কারাগারে আওয়ামী লীগ নেতাদের ঈদ

দেখা করতে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন অনেকের স্বজন

দেখা করতে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন অনেকের স্বজন

তারা ছিলেন ক্ষমতার শীর্ষে। ৫ আগস্টের আগে প্রভাব-প্রতিপত্তি কী ছিল না তাদের? সরকারি গাড়ির সামনে পুলিশের প্রটোকল। একটি মোবাইল কলে উল্টে-পাল্টে যেত সবকিছুই।

পতিত আওয়ামী লীগের সেসব মন্ত্রী, শীর্ষনেতা, এমপি ও সাবেক দুই আইজিপির এবারের ঈদ কেটেছে কারাগারের চার দেওয়ালের মধ্যে। তাদের দেখতে আসা স্বজনরা অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। প্রভাবশালী এই বন্দিরাও ছিলেন বিমর্ষ।

বিজ্ঞাপন

কারারক্ষীরা জানান, কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার এবং কাশিমপুর কারাগারে ৬৩ জন ভিআইপি এবার ঈদ উদযাপন করেছেন। তাদের মধ্যে অন্যতম কয়েকজন হলেন—সালমান এফ রহমান, হাসানুল হক ইনু, আনিসুল হক, আতিকুল ইসলাম, মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান, এ বি তাজুল ইসলাম, জুনাইদ আহমেদ পলক, আবদুর রাজ্জাক, সাধন চন্দ্র মজুমদার, দীপু মনি, তাজুল ইসলাম, ফরহাদ হোসেন, শামসুল হক টুকু, রাশেদ খান মেনন, শাজাহান খান, কাজী জাফরউল্লাহ, কামরুল ইসলাম, নজরুল ইসলাম মজুমদার, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, টিপু মুনশি, কাজী জাফর উল্লাহ, কর্নেল (অব.) ফারুক খান, আসাদুজ্জামান নূর, নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, মাহবুব আরা বেগম গিনি, শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, শাহরিয়ার কবির, রমেশ চন্দ্র সেন, কামাল আহমেদ মজুমদার, হাজি সেলিম, সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন, আহমেদ হোসেন, সাদেক খান, বি এম ফজলে করিম চৌধুরী, আব্দুস সোবহান গোলাপ, চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন, শহীদুল হক, আছাদুজ্জামান মিয়া, ছাত্রলীগের সৈকত প্রমুখ।

কারারক্ষীরা জানিয়েছেন, তাদের মধ্যে ঈদের আনন্দ দেখা যায়নি। ঈদের চাঁদ দেখার পরই তারা বিমর্ষ ছিলেন। কারাগারে হওয়া ঈদের জামাতে তারা নামাজ আদায় করেছেন। ঈদ জামাতে তাদের ওপর কেউ যাতে হামলা করতে না পারে, এজন্য কারারক্ষীরা সতর্ক ছিলেন। ঈদের দিন প্রত্যেকেই কারাগার থেকে সরবরাহ করা খাবার খেয়েছেন। তবে ঈদের পরের দিন ভিআইপি বন্দিদের স্বজনরা খাবার সরবরাহ করেছেন।

সূত্র জানায়, ঈদের দিন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে কর্নেল (অব.) ফারুকের সঙ্গে দেখা করতে এসেছিল তার পরিবার। এ সময় তার পরিবারের সদস্যরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। সাবেক খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম ও সাবেক বিচারপতি মানিকের পরিবারের সদস্যদের চোখে পানি দেখতে পেয়েছেন কারারক্ষীরা। এ সময় এই তিন বন্দিকে অত্যন্ত বিমর্ষ দেখা গেছে। পরে তারা পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন।

একজন কারারক্ষী আমার দেশকে জানান, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম তার পরিবারকে বলেছেন, তিনি দ্রুত মুক্তি পাবেন না। ইউনূস সরকার তাকে মামলার পর মামলা দেবে।

কারা সূত্র জানিয়েছে, ভিআইপি বন্দিরা ঈদের সকালে পায়েস ও সেমাই খেয়েছেন। আর দুপুরে তাদের জন্য ছিল পোলাও, মুরগির রোস্ট, গরুর মাংস, সালাদ, মিষ্টি ও পান। আর রাতে ভাত, ডিম ও আলুর ঝোল দেওয়া হয়েছে। তবে ঈদের পরের দিন ভিআইপি বন্দিরা পরিবারের দেওয়া খাবার খেয়েছেন।

এ বিষয়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার এ কে এম মাসুম জানান, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ভিআইপি বন্দিদের নিরাপত্তার স্বার্থে বিশেষ নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন