ভারতপ্রেমীদের গুপ্ত আশঙ্কা

ভারতপ্রেমীদের গুপ্ত আশঙ্কা

মক্কা জোটে বাংলাদেশের যোগ দেওয়া উচিত কি না, এ বিষয়ে অনেক বাংলাদেশির লেখার মূল বিষয় হলো ভারত। এ চুক্তিতে বাংলাদেশ যোগ দিলে ভারতের কী কী সমস্যা হতে পারে, তা নিয়ে তারা ভীষণ উদ্বিগ্ন। বাংলাদেশের নিরাপত্তা তাদের কাছে কোনো বিষয় নয়; ভারতের নিরাপত্তা এর ফলে কীভাবে বিঘ্নিত হতে পারে, সেটা তাদের কাছে প্রধান বিবেচ্য বিষয়। তাই অনেকে ঢাকাকে পরামর্শ দিয়ে লিখেছেন, এ চুক্তিতে বাংলাদেশের যোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে ভারতের উদ্বেগের বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে।

বিজ্ঞাপন

মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশ যদি যোগ দেয়, তবে সেক্ষেত্রে অন্যতম বিবেচ্য বিষয় হলো—ভারতের আধিপত্য ও আগ্রাসন হুমকি মোকাবিলা করা। মক্কা জোট কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে অবশ্যই বিতর্ক রয়েছে। তবে ভারতপ্রেমী অনেকের গুপ্ত আশঙ্কা হলো—বাংলাদেশ মক্কা চুক্তিতে যোগ দিলে ভারতের পূর্ব সীমান্তে আরেকটি পাকিস্তান হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে বাংলাদেশ। ফলে ১৯৭১ সালে ভারত যে কারণে পাকিস্তানকে ভেঙেছিল তা অকার্যকর হয়ে যাবে। বাংলাদেশে বৃদ্ধি পাবে পাকিস্তানের প্রভাব ও ভারতবিরোধী তৎপরতা।

সত্যিই যদি এমনটা ঘটে, তবে তা বাস্তবিকই ভারতের জন্য খুবই দুশ্চিন্তার বিষয়। এ বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল গত ২৮ আগস্ট সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, ‘আমরা সব ঘটনার ওপর ঘনিষ্ঠভাবে নজর রাখছি। বিশেষ করে তা যদি ভারতের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বিষয় হয়। নিরাপত্তা সুরক্ষায় আমরা প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নিয়ে থাকি।’

ভারতপ্রেমী অনেকেই তাই বাংলাদেশকে ভয় দেখাতে শুরু করেছে, সম্ভাব্য এ ধরনের পরিস্থিতি ঘিরে ঢাকা অজানা এক জটিল পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারে। নিরাপত্তা সংকট কাটাতে গিয়ে উল্টো বাংলাদেশ পড়তে পারে বড় ধরনের নিরাপত্তা সংকটে। এ চুক্তির ফলে বাংলাদেশ সরাসরি ভারতের মুখোমুখি অবস্থানে চলে যাবে। তাই তাদের অনেকের সাফ কথা—কোনো অবস্থাতেই বাংলাদেশের এ চুক্তিতে যোগ দেওয়া উচিত নয়।

ভারতের নীতিনির্ধারণী মহলের অনেকে বাংলাদেশের অস্তিত্বকেই তাদের ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি হিসেবে মনে করে। সে কারণে ভারত বাংলাদেশকে সবসময় তাদের পদানত করে রাখতে চেয়েছে। চব্বিশের জুলাই বিপ্লবে তাদের অনুগত মাফিয়া শাসক শেখ হাসিনার পতনের পর বাংলাদেশের বিরুদ্ধে আজ অবধি প্রকাশ্যে ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে। এ অবস্থায় মক্কা জোটে যোগ দেওয়া বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতের অব্যাহত ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে হতে পারে একটি উপযুক্ত পদক্ষেপ। মক্কা জোটে বাংলাদেশ যোগ দিলে ভারত অবশ্যই সেটাকে তার নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করবে। বাংলাদেশ সীমান্ত ঘিরে ভারতের নতুন করে সামরিক পরিকল্পনা ও বিশাল আয়োজনের প্রয়োজন হবে। ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাবে তাদের সামরিক ব্যয়। মক্কা জোটে বাংলাদেশ যোগ দিলে সৃষ্ট নিরাপত্তা সংকট ভারত কীভাবে মোকাবেলা করবে, সেটা ভারতের বিষয়। ভারতের নিরাপত্তা সংকট দেখার দায়িত্ব বাংলাদেশের নয়। বাংলাদেশের কাজ তার নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশ যোগ দিলে সেটা ভারতের জন্য নিরাপত্তা সংকট সৃষ্টি করবে, সে কারণে কি বাংলাদেশ এ চুক্তিতে যোগ দেওয়া থেকে বিরত থাকবে? ভারতপ্রেমীদের আবদার সেরকমই।

চব্বিশের জুলাই বিপ্লবের পর পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্রুত সম্পর্কের উন্নতি সহজে

মেনে নিতে পারছে না দিল্লি। ভারতের পরিবর্তে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম চীন সফরের পর এ দেশে ভারতপ্রেমীদের মধ্যে একধরনের হাহাকার পড়ে যায়। এই সফর ভারতের জন্যও ছিল একটি বড় ধরনের বার্তা। এরপর নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে বারবার তারেক রহমানের ভারত সফরের উদ্যোগ নিয়েও সফল হয়নি। এরই মধ্যে সামনে আসে মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশের যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে নানামুখী আলোচনা, যা এ দেশের ভারতপ্রেমীদের সত্যি দিশাহারা করে তোলে। এই যখন অবস্থা, তখন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন উপলক্ষে নিউ ইয়র্ক সফররত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মঙ্গলবার বৈঠক করলেন মক্কাজোটের অন্যতম সদস্যদেশ তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইপ এরদোয়ানের সঙ্গে। বৈঠকে অন্যান্য অনেক বিষয়ের সঙ্গে দুই নেতা আলোচনা করেছেন প্রতিরক্ষা নিয়ে। বৃহস্পতিবার তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা মক্কা জোটের অন্য গুরুত্বপূর্ণ সদস্য পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে।

৭ আগস্ট সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক মক্কা চুক্তি স্বাক্ষরের পর প্রথমে স্পর্শকাতর যে বিষয়টি সামনে আসে তা হলো ইরান। বিভিন্ন মহল থেকে একে ইরানবিরোধী একটি জোট হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়। ফলে এ ধরনের একটি জোটে বাংলাদেশের যোগ দেওয়ার বহুমাত্রিক ঝুঁকির বিষয় সামনে আসে। কিন্তু এখন পর্যন্ত ইরানের পক্ষ থেকে এ চুক্তির বিষয়ে যে মনোভাব সামনে এসেছে, তাতে ইরান মোটেই একে ইরানবিরোধী জোট হিসেবে মনে করছে না; বরং ইরান এ জোটকে পরোক্ষভাবে সমর্থন দিয়েছে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য একেবারেই পরিষ্কার ও স্পষ্ট বার্তা বহন করছে। তিনি বলেছেন, ইরান একে তাদের বিরুদ্ধে কোনো জোট হিসেবে দেখছে না এবং এ জোট নিয়ে ইরান কোনো ধরনের উদ্বিগ্ন নয়। একই সঙ্গে এ জোটে বাংলাদেশ যোগ দিলে তাতেও ইরান উদ্বিগ্ন নয় বলে জানান ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেছেন, মক্কা চুক্তির মাধ্যমে দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের ওপর থেকে সামরিক নির্ভরতা কমিয়ে নিজেদের ওপর নির্ভরশীল হতে চাচ্ছে। আর এটা অনেক আগে থেকেই ইরান দাবি করে আসছে।

এ ক্ষেত্রে স্মরণ করা যেতে পারে, এক দশক আগে ইরান মধ্যপ্রাচ্য থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি সরাতে একটি আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা জোট গঠনের উদ্যোগ নিয়েছিল। ইরাক, সিরিয়া, ইয়েমেন, লেবাননকে নিয়ে ইরান অগ্রসর হওয়ায় একে তখন আরবরা শিয়া জোট হিসেবে দেখে এবং উদ্যোগটি সফল হয়নি।

মক্কা চুক্তির বিষয়ে সবাই একটি বিষয়ে একমত যে, এ চুক্তির অন্যতম একটি দিক হলো যুক্তরাষ্ট্রের ওপর থেকে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষানির্ভরতা কমিয়ে আনা। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে ইরানের অন্যতম একটি শর্ত ছিল মধ্যপ্রাচ্য থেকে স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি ও সেনা সরিয়ে নেওয়া। আর যেখানে মক্কা চুক্তির ফলে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর সৌদি আরবের নির্ভরতা কমবে, সেখানে ইরান এ চুক্তির বিরোধিতা করবে না, সেটাই স্বাভাবিক। তাছাড়া যারা বলছেন, এটি একটি ইরানবিরোধী জোট, তারা একটি দিক একেবারেই ভুলে গেছেন। সেটা হলো চুক্তির অপর দুই দেশ তুরস্ক ও পাকিস্তান উভয় দেশ ইরানের ঘনিষ্ঠ। সুতরাং তারা এটাকে ইরানবিরোধী জোটে পরিণত হতে দেবে না, সেটা খুবই স্বাভাবিক। তাছাড়া ইরানে ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্র আগ্রাসনের আগে ২০২৩ সালের মার্চ মাসে চীনের মধ্যস্থতায় ইরান-সৌদি শত্রুতার অবসান ঘটে এবং সম্পর্ক স্বাভাবিক হয় বেইজিং চুক্তির মাধ্যমে। বাহরাইনের মতো একসময়কার কট্টর ইরানবিরোধী দেশও ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে উদ্যোগ নেয়। সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতও ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করে তখন। ইরানে ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্র যৌথ আগ্রাসনের পর সৌদি আরব ও বাহরাইনে আমেরিকার সামরিক ঘাঁটি ব্যাপকভাবে ইরানের হামলার শিকার হয়।

কিন্তু খুবই লক্ষণীয় বিষয়, এ ধরনের হামলার ক্ষেত্রে সৌদি আরব ইরানের বিরুদ্ধে যে সংযমী নীতি অবলম্বন করেছে সেটা। ইসরাইলের একান্ত বাসনা ছিল সৌদি আরব যেন ইরানে হামলা করে। কিন্তু ইসরাইলের সে চাওয়া পূরণ করেনি রিয়াদ। এর পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, মক্কা জোট ইরানবিরোধী জোট হবে না। অনেকে বর্তমানে ইয়েমেনের হুথি ও সৌদি আরবের যুদ্ধকে সামনে এনেও দেখানোর চেষ্টা করছেন, মক্কা জোট অকার্যকর; কারণ হুথিবিরোধী যুদ্ধে সৌদি আরবের পাশে নেই তুরস্ক ও পাকিস্তান। কিন্তু এ ক্ষেত্রেও তারা ভুলে গেছেন সৌদি আরব-ইয়েমেন চলমান যুদ্ধের কারণ ও ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ অবস্থার বিষয়ে। ২০১১ সালে আরব বসন্তের জেরে ২০১৪ সালে সৌদি-সমর্থিত মনসুর হাদী সরকারের পতন ঘটিয়ে রাজধানী সানা দখল করে ইরানপন্থি হুথি বাহিনী। এরপর ২০১৫ সালে সৌদি আরব ইয়েমেনে হুথিদের বিরুদ্ধে বিমান হামলা শুরু করে দীর্ঘস্থায়ী এক অন্যায় যুদ্ধের সূচনা করে। ইয়েমেন বর্তমানে একক কোনো দল ও বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে নেই। দেশটি কয়েকটি রাজনৈতিক ও সামরিক উপদলে বিভক্ত এবং বিভিন্ন বাহিনী বিভিন্ন এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে। তার মধ্যে প্রধান হলো হুথি আর্মি, যারা রাজধানী সানা ও বাব আল মান্দাব প্রণালিসহ গুরুত্বপূর্ণ উপকূলীয় অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করছে। তাই সৌদি আরবে হুথি আর্মির হামলা সরাসরি ইয়েমেনের রাষ্ট্রীয় হামলা বলারও সুযোগ নেই।

স্বাধীনতা যুদ্ধে বাংলাদেশকে ভারতের সহায়তার মূল কারণ ছিল পাকিস্তান ভাঙা, যাতে পূর্ব সীমান্তে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে ভারতের নিরাপত্তা হুমকি চিরতরে দূর করা যায়। পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভের ফলে ভারত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভবিষ্যৎ যুদ্ধে দুই ফ্রন্টে হামলার ভীতি থেকে মুক্তি লাভ করে। পূর্ব পাকিস্তান সীমান্ত নিরাপত্তায় প্রতি বছর মাল্টি বিলিয়ন ডলারের সামরিক ব্যয় থেকে রক্ষা পায় ভারত। একই সঙ্গে ভারত স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে সেভেন সিস্টার্স বিচ্ছিন্নতার আশঙ্কা থেকে।

পাকিস্তান থেকে আলাদা হয়ে বাংলাদেশ যেন নিজেই আরেকটি পাকিস্তান হয়ে না ওঠে, সেজন্য দিল্লি সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নিয়ে অগ্রসর হতে থাকে। এ পরিকল্পনার কেন্দ্রে ছিল বাংলাদেশের ওপর এমনভাবে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা, যাতে বাংলাদেশ নামেমাত্র একটি স্বাধীন রাষ্ট্রে পরিণত হয়। বাংলাদেশ যেন ভারতের নিরাপত্তা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার জন্য কখনো হুমকি হয়ে না উঠতে পারে, তা নিশ্চিত করা। স্বাধীনতার পর শেখ মুজিবের শাসনামল এবং গত দেড় দশকে শেখ মুজিবকন্যা শেখ হাসিনার শাসনামলে মানুষ দেখেছে, কীভাবে বাংলাদেশের ওপর ভারত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছিল। নয়াদিল্লি কেবল বাংলাদেশের মসনদে তাদের অনুগতদের বসাতে চায়নি, বরং বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ সব ক্ষেত্রে তাদের একটি একান্ত অনুগত শ্রেণি তৈরির জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছে। গণমাধ্যম, সাংস্কৃতিক অঙ্গন, বিশ্ববিদ্যালয়, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা, বিচার, রাজনীতি, ব্যবসায়ী শ্রেণি, প্রশাসন থেকে শুরু করে সেনাবাহিনী পর্যন্ত সব ক্ষেত্রে তারা তাদের প্রতি চূড়ান্ত অনুগত বিশাল একটি বলয় তৈরি করেছে। শেখ হাসিনার পতনের পর আওয়ামী নেতাকর্মী থেকে শুরু করে কুখ্যাত কয়েকজন জেনারেলসহ বিভিন্ন সেক্টরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও ব্যক্তিবর্গের দলে দলে ভারতে আশ্রয় গ্রহণ প্রমাণ করছে, ভারত বাংলাদেশের সব ক্ষেত্রে কীভাবে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছিল।

চব্বিশের জুলাই বিপ্লবের পর বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভারতের কুখ্যাত ও চিহ্নিত অনেক এজেন্টরা

পালিয়ে গেছে। কিন্তু প্রশাসন, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে রয়ে গেছে মাফিয়া শাসক শেখ হাসিনার অনেক দোসররা। তারা কেবল শেখ হাসিনার দোসর নন, বরং একই সঙ্গে ভারতের দালাল ও এজেন্ট। জুলাই বিপ্লবের পর ফ্যাসিবাদ ও ভারতীয় এজেন্টদের নির্মূলে যে ধরনের শুদ্ধি অভিযান পরিচালনা করার প্রয়োজন ছিল, তা হয়নি। তাদের বিরুদ্ধে কোনো কঠোর অবস্থান না নেওয়ায় অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকেই তাদের অনেকে ধীরে ধীরে সরব হতে শুরু করে। অন্তর্বর্তী সরকারের উদাসীনতার সুযোগে মাফিয়া শাসক শেখ হাসিনার দোসর হিসেবে প্রকাশ্য ভূমিকা পালনকারী তথাকথিত বিভিন্ন গণমাধ্যম ধীরে ধীরে আবার স্বরূপে আবির্ভাবের চেষ্টা করে। এসব তথাকথিত অনেক গণমাধ্যমে শেখ হাসিনার দেড় যুগের গুম, খুন, আয়নাঘর, গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও সীমাহীন লুটপাট-বিষয়ক খবর যতটা না গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার অনিয়ম। বস্তুত এর মাধ্যমে তারা টার্গেট করে প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে। অন্তর্বর্তী সরকারের অনেক ভুল আর দোষ-ত্রুটি আছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে সবচেয়ে বড় ভুল হলো প্রকাশ্যে ফ্যাসিবাদের সরাসরি দোসর হিসেবে ভূমিকা পালনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া। এই ব্যর্থতার কারণেই আজ যাদের থাকার কথা বিচারের কাঠগড়ায়, তাদের অনেকে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে এবং পতিত ফ্যাসিবাদের পক্ষে বয়ান তৈরিসহ নানাভাবে ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।

লেখক: সহকারী সম্পাদক, আমার দেশ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন