‘আবার গণভোটের কথা বলে সরকার দেশকে সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে, জনগণ জবাব দেবে’

‘আবার গণভোটের কথা বলে সরকার দেশকে সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে, জনগণ জবাব দেবে’

সংবিধান সংশোধনে আবার গণভোটের কথা বলে সরকার দেশকে নতুন সংকটের দিকে নিয়ে যেতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। সময়মতো জনগণই এর জবাব দেবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এসএসসি, দাখিল ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া শ্রমিক পরিবারের কৃতি সন্তানদের ‘অদম্য মেধাবী সংবর্ধনা ও বৃত্তি প্রদান’ অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি। বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটকে উপেক্ষা করে বিএনপি জাতির সঙ্গে প্রতারণা করছে। গণভোটের গণরায় না মানা বিএনপির প্রথম ভুল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, ক্ষমতায় আসার পর সরকারের ব্যর্থতার কারণে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। কোথাও জনগণের নিরাপত্তা নেই। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজের মন্ত্রণালয়ের কাজ বাদ দিয়ে সংবিধান নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

বর্তমান পরিস্থিতিতে মনে হচ্ছে দেশে কোনো সরকার নেই—মন্তব্য করে গোলাম পরওয়ার বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণে জনগণ এরই মধ্যে সরকারের ওপর আস্থা হারাতে শুরু করেছে।

অনুষ্ঠানে ফরিদপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ড. ইলিয়াস মোল্লা বলেন, আজ যারা শ্রমিক পরিবারের সন্তান হিসেবে এখানে সংবর্ধনা নিচ্ছে, তাদের অনেকেই একদিন দেশের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় অবস্থান করবে। আমরা যদি গ্রাম থেকে উঠে এসে আজ তোমাদের সামনে বক্তব্য দিতে পারি, তাহলে তোমরাও একদিন এই জায়গায় দাঁড়াতে পারবে।

নিজের শিক্ষাজীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, রসায়নের ছাত্র হিসেবে পড়াশোনার সময় কেউ তাকে বলেনি যে, মানুষকে আল্লাহর প্রতিনিধি হিসেবে পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছে এবং আল্লাহর গোলামি করতে হবে। পরবর্তীতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি ছাত্রশিবিরের মতো একটি ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের’ সন্ধান পেয়েছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

অ্যাডভোকেট শিশির মনির বলেন, আগামীর ব্যতিক্রমী বাংলাদেশ নতুন করে সাজাতে হলে দক্ষ, যোগ্য, ব্যতিক্রমী এবং দীর্ঘদিন অযত্নে-অবহেলায় পড়ে থাকা গুণী মানুষদের যোগ্য জায়গায় বসাতে হবে।

তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, এত বড় একটি বিপ্লবের পরও কেন ব্যতিক্রমী বাংলাদেশ সাজানো হলো না? এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, আগের সেই ব্যক্তিরাই বিভিন্ন জায়গায় বসে আছেন।

তিনি বলেন, শ্রমিকদের সন্তানদের গ্রাম থেকে ঢাকায় এনে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবর্ধনা দেওয়া হচ্ছে। দেশে বহু শ্রমিক সংগঠন থাকলেও বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন শ্রমিকদের সন্তানদের সম্মানিত করেছে। এটিই ব্যতিক্রমী নতুন বাংলাদেশ গড়ার একটি দৃষ্টান্ত। এর মাধ্যমে শ্রমিকদেরও মর্যাদা দেওয়া হয়েছে।

সংবিধান সংস্কারের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংবিধান সংস্কারের কথা শুনলেই অনেকে এমনভাবে চিন্তিত হয়ে পড়েন, যেন চেয়ার ছেড়ে দিতে হবে। চেয়ার যেন সুপার গ্লু দিয়ে আঁকড়ে ধরে রাখা হয়েছে। এভাবে ব্যতিক্রমী বাংলাদেশ তৈরি হবে না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি ও জামায়াত মনোনীত ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী সাদিক কায়েম বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেন।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে বছরে প্রায় চার হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয় দাবি করে সাদিক কায়েম বলেন, সেই অর্থও চাঁদাবাজির মাধ্যমে লুটে নেওয়া হচ্ছে। এমনকি বাসাবাড়ির ময়লা পরিষ্কারের গাড়িও দখল করে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, দেশের মানুষকে এসব দখলদার ও চাঁদাবাজদের হাত থেকে মুক্ত করতে হবে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক লস্কর মোহাম্মদ তসলিমের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ড. মাওলানা মোহাম্মদ খলিলুর রহমান মাদানী, বিলসের নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ, ইবনে সিনার সহযোগী অধ্যাপক ডা. হাসান আল বান্না এবং শিবিরের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক আজিজুর রহমান আজাদ প্রমুখ।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন