এদেশে ভারত-পাকিস্তানপন্থি কারো ঠাঁই হবে না: নাহিদ

এদেশে ভারত-পাকিস্তানপন্থি কারো ঠাঁই হবে না: নাহিদ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, বাংলাদেশে ভারত-পাকিস্তানপন্থি কারো ঠাঁই হবে না। শুক্রবার সন্ধ্যায় মানিক মিয়া এভিনিউয়ে নতুন রাজনৈতিক দল এনসিপির আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

এর আগে নাহিদ ইসলামকে আহ্বায়ক ও আখতার হোসেনকে সদস্যসচিব করে জাতীয় নাগরিক পার্টির আংশিক কমিটির নাম ঘোষণা করেন শহীদ ইসমাইল হোসেন রাব্বির বোন মীম আক্তার।

বিজ্ঞাপন
3697

নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা সাম্যের কথা, সম্ভাবনার কথা ও স্বপ্নের কথা বলতে চাই। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে আজ আমরা এখানে এসেছি। গত ১৫ বছর দেশে যে বিভাজনের রাজনীতির ষড়যন্ত্র কায়েম করা হয়েছিল জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে ঐক্যবদ্ধভাবে আমরা তা ভেঙে দিয়েছি।

নুসরাত তাবাসসুম বলেন, আমরা চাই আমাদের মধ্যে ভালো কাজের প্রতিযোগিতা হোক। যখনই জাতির প্রয়োজন হবে দল মত নির্বিশেষে আমরা যেন সামনে জাতীয় ঐক্য দেখতে পাই। আমরা তরুণ, আমরা অনেক বড় দায়িত্ব হাতে নিয়ে এগোতে যাচ্ছি। এক্ষেত্রে সবার সহযোগিতা ও দোয়া চাই। জনগণের কাছে আমরা বলতে চাই, যে নতুন দায়বদ্ধতা নিয়ে আমরা রাস্তায় নেমেছি, আপনাদের কাছে এসেছি, আমৃত্যু আমরা সেই দায়বদ্ধতা পালন করে যাব।

আরিফ সোহেল বলেন, ঐতিহাসিকভাবেই আমাদের উপমহাদেশে শাসন ও শোষণের বন্দোবস্ত কায়েম করা হয়েছে। তবে এদেশে মানুষ মাথানত না করে বারবার জেগে উঠেছেন। প্রতিটি লড়াই এর মধ্য দিয়ে আমাদের জাতিসত্তার বিকাশ ঘটেছে। গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে মানুষের নতুন স্বপ্ন আশা-আকাঙ্ক্ষা আবির্ভূত হয়েছে। তারা এখন আর কারো দাসত্ব মেনে চলতে চায় না। এই দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত কায়েম করতে নতুন রাজনৈতিক শক্তির প্রয়োজন। এই লক্ষ্য অর্জনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দেশের প্রান্তিক জনগণকে সঙ্গে নিয়ে জাতীয় নাগরিক কমিটি গঠন করেছ। আমরা কৃষক শ্রমিক পেশাজীবী ও ব্যবসায়ীদের কাছে গিয়েছি। তাদের চাওয়া বোঝার চেষ্টা করেছি। কোন সুনির্দিষ্ট মহলের মাথা থেকে বের হয়ে আসা পরিকল্পনা থেকে নয়, বরং জনগণের আশা আকাঙ্ক্ষা থেকে আজকের এই রাজনৈতিক দলের উত্থান।

আব্দুল হান্নান মাসউদ বলেন, শেখ মুজিব রকি বাহিনী গঠন করে দুঃশাসন চালিয়েছেন। বিভিন্ন হত্যাযজ্ঞ ঘটিয়েছেন। শেখ হাসিনার সময় আবারও স্বৈরশাসন, একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠাসহ মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে তাদের জিম্মি করে রেখেছিল। এদেশের সাধারণ মানুষসহ তরুণদের শেখ হাসিনার কশাঘাতে নির্যাতিত হতে দেখেছি। রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় দলে দলে সংঘর্ষ এমনকি বেগম খালেদা জিয়াকেও নির্মমভাবে বন্দি করে রাখা হয়েছিল। আবারও গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনাসহ তার দলীয় নেতাদের পাশের দেশেও পালিয়ে যেতে দেখেছি।

আমাদের দলের পক্ষ থেকে কথা দিচ্ছি, আগামীর বাংলাদেশ হবে গণতন্ত্রের বাংলাদেশ। তরুণদের নেতৃত্বে দলদাস মুক্ত বাংলাদেশ গঠন হবে। আর কখনো নির্বাচনের আগে ও পরে সংঘর্ষে প্রাণহানির ঘটনা ঘটবে না। দল মত নির্বিশেষে সবাই একসঙ্গে বসবাস করার সুযোগ পাবে।

287

হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ঈদ এসেছিল বিচারহীনতার সংস্কৃতি। চক্রান্তের মাধ্যমে বিডিআর হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছিল। আবার সেই হত্যাকাণ্ডকে বিডিআর বিদ্রোহ বলে চালিয়ে দেওয়া হয়েছে। শাপলা চত্বরে দাড়ি টুপিওয়ালাদের ভাইদের ওপর অত্যাচার চালানো হয়েছে। ৫ আগস্ট এর মধ্য দিয়ে আমরা এই দুঃশাসনের কবর রচনা করেছি। গণভবনে কে যাবে তা নির্ধারণ হবে বাংলাদেশ থেকে, ভারত থেকে নয়। সংসদে কে যাবে তা নির্ধারণ করবে দেশের খেটে খাওয়া জনতা। ক্ষমতার মসনদে কে বসবে তা নির্ধারণ করবে এই ভূখণ্ডের মানুষ। আমরা এই তরুণ প্রজন্ম কথা দিতে চাই, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে আমরা সচল করে গড়ে তুলবো। বিভাজনের পরিবর্তে একতার রাজনীতি গড়ে তুলবো। আমরা এখনো এই ভূখণ্ডের অধিকার আদায় করতে পারিনি বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সঙ্গে আমাদের বন্ধুত্বের সম্পর্ক থাকবে প্রেসক্রিপশন এর সম্পর্ক নয়। প্রবীণদের অভিজ্ঞতা এবং তরুণদের অকুতোভয় এর মিথস্ক্রিয়ায় আমরা নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ করব। কামার বা কুমারের ছেলে হোক যোগ্যতার ভিত্তিতে এদেশের নেতৃত্ব উঠে আসবে এটা আমরা নিশ্চিত করতে চাই। আমরা একটা সমৃদ্ধ বাংলাদেশ চাই যেখানে মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে।

নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, বিপ্লবের নেতৃত্ব দিয়ে বৈষম্য বিরোধ ছাত্র আন্দোলন এবং এবং যেসব নাগরিক তাদের জীবন দিয়ে দেশ রক্ষা করেছে তাদের সমন্বয়ে গঠিত জাতীয় নাগরিক কমিটি। এই কমিটির অক্লান্ত প্রচেষ্টায় দেশের আনাচে-কানাচে ৪০০টি কমিটি গঠন করতে সক্ষম হয়েছি। গণঅভ্যুত্থানের সহযোগিতা করা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দসহ সাধারণ জনতার আত্মত্যাগের সঠিক মূল্যায়নে আমরা সক্ষম হব বলে আমরা বিশ্বাস করি।

তিনি আরও বলেন, বিগত ১৬ বছর যে সকল রাজনৈতিক দল গোষ্ঠী রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন নির্যাতিত হয়েছেন দেশ ছাড়া হয়েছেন তাদের আমি সংগ্রামী শুভেচ্ছা জানাই। আমি বলতে চাই, তরুণরা বাংলাদেশের রাজনীতির একটি অপরিহার্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন