ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন বলেছেন, ‘মাদক কেবল একজন ব্যক্তিকে ধ্বংস করে না, বরং পুরো পরিবার ও সমাজকে পঙ্গু করে দেয়। তরুণ সমাজকে মাদকের করাল গ্রাস থেকে ফিরিয়ে আনতে না পারলে শুধু পরিবার নয়, পুরো সমাজব্যবস্থাই ধসে পড়বে।’ তরুণ প্রজন্মকে এই ব্যাধি থেকে দূরে রাখতে আইনি কঠোরপ্রয়োগের পাশাপাশি পাড়ায়-মহল্লায় খেলাধুলা ও সুস্থ সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। মাদক নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও তরুণদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই একটি মাদকমুক্ত সমাজ গঠন করা সম্ভব।
শুক্রবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তের এটিএম শামসুল হক হলে ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ: চ্যালেঞ্জ ও করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘মাদককে না বলি, মাদকযুক্ত বাংলাদেশ গড়ি’ স্লোগানে সেমিনারটির আয়োজন করে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি। এতে সহযোগিতা করে স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ ডিবেটিং সোসাইটি এবং ইডেন মহিলা কলেজ ডিবেটিং ক্লাব। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।
নিজের নির্বাচনি এলাকার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ইশরাক হোসেন বলেন, ‘ঢাকা-৬ আসনের গেন্ডারিয়ার ঘুণ্টিঘর এলাকায় মাদকের বিস্তার একসময় ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। জুরাইন রেলগেট থেকে গেন্ডারিয়া ঘুণ্টিঘর পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। রাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রাচীর টপকে অল্পবয়সী শিক্ষার্থী ও তরুণ-তরুণীদের সেখানে প্রবেশ করে মাদক সেবনের দৃশ্য দেখে আমি সত্যিই উদ্বিগ্ন হয়েছি। মাদক বিক্রেতারাও সেখানে অবাধে প্রবেশ করে মাদক বেচাকেনা করছে।’
মাদকের সরবরাহ ও পরিবহনব্যবস্থার ওপর নজরদারি বাড়ানোর তাগিদ দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘মাদকের চাহিদা থাকলে সরবরাহও থাকবে। বিশ্বের কোনো দেশেই শতভাগ মাদক নির্মূল করা সম্ভব হয়নি, তবে সরবরাহব্যবস্থা কঠোর হাতে নিয়ন্ত্রণে এনে মাদকের বিস্তার অবশ্যই ঠেকাতে হবে।’
সেমিনারে প্রধান বক্তার বক্তব্যে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফ বলেন, ‘মাদক দমনে বর্তমানে বেশ কিছু নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ডিজিটাল প্রযুক্তির অপব্যবহার করে মাদকের নেটওয়ার্ক বিস্তারের যে নতুন প্রবণতা দেখা দিয়েছে, তা মোকাবিলায় আমাদের অধিদপ্তর নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তবে শুধু আইন প্রয়োগকারী সংস্থা দিয়ে মাদক পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব নয়; এর জন্য প্রতিটি পরিবারে সচেতনতা তৈরি করা সবচেয়ে বেশি জরুরি।’
সেমিনারের মুক্ত আলোচনা পর্বে বক্তারা বলেন, বর্তমানে ইয়াবা, গাঁজা, ক্রিস্টাল মেথ (আইস), এলএসডি, মরফিন, প্যাথিডিন ও ব্রাউন সুগারের মতো নানা মাদকের সহজলভ্যতা সবাইকে গভীরভাবে ভাবিয়ে তুলছে। মাদকের প্রভাবে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাং কালচার, ধর্ষণ ও অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহারসহ নানামুখী সামাজিক অপরাধ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে।
মাদকের চাহিদা ও জোগান কমাতে সীমান্ত এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও কঠোর হওয়ার আহ্বান জানান বক্তারা। পাশাপাশি প্রতিটি পরিবারকে তাদের সন্তানদের প্রতি আরও যত্নশীল ও সচেতন হওয়ার ওপর জোর দিয়ে তাঁরা বলেন, আসক্ত তরুণদের সঠিক চিকিৎসা ও কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে মূল ধারায় ফিরিয়ে আনতে হবে, তবেই একটি সুস্থ ও সুন্দর ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


