প্রাথমিক থেকে সংগীত, নৃত্য ও নাট্যকলাকে বাতিল করতে হবে: জমিয়ত

স্টাফ রিপোর্টার

প্রাথমিক থেকে সংগীত, নৃত্য ও নাট্যকলাকে বাতিল করতে হবে: জমিয়ত

প্রাথমিক শিক্ষায় সংগীত, নৃত্য ও নাট্যকলাকে বাধ্যতামূলকভাবে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ। সংগঠনটির নেতারা এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে বাতিলের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের বিষয়ে সরকারের পূর্বঘোষিত আশ্বাস ও নির্বাচনি অঙ্গীকার দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

শনিবার বিকেলে রাজধানীর পুরানা পল্টনে জমিয়তের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের মজলিসে আমেলার বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংগঠনের মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী এসব কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

এই বৈঠক মহানগর দক্ষিণের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মুফতি মাহবুবুল আলমের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মুফতি বশীরুল হাসান খাদিমানীর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত হয়।

আরো উপস্থিত ছিলেন, নগর সহ-সভাপতি মাওলানা শিব্বির আহমদ, মাওলানা হেদায়েতুল ইসলাম, মাওলানা আবুল বাশার, মুফতি ইমরানুল বারী সিরাজী, মুফতি নুরুল আলম ইসহাকী, মাওলানা বিন ইয়ামিন, মাওলানা সলীমুল্লাহ খান হানাফী, মুফতি মাহমুদুল হাসান, মাওলানা বোরহান উদ্দিন, মাওলানা আনোয়ার হামিদী, মুফতি নাসির বিন নুর ও মাওলানা জুবায়ের আহমদ প্রমুখ।

বৈঠকে মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী বলেন, বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী। তাই দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা এমন হওয়া উচিত, যা শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, চারিত্রিক উৎকর্ষ, দেশপ্রেম, মানবিকতা এবং ধর্মীয় মূল্যবোধে সমৃদ্ধ করে। তিনি দাবি করেন, প্রাথমিক স্তরের কোমলমতি শিশুদের জন্য সংগীত, নৃত্য ও নাট্যকলাকে বাধ্যতামূলক করা দেশের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

নেতারা বলেন, শিক্ষা কারিকুলামে এমন কোনো বিষয় বাধ্যতামূলক করা উচিত নয়, যা দেশের একটি বৃহৎ জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় বিশ্বাস ও মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে বিবেচিত হতে পারে। এর পরিবর্তে প্রাথমিক শিক্ষায় কোরআন শিক্ষা, নৈতিক শিক্ষা, চরিত্র গঠন, বিজ্ঞানমনস্কতা, তথ্যপ্রযুক্তি জ্ঞান, ভাষা দক্ষতা এবং দেশীয় ইতিহাস-ঐতিহ্য বিষয়ে শিক্ষার্থীদের আরও সমৃদ্ধ করার উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।

বক্তারা আরও বলেন, শিক্ষা নীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে জনগণের ধর্মীয় অনুভূতি, পারিবারিক মূল্যবোধ এবং দেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা প্রয়োজন।

তারা প্রাথমিক শিক্ষায় সংগীত, নৃত্য ও নাট্যকলাকে বাধ্যতামূলক অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগ অবিলম্বে স্থগিত করে শিক্ষাবিদ, আলেম-উলামা, অভিভাবক প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে ব্যাপক পরামর্শের ভিত্তিতে গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্ত গ্রহণের আহ্বান জানান।

এ সময় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের বিষয়ে সরকারের দেওয়া আশ্বাস ও নির্বাচনী অঙ্গীকার দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিও পুনর্ব্যক্ত করেন জমিয়তের নেতারা।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন