শুধু শেখ হাসিনার নয়, বরং তার সঙ্গে ১৪ দলের জোটের দোসরদেরও বিচার করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বুধবার বিকেলে রংপুর জেলা ও মহানগর বিএনপির উদ্যোগে বিজয় র্যালি শেষে সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
গয়েশ্বর বলেন, বিচারের কথা উঠেছে, এখন আরও বেশি করে উঠবে। মার তো আমরা খেয়েছি, সন্তান হারিয়েছি। আমরা হাসিনার বিচার না করলে কারা করবে?
তিনি বলেন, ‘শুধু হাসিনা নয়, বরং হাসিনার ১৪ দলের জোটের দোসরদেরও বিচার করতে হবে। ৫ আগস্টের পর তারা কি এখন ফেরেশতা হয়ে গেছে? ওদেরও বিচার করতে হবে। নির্বাচন হলে বিচার করতে আরো সহজ হয়ে যাবে। ওরা দেশে আসুক বা না আসুক, অপরাধীদের বিচার করতে কোনো অসুবিধা নেই।
আওয়ামী লীগ ও তাদের দোসরদের রক্ষা না করার আহ্বান জানিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনাদের আত্মীয়স্বজন জাতীয় পার্টি, কেউ আওয়ামী লীগের থাকতে পারে। সেই আত্মীয়স্বজনরা কিন্তু আপনাদের গত ১৬ বছর রক্ষা করেনি। আপনাদের মারতে কিন্তু দ্বিধাবোধ করেনি, নির্যাতন করতেও দ্বিধা করেনি। সেই অত্যাচারীরা আপনার ফুপাতো ভাই, খালাতো ভাই হলেও তাদের রক্ষা করার চেষ্টা করবেন না। নিয়মের মধ্যেই তাদের বিচার হবে। তবে আপনারা আইন হাতে তুলে নেবেন না।
নির্বাচন প্রসঙ্গে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, এতদিন ষড়যন্ত্র ছিল নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার। ঘোষণা হওয়ার পর আবার ষড়যন্ত্র হতে পারে নির্বাচনকে বালচাল করার। আমাদের সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে সরকার ঘোষিত নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হতে যাতে নির্বাচন হতে পারে, সেজন্য সরকারকে আমাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে হবে।
মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সামসুজ্জামান শামুর সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন- রংপুর বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল খালেক, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম, সদস্য সচিব আনিছুর রহমান লাকু, মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম মিজু, সদস্য সচিব মাহফুজ উন নবী ডন ও কাউনিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি এমদাদুল হক ভরসা।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

