জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেছেন, সরকার যদি একটার পর একটা জনবিরোধী সিদ্ধান্ত নিতেই থাকে তাহলে জনগণের স্বার্থে আমাদের সংসদে এবং রাজপথে আন্দোলন করে যেতে হবে। আমরা বর্তমানে যে কর্মসূচি পালন করছি, প্রয়োজনে তা আরও জোরদার করা হবে।
তিনি বলেন, আমরা দেখছি জনদুর্ভোগের সাথে সাথে গণডাকাতিও হচ্ছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের সবচেয়ে বৃহৎ ইসলামী শরিয়াহভিত্তিক যে ইসলামী ব্যাংক। এ ব্যাংক সরকারকে সবচেয়ে বেশি ট্যাক্স দেয়। প্রায় ৩ কোটি গ্রাহক এটার সাথে জড়িত। সেই ব্যাংক হাসিনা সরকারের নেতৃত্বে ধ্বংস করা হয়েছে। ৮২ হাজার কোটি টাকা লুটপাট করেছে এস আলম গ্রুপের লোকজন। সরকারের নেতৃত্বে এবং সহযোগিতায় ধ্বংস করা হয়েছে। এই সরকার এসে একই পথে হাঁটছে। এভাবে একের পর এক করা কাজগুলো জনগণের জন্য কোনো অবস্থাতেই কল্যাণকর নয়।
শনিবার বেলা ১১টায় জামায়াতে ইসলামী ঢাকা জেলা যুব বিভাগের উদ্যোগে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ কর্মসূচিতে অংশ নেয়ার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
জেলা যুব বিভাগের সভাপতি আবদুল কাদেরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম ভূঁইয়া, ঢাকা জেলা আমির দেলোয়ার হোসেন, জেলা সেক্রেটারি আফজাল হোসাইনসহ জেলা জামায়াতের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। এ সময় কয়েকশ লোকের মাঝে চারা বিতরণ এবং বহু চারা রোপণ করা হয়।
তিনি বলেন, দেশে খুন, রাহাজানি, চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, লুটপাট ও বিভিন্ন ধরনের অপরাধ আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এক্ষেত্রে সরকারকে দ্রুত কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। অন্যথায় জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে এবং দেশবাসীর জন্য একটি অসহনীয় পরিবেশ তৈরি হবে। আমরা মনে করি এ দেশের সরকারের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা উচিত। সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা সচিবালয়ে প্রেসিডেন্ট বা প্রধানমন্ত্রীর জন্য সংরক্ষিত ল্যান্ড ফোনের তার চুরির ঘটনাকে সরকারের ব্যর্থতা হিসেবে অভিহিত করেন অ্যাডভোকেট জুবায়ের।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট জুবায়ের বলেন, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পরে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার গঠিত হয়। ইতোমধ্যে সেই সরকার পরপর দুইবার জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি করেছে এবং সর্বশেষ বিদ্যুতের মূল্যও বৃদ্ধি করেছে। এই তিনটি কাজই করেছে সংসদ চলাকালীন সময়ে। এ বিষয়ে সংসদে কোনো আলোচনা করেনি। সংসদে আলোচনা করে এটা করা উচিত ছিলো। জ্বালানি তেল এবং বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত সরাসরি ভোক্তা ও সাধারণ মানুষের জীবনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। এজন্য সাধারণ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস, দৈনন্দিন চলাফেরার ক্ষেত্রে প্রভাব পড়ে।
তিনি আরও বলেন, বেদনাদায়ক বিষয় হচ্ছে মূল্য বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত তারা সংসদকে পাশ কাটিয়ে মধ্যরাতে নিয়েছে, দিনের বেলায়ও নেয়নি। অথচ সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে সব বিষয় আলোচনার জন্য আমরা সংসদের মাধ্যমে সমাধান করবো। কিন্তু তারা এটা করেননি। আমরা এটার তাৎক্ষণিক নিন্দা জানিয়েছি, প্রতিবাদ জানিয়েছি এবং দেশব্যাপী আমরা কিছু কর্মসূচি দিয়েছি।
অ্যাডভোকেট জুবায়ের আরও বলেন, আমরা ঢাকাসহ বাংলাদেশের সবগুলো মহানগরীতে বিক্ষোভ করেছি। অবিলম্বে বিদ্যুতের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারের জন্য আমরা দাবি জানিয়েছি। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে ভোক্তা পর্যায়ে কিছুটা সমন্বয় করা হবে, কিন্তু বাস্তবে আমরা মনে করি না যে সব ক্ষেত্রে তার সুফল পাওয়া যাচ্ছে। এ ধরনের জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সংসদে আলোচনা করে সমাধানের পথ বের করা উচিত ছিল। যেখানে দেশবাসী জড়িত এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও অনেকগুলো সমস্যা আছে। সমস্ত বিষয়গুলো নিয়ে সংসদই হচ্ছে আলোচনার জায়গা। সরকার যদি এ ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে আমরা সেটা ইতিবাচকভাবে নেবো।
আওয়ামী লীগ নেতা তোফায়েল আহমদের বিষয়ে এক প্রশ্নে অ্যাডভোকেট জুবায়ের বলেন, আওয়ামী লীগ হলো সেই ফ্যাসিবাদী দলা, যারা ৩৬ জুলাইয়ের আন্দোলনে গণহত্যা চালিয়ে ১৪শ’ বা তার চেয়ে বেশি নিরীহ মানুষকে তারা নিষ্ঠুর ও নির্মমভাবে এক মাসের মাথায় হত্যা করেছে এবং প্রায় ২০ হাজারের মতো মানুষকে আহত করেছে। তার মধ্যে প্রায় পাঁচশ থেকে ছয়শত মারাত্মকভাবে জখম হয়েছে। অনেকেই স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ববরণ করেছেন, কেউ দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন, কেউ হাত-পা হারিয়েছেন এবং অসংখ্য মানুষ গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এ ধরনের গণহত্যাকারী, লুটেরা যারা বাংলাদেশ থেকে প্রায় ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচার করেছে। এদের কোনো অবস্থায় দেশের মানুষ গ্রহণ করবে না বা মেনে নেবে না।
তিনি আরও বলেন, আমরা দেখতে পাচ্ছি নির্বাচনের সময় বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে আমরা তোমাদের (আ. লীগের) পাশে আছি। ভোট পাওয়ার জন্য তারা এগুলো বলেছিলো এবং পরবর্তীতেও বিএনপির পক্ষ থেকে লুটেরা, গণহত্যাকারীদের বিভিন্ন জায়গায় ছাড় দেয়া হচ্ছে। তাদের সহযোগিতা, সরকারের নিষ্ক্রিয়তা, বিশেষ করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তা এবং অবহেলার কারণেই এসব কার্যক্রমের সুযোগ পাচ্ছে তারা। এটি দেশবাসী ভালোভাবে মেনে নেবে না। আমরা মনে করি, সরকারের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা উচিত। কোনো অবস্থায় এই গণহত্যাকারীদের কোনো ধরনের সুযোগ দেয়া যাবে না। সংসদে তাদের নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আইনতভাবে এই দল নিষিদ্ধ।
অ্যাডভোকেট জুবায়ের আরও বলেন, তারা এখনও ভারতের মাটিতে বসে একের পর এক চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। দেশবাসীর বিরুদ্ধে একাধিক উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছে। তাদের এ দেশের জনগণ মেনে নেবে না। কোনো অবস্থায় সরকার ছাড় দিলে সেটা জনগণ ভালোভাবে নেবে না। জনপ্রতিরোধের মুখে, জনআন্দোলনের মুখে আবারও কাঠগড়ায় তাদের দাঁড়াতে হবে।
এএস
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

