সাহিত্য ও মূল্যবোধভিত্তিক গল্পকে আধুনিক অ্যানিমেশন ও ভিজ্যুয়াল মাধ্যমে উপস্থাপন করা হবে।

• সাহিত্য, গবেষণা ও অনুবাদ কেন্দ্র : যার মাধ্যমে মুসলিম বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্য, চিন্তা ও সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা বাংলায় এবং বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ রচনা অন্যান্য ভাষায় পৌঁছে দেওয়া যাবে।

• গ্রাফিক নভেল ও সৃজনশীল প্রকাশনা বিভাগ : বিশেষ করে শিশু ও তরুণ প্রজন্মের কাছে ইতিহাস, আদর্শ, মনীষী ও গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাকে আকর্ষণীয়ভাবে তুলে ধরার জন্য।

• ইসলামিক শিল্পকলা, নকশা ও ক্যালিগ্রাফি চর্চাকেন্দ্র : যেখানে ঐতিহ্য ও আধুনিক শিল্পধারার সমন্বয়ে নতুন শিল্পী এবং ডিজাইনার তৈরি হবে।

ঐতিহাসিক নিদর্শনের গবেষণা, নথিভুক্তকরণ ও সংরক্ষণে ভূমিকা রাখা।

• তরুণ নির্মাতা, শিল্পী ও লেখকদের জন্য ফেলোশিপ এবং সৃজনশীল অনুদান : যাতে নতুন ধারণা শুধু আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে চলচ্চিত্র, বই, সংগীত, নাটক, অ্যানিমেশন কিংবা ডিজিটাল মাধ্যমে বাস্তব রূপ পায়।

• ইসলামিক স্থাপত্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ প্রকল্প : যার কাজ হবে বাংলাদেশের মসজিদ, স্থাপত্য, প্রত্নঐতিহ্য ও এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথাটা হলো—নতুন প্রজন্ম এখানে প্রশিক্ষিত হবে, নিজে কিছু তৈরি করার সুযোগ পাবে, নিজের আদর্শিক ও নৈতিক মূল্যবোধকে সৃজনশীলভাবে প্রকাশ করার সুযোগ পাবে।

প্রতিষ্ঠানটি হবে স্বাধীন, স্বায়ত্তশাসিত ও স্বচ্ছভাবে পরিচালিত। প্রাথমিক অর্থায়ন করবে সরকার, তবে পরিচালনায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকবে না।

শিল্পী, লেখক ও গবেষকদের নিয়ে স্বাধীন পরিচালনা বোর্ড থাকবে। দায়িত্ব ও অনুদান বণ্টন হবে যোগ্যতা, প্রতিভা, স্বচ্ছতা ও প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে—রাজনৈতিক পরিচয়ে নয়।

এই লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ শুরু হলে এবং এই কেন্দ্রটি দাঁড়াতে পারলে, কয়েক বছরের অভিজ্ঞতার পর এটিই রূপ নিতে পারে একটি পূর্ণাঙ্গ ইসলামি কালচারেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (Islamic Cultural University)।

জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশে এটি একটি সুযোগ। বর্তমান সরকার এর সূচনা করতে পারে, কিন্তু এটি হতে হবে স্থায়ী জাতীয় প্রতিষ্ঠান—সরকার বদলের পরও যা টিকে থাকবে, প্রজন্মের পর প্রজন্মের সম্পদ হয়ে।

এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথাটা হলো—নতুন প্রজন্ম এখানে প্রশিক্ষিত হবে, নিজে কিছু তৈরি করার সুযোগ পাবে, নিজের আদর্শিক ও নৈতিক মূল্যবোধকে সৃজনশীলভাবে প্রকাশ করার সুযোগ পাবে।

প্রতিষ্ঠানটি হবে স্বাধীন, স্বায়ত্তশাসিত ও স্বচ্ছভাবে পরিচালিত। প্রাথমিক অর্থায়ন করবে সরকার, তবে পরিচালনায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকবে না।

জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশে এটি একটি সুযোগ। বর্তমান সরকার এর সূচনা করতে পারে, কিন্তু এটি হতে হবে দলনিরপেক্ষ স্থায়ী জাতীয় প্রতিষ্ঠান—সরকার বদলের পরও যা টিকে থাকবে, প্রজন্মের পর প্রজন্মের সম্পদ হয়ে। নিজের সংস্কৃতির বিকাশ নিজেরাই করতে হবে। উত্তর একটাই—নিজেদের সক্ষমতা তৈরি করা। অন্যরা ভালো সিনেমা বানালে আমরা তার চেয়েও ভালো আকর্ষণীয় বানানোর চেষ্টা করব। মিসর, তুরস্ক-ইরান-ইন্দোনেশিয়া ভালো কিছু করলে আমরা তা থেকে শিখব। তারপর নিজেদের ইতিহাস, বিশ্বাস আর সৃজনশীলতা দিয়ে গড়ব নিজের সৃষ্টি।

জুলাই আমাদের রাজনৈতিক আত্মমর্যাদার কথা মনে করিয়ে দিয়েছে। এবার সেই আত্মবিশ্বাস আসুক সাংস্কৃতিক জগতেও।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন