মাহে রমজানে কেবল ইফতার নয়, ইতিহাস, চিন্তা ও দায়িত্ববোধকে সঙ্গে নিয়ে এক ব্যতিক্রমী আয়োজনের সাক্ষী হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলের মুসা খাঁ মসজিদ মাঠ প্রাঙ্গণ।
শুক্রবার বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ও পাঠকমেলা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এই ইফতার মাহফিল যেন হয়ে উঠেছিল নবীন ও প্রবীণদের এক প্রাণবন্ত মিলনমেলা।
লেখালেখির মানুষদের এই সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বিটিসিএলএফের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সম্মানিত উপদেষ্টা মো. খালেদ সাইফুল্লাহ ও কাব্য সাহা। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন আমার দেশ পাঠকমেলার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতৃবৃন্দ এবং স্টুডেন্ট ফর সভরেন্টির আহ্বায়ক মো. জিয়াউল হক। তাদের উপস্থিতি পুরো আয়োজনকে আরো অর্থবহ ও প্রাণবন্ত করে তোলে।
রমজানের পবিত্র আবহে আয়োজিত এই ইফতার শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা ছিল না, বরং ছিল পারস্পরিক সৌহার্দ, চিন্তার বিনিময় এবং সম্পর্কের বন্ধন দৃঢ় করার এক আন্তরিক প্রয়াস। পাঠকমেলার সদস্যদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই আয়োজনের প্রতিটি মুহূর্তে ফুটে উঠেছিল একতার অনুভূতি এবং সাহিত্যচর্চার প্রতি এক গভীর দায়বদ্ধতা।
ইফতার শেষে উপস্থিত সদস্যরা ভাষাবিদ, ভাষাবিজ্ঞানী, দার্শনিক ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর কবর জিয়ারত করেন এবং তার আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া করেন। এরপর ঐতিহাসিক বীর মুসা খাঁর সমাধির পাশে দাঁড়িয়ে তার জীবন, সংগ্রাম ও বীরত্ব নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন পাঠকমেলা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মো. খালেদ সাইফুল্লাহ। তার আলোচনায় উঠে আসে বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রামে মুসা খাঁর সাহসী ভূমিকা এবং তার স্মৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার প্রয়োজনীয়তা।
তবে ঐতিহাসিক এই বীরের সমাধি ও তার নামে নির্মিত মসজিদের বেহাল অবস্থা দেখে উপস্থিত সদস্যরা গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন। ইতিহাসের এই গুরুত্বপূর্ণ স্মারকগুলোর যথাযথ সংরক্ষণ নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করেন তারা এবং মুসা খাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা থেকে উপস্থিত ছিলেন সভাপতি মোফাজ্জল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সামিন ইয়াসার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফিয়াদ নওশাদ ইয়ামিন, সাংগঠনিক সম্পাদক কুশ কুমার, উপদপ্তর সম্পাদক নুর নাহার, অর্থ সম্পাদক ইমরান, সদস্য সেতু এবং অন্য নেতারা।
আয়োজনের শেষ পর্বে এক ভিন্নমাত্রা যোগ করেন ফোরামের সদস্য শাহিনূর পারভীন। তিনি উপস্থিত সদস্যদের মাঝে নিজের হাতে লেখা কাব্যগ্রন্থ উপহার দেন, যা পুরো আয়োজনকে আরো মানবিক ও স্মরণীয় করে তোলে।
ইতিহাস, সাহিত্য ও বন্ধনের এই মিলনমেলা শেষে অংশগ্রহণকারীদের অনুভূতি ছিল একটাই—বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম শুধু একটি সংগঠন নয়, বরং এটি এক চিন্তার পরিবার। আর পাঠকমেলার এই আয়োজন সেই পরিবারের বন্ধনকে আরো গভীর, আরো দৃঢ় করে তুলেছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

