সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) ও দুর্নীতি দমন কমিশনসহ (দুদক) সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে দলীয় নিয়োগ বন্ধে নিরপেক্ষ নিয়োগপ্রক্রিয়ার প্রস্তাবনায় বিএনপির দ্বিমতের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। সংগঠনটি বলেছে, সংস্কারবিরোধী অবস্থান জুলাই ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থি।
সোমবার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক হাসান ইনামের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলা হয়।
সোমবার দুপুরে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে নিরপেক্ষ নিয়োগ পদ্ধতি সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করার আলোচনা বিএনপির কিছু সময়ের জন্য ওয়াকআউট করার কথা উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সাধারণত এ ধরনের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রয়োজন মেধাবী ও দক্ষদের নিরপেক্ষভাবে নিয়োগ। কিন্তু আমরা স্বাধীনতার পরবর্তী পাঁচ দশকে দেখেছি, দলীয় নিয়োগের ফলে এই প্রতিষ্ঠানগুলো কখনও নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে পারেনি।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন বলেছে, বিশেষ করে, বিগত আওয়ামী লীগ ফ্যাসিস্ট আমলে এসব সংস্থা আরও বিতর্কিত হয়ে ওঠে। যার ভুক্তভোগী শুধু সাধারণ ছাত্রছাত্রী নয়; বরং জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম অংশীজন বিএনপি এবং তাদের পরিবারগুলোর সদস্যরাও। ফলত, জনপ্রশাসনসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন খাতে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রভাবে বিএনপিকেও দীর্ঘ সময় ক্ষমতার বাহিরে অবস্থান করতে হয়েছে।
সংগঠনটি স্মরণ করিয়ে দিয়েছে, '২৪-এর জুলাই ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সূচনাই হয়েছিল পিএসসির সংস্কার ও দলীয় নিয়োগ বন্ধের দাবিকে কেন্দ্র করে; যা পরবর্তীতে রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন মনে করে, বিএনপির এই সংস্কারবিরোধী অবস্থান জুলাই আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থি, যার জন্য তারা পুরো জাতির কাছে দায়বদ্ধ থাকবে। তাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম অংশীজন বিএনপির প্রতি জনগণের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে অবিলম্বে এই আত্মঘাতী অবস্থান থেকে সরে দলীয় অবস্থান পর্যালোচনা করে নিরপেক্ষ সংস্কারের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

