মসজিদে জুমার নামাজের বয়ানকে কেন্দ্র করে দুই সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার কলকলিয়া ইউনিয়নের তেলিকোনা গ্রামে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।
শনিবার (১৩ জুন) দুপুরের দিকে তেলিকোনা গ্রামের শুকুর আলীর বাড়ির সামনের রাস্তার ওপর এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার (১২ জুন) তেলিকোনা জামে মসজিদে জুমার নামাজের পূর্বে ইমাম সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের পুরান খালাস গ্রামের আব্দুস সাত্তারের পুত্র হাবিবুর রহমান হাবিব জুবায়ের গ্রুপের পক্ষে একটি বয়ান পেশ করেন। এ সময় গ্রামের মজর উল্লাহর সিরাজ আলী নামের এক ব্যক্তি ওই ইমামের বয়ানে আপত্তি জানান এবং এর যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।এ নিয়ে মসজিদের ভেতরেই মুসল্লিদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে দ্বিতীয় পক্ষের আব্দুল্লাহ ইয়ামিন সুনু নামের এক ব্যক্তি বিষয়টি পরবর্তী সময়ে মীমাংসার প্রস্তাব দিলে সে যাত্রায় পরিস্থিতি শান্ত হয়।
তবে এই ঘটনার জের ধরে শনিবার উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মারামারিতে লিপ্ত হয়। দীর্ঘ সময় চলা এই সংঘর্ষে পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এই সংঘর্ষে প্রথম পক্ষের গুরুতর আহতরা হলেন গ্রামের মৃত আব্দুর রাজ্জাকের দুই ছেলে মো. ইয়াহিয়া (৩০) ও রেজওয়ান আহমদ (২০), মৃত লুৎফুর রহমানের ছেলে তোফাজ্জল হক (২৬), মৃত মছদ্দর আলীর ছেলে রফিক মিয়া (৩৭) এবং গিয়াস উদ্দিনের ছেলে সুরত জামাল (৩২)।
অন্য দিকে দ্বিতীয় পক্ষের আহত ব্যক্তিরা হলেন শুকুর উল্লাহর তিন ছেলে আব্দুল্লাহ ইয়ামিন (২৮), রুনু মিয়া (৩২) ও চুনু মিয়া (২৫), মৃত হেকিম উল্লাহর ছেলে আলাম মিয়া (৩৫) এবং ফারুক মিয়া (৪০)। এই পক্ষ থেকে সর্বমোট ১৫-২০ জন আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
খবর পেয়ে জগন্নাথপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছার পূর্বেই মারামারির ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আসে। বর্তমানে এলাকার পরিবেশ স্বাভাবিক রয়েছে এবং শান্তি রক্ষায় পুলিশি টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মসজিদের বয়ান নিয়ে বিরোধের জেরে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত। পুলিশ পৌঁছার আগেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এখনো কোনো পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি, তবে অভিযোগ পেলে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

