জুলাই সনদ ও জুলাই ঘোষণাপত্র নিয়ে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তি দূর করতে ব্যাখ্যা দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, এই দুটি নথি এক নয়—এবং ভুলভাবে গুলিয়ে ফেলা রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত একটি প্রচারণা হতে পারে, যা এনসিপির অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
বুধবার জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর দ্বিতীয় দফার ২২তম দিনের বৈঠকের মধ্যবর্তী চা-বিরতিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে এ কথা বলেন তিনি।
আখতার হোসেন বলেন, জুলাই ঘোষণাপত্র এবং জুলাই সনদ এই দুইটা আলাদা ডকুমেন্ট। কিন্তু এই দুইটা ডকুমেন্টকে গুলিয়ে ফেলছে অনেকেই, যেটা জাতীয় নাগরিক পার্টির অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
তার ব্যাখ্যা, জুলাই ঘোষণাপত্র হচ্ছে গত বছরের আগস্টের গণঅভ্যুত্থান এবং ৫ আগস্টের বিজয়ের একটি ঐতিহাসিক স্বীকৃতি, যার একটি আইনি ভিত্তি থাকা দরকার। এটি একটি ঐতিহাসিক দলিল। অন্যদিকে, জুলাই সনদ হচ্ছে রাজনৈতিক সংস্কারের বিষয়ে ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে কমিশনে আলোচিত প্রস্তাবগুলোর একটি বাস্তবায়নযোগ্য রূপরেখা।
আখতার হোসেন বলেন, আমরা চাই না এমন একটি অকার্যকর, অপূর্ণ এবং মৌলিক সংস্কারবিহীন জুলাই সনদ তৈরি হোক, যেটা তিন দলের অতীত রূপরেখার মত শুধু ইতিহাসের দলিল হয়ে থাকবে। আমরা চাই, জুলাই সনদটি হবে কার্যকর, পূর্ণাঙ্গ সংস্কার ধারণকারী, আইনি ভিত্তিসম্পন্ন এবং তাৎক্ষণিকভাবে বাস্তবায়নযোগ্য।
তিনি উল্লেখ করেন, কমিশনের প্রাথমিক খসড়ায় দুই বছরের বাস্তবায়নকাল উল্লেখ করা হয়েছে, যা এনসিপি দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে। আমরা মনে করি, এই ধরনের বিলম্বিত বাস্তবায়নের প্রস্তাব প্রতারণার সুযোগ তৈরি করে এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে প্রতারণা করার শামিল।
জুলাই ঘোষণাপত্র সম্পর্কেও আখতার হোসেন বলেন, আমরা একবিন্দু ছাড় দিতে রাজি না। সরকার যদি ৩৬ জুলাইয়ের মধ্যে ঘোষণাপত্র জারি না করে, তাহলে এনসিপি দেশের ফ্যাসিবাদবিরোধী সব পক্ষকে সঙ্গে নিয়ে নিজেরা তা জারি করবে।
সরকার একটি খসড়া দিয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা সরকারকে আমাদের পক্ষ থেকে একটি পরিণত খসড়া দিয়েছি এবং আলোচনার মধ্যেই রয়েছি। কিন্তু এখনো পর্যন্ত তেমন অগ্রগতি চোখে পড়ছে না। সরকার যদি আন্তরিক হয় এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দল সমন্বয় করে, তবে ৩৬ জুলাইয়ের মধ্যেই একটি পরিপূর্ণ, আইনি ও সাংবিধানিক ভিত্তিসম্পন্ন ঘোষণাপত্র জারি করা সম্ভব।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে আখতার হোসেন অনুরোধ বলেন, সংবাদ পরিবেশনের সময় যেন জুলাই সনদ ও জুলাই ঘোষণাপত্রের পার্থক্য স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়। “অনেকে ভাবছেন আমরা জুলাই সনদে সই করলেই সব মেনে নিচ্ছি, এটা ভুল। আমরা মৌলিক সংস্কার এবং আইনি ভিত্তির নিশ্চয়তা ছাড়া কোনো সনদে সই করব না।
তিনি বলেন, আমাদের ভাইয়েরা জীবন দিয়েছেন গণঅভ্যুত্থানে। তাদের সেই আত্মত্যাগ যেন একটি বাস্তব ভিত্তির জুলাই ঘোষণাপত্রে প্রতিফলিত হয়, আমরা সেটাই চাই।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

