দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, তেল-গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট এবং প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে দুর্নীতি ও দলীয়করণ বন্ধে সরকারের সদিচ্ছা ও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক।
তিনি বলেছেন, জনগণের ধর্মীয় অনুভূতি ও ইসলামী মূল্যবোধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কোনো বিতর্কিত সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া সমীচীন নয়। সম্প্রতি পাস হওয়া সম্পত্তি হস্তান্তর বিল নিয়ে দেশের আলেম-উলামা ও ধর্মপ্রাণ মানুষের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। সরকারের উচিত ওলামায়ে কেরামের সঙ্গে পরামর্শ করে বিষয়টি দ্রুত সংশোধন করা এবং জনমনে সৃষ্ট উদ্বেগের অবসান ঘটানো। অন্যথায় এ ইস্যুকে কেন্দ্র করে অস্থিরতা ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।
মঙ্গলবার ঢাকাস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের নিয়মিত মাসিক বৈঠকে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠক পরিচালনা করেন সংগঠনের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ।
মামুনুল হক বলেন, সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কার পরামর্শে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে, তা তাদের বোধগম্য নয়। জনগণের ধর্মীয় বিশ্বাস ও মূল্যবোধকে উপেক্ষা করে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা সরকারের জন্যও শুভ ফল বয়ে আনবে না। তাই এ বিষয়ে ওলামায়ে কেরামের সঙ্গে অর্থবহ আলোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আওয়ামী ফ্যাসিবাদী শাসনের পতনের পর দেশে একটি স্থিতিশীল ও গণমুখী রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশায় বিভিন্ন যৌক্তিক দাবি ও রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও বৃহত্তর স্বার্থে তারা সরকারকে সহযোগিতা করেছেন। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই তেল-গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং নানা অনিয়ম-দুর্নীতিতে জনমনে ব্যাপক অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
মামুনুল হক বলেন, এর মধ্যে মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করতে পারে—এমন বিতর্কিত আইন প্রণয়নের উদ্যোগ অত্যন্ত হতাশাজনক ও আত্মঘাতী। সরকারের উচিত জনগণের ধর্মীয় অনুভূতি ও মূল্যবোধের প্রতি সম্মান রেখে যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা।
দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপের আহ্বান
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে উল্লেখ করে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে। একই সঙ্গে তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য ও জনজীবনে বিরূপ প্রভাব ফেলছে।
তিনি বলেন, এসব সংকট সমাধানে সরকারকে শুধু আশ্বাস দিলে হবে না। সুনির্দিষ্ট ও বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে এবং তা বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
দুর্নীতি-দলীয়করণ বন্ধের দাবি
দুর্নীতি ও দলীয়করণ বন্ধ করাকে সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করেন মামুনুল হক।
তিনি বলেন, প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে দলীয় পরিচয়ের প্রভাব, দুর্নীতি ও অনিয়ম কঠোর হাতে দমন করা না হলে ফ্যাসিবাদী শাসনের পতনের পর রাষ্ট্র ও প্রশাসনে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন কোথায়—এ প্রশ্ন জনগণের মধ্যে আরও জোরালো হবে।
তিনি বলেন, জনগণ পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতির পুনরাবৃত্তি দেখতে চায় না। সরকারকে জনগণের প্রত্যাশা উপলব্ধি করে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
মামুনুল হক আরও বলেন, রাষ্ট্র ও প্রশাসনের সর্বস্তরে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। অন্যথায় জনমনে সৃষ্ট অসন্তোষ ভবিষ্যতে নতুন করে গণআন্দোলনের পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।
কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে আরও বক্তব্য রাখেন নায়েবে আমীর মুফতি সাঈদ নূর, মাওলানা মাহবুবুল হক, মাওলানা কুরবান আলী, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন ও মুফতি শরাফত হোসাইন, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুর রহমান হেলাল, মাওলানা এনামুল হক মূসা, মাওলানা নেয়ামতুল্লাহ, মাওলানা মুহসিনুল হাসান, মাওলানা আবুল হাসানাত জালালী, মাওলানা মুহাম্মদ ফয়সল, মাওলানা আবু সাঈদ নোমান ও মাওলানা উজাইর আমীন।
এ ছাড়া প্রকাশনা সম্পাদক মাওলানা হারুনুর রশীদ ভূঁইয়া, অফিস সম্পাদক মাওলানা রুহুল আমীন খান, আইন বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা শরীফ হোসাইন, প্রচার সম্পাদক মাওলানা হাসান জুনাইদ, সহ-প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাওলানা নুর মুহাম্মাদ আজীজ এবং সহকারী বায়তুলমাল সম্পাদক ক্বারী হোসাইন আহমদ বক্তব্য রাখেন।
বৈঠকে নির্বাহী সদস্য মুফতি নূর হোসাইন নুরানি, মাওলানা আব্দুল মুমিন, মাওলানা আমজাদ হোসাইন, মাওলানা আব্দুস সোবহান, মাওলানা মুহসিন উদ্দীন বেলালী, মাওলানা মামুনুর রশীদ, মাওলানা আনোয়ার মাহমুদ, মাওলানা মোহাম্মদ আলী, মাওলানা হোসাইন আহমদ, মাওলানা মঈনুল ইসলাম খন্দকার, মাওলানা আজিজুল হক, মাওলানা শহিদুল ইসলাম, মাওলানা ছানাউল্লাহ আমিনী, মাওলানা মুর্শিদুল আলম সিদ্দীক ও মাওলানা জাহিদুজ্জামান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


