জুলাই শহীদদের স্মরণে এবি পার্টির প্রতীকী কফিন মার্চ

জুলাই বিপ্লবের অংশীদাররা পরস্পরকে হেয় করে কথা না বলার আহ্বান

জুলাই বিপ্লবের অংশীদাররা পরস্পরকে হেয় করে কথা না বলার আহ্বান

বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ জুলাই বিপ্লবের অংশীদার রাজনৈতিক দল, সংগঠক ও অ্যাক্টিভিস্টদের পরস্পরের প্রতি হেয় করে উসকানিমূলক কথা না বলার আহ্বান জানিয়েছে এবি পার্টি।

শুক্রবার জুলাই অভ‍্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ৩৬ দিনব্যাপী কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে শহীদদের স্মরণে প্রতীকী কফিন রোড মার্চে এসব কথা বলেন দলের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু ও সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ।

বিজ্ঞাপন

এ সময় দলটির নেতারা বলেন, দেশ ও গণতন্ত্রের স্বার্থে জাতীয় ঐক‍্যের ভিত্তিতে যারা রাজপথে অকাতরে রক্ত ও জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন। এক বছর যেতে না যেতেই তাদের একে অপরের প্রতি হিংসাত্মক আচরণ শহীদের রক্ত ও আত্মদানের প্রতি অসম্মান বলে মনে করেন দলটির নেতৃবৃন্দ। গোপালগঞ্জে ফ‍্যাসিবাদী আওয়ামী-ছাত্রলীগের গণতন্ত্র বিরোধী কর্মসূচি, সরকারের ব্যর্থতা ও নানা অবয়বে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের প্রচেষ্টার তীব্র সমালোচনা করেন তারা।

এবি পার্টির নেতারা বলেন, জুলাই অভ‍্যুত্থানে ঢাকার যেসকল গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ছাত্র-জনতা স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল এবং নির্মম নির্যাতন ও নির্বিচার হত‍্যাকান্ডের শিকার হয়েও দমে যায়নি। যাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে সারাদেশে প্রতিবাদ-প্রতিরোধ ছড়িয়ে পড়েছিল সেসকল শহীদ ও অদম‍্য সংগ্রামীদের স্মরণে এবি পার্টি আজ এই প্রতীকী কফিন মার্চের আয়োজন করে।

প্রতীকী কফিন মার্চ বিজয় নগরস্থ বিজয়-৭১ চত্বর থেকে শুরু হয়ে প্রথমে যাত্রাবাড়ী মোড়ে শহীদ চত্বরে যায়। সেখানকার পথসভা শেষ করে তারা ক্রমান্বয়ে বাড্ডা, উত্তরা হয়ে মিরপুর ১০ নম্বর চত্বরে এসে সমাপ্ত হয়।

পথসভাগুলোতে মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, গণঅভ্যুত্থান ও অপরিসীম রক্তদানের লক্ষ‍্য ছিল দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা। হাসিনার দু:শাসনের অবসান বা তার পতনের মধ্যে আমাদের প্রত‍্যাশাকে সীমাবদ্ধ করলে হবেনা। জুলাইয়ের অঙ্গীকার হতে হবে নিজেদের ভেতরকার স্বৈরতান্ত্রিক মনোভাবের বিরুদ্ধেও। আমাদের নিজেদের মধ্য থেকে কেউ যেন ফ‍্যাসিবাদী আচরণে অভ্যস্ত না হয় সে প্রতিজ্ঞা করতে হবে। তিনি বলেন জানুয়ারিতে বিএনপি ও ইসলামী আন্দোলন অঙ্গীকার করেছিল কেউ কাউকে হেয় করে কথা বলবে না। কিন্তু ইদানীং একে অপরকে ‘চরের দল’ এবং ‘চাঁদা তোলে পল্টনে, ভাগ যায় লন্ডনে’ বলে হেয় করে কথা বলেছেন। বিএনপি জামায়াতকে ‘রাজাকার’ জামায়াত বিএনপিকে ‘চাঁদাবাজ-দখলদার’ বলে উসকানিমূলক মন্তব্য করছেন। এর ফলে বিভেদ বাড়ছে ও ছড়িয়ে পড়ছে উল্লেখ করে জনাব মঞ্জু বলেন, জুলাই অভ‍্যুত্থানের অংশীদার রাজনৈতিক দল, সংগঠক ও অ্যাক্টিভিস্টদের পরস্পরের প্রতি হেয় করে উসকানিমূলক কথা বলা বন্ধ করতে হবে। গোপালগঞ্জে ফ‍্যাসিবাদী আওয়ামী-ছাত্রলীগের গণতন্ত্র বিরোধী কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে গুলি ও ৪ জন নিরীহ নাগরিক হত‍্যাকে সরকারের ব্যর্থতা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি এর তীব্র সমালোচনা করেন।

পথসভায় ব‍্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, গণঅভ্যুত্থানের সময় যাত্রাবাড়ী, বাড্ডা, উত্তরাসহ দেশের প্রায় সকল গুরুত্বপূর্ণ সড়ক মোড়ে লাখে লাখে ছাত্র-জনতা জড়ো হয়ে স্লোগান তুলেছিল ‘লাখো শহীদের রক্তে কেনা দেশটা কারও বাপের না’।

তিনি বলেন এ শ্লোগানের মর্ম আমরা যেন কেউ ভুলে না যাই। লাল সবুজের পতাকাকে বাঁচিয়ে রাখবার জন‍্য দিল্লীর আধিপত্যের বিরুদ্ধে শহীদেরা জীবন দিয়েছেন, এটা সবসময় আমাদের স্মরণ রাখতে হবে।

নানা অবয়বে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন প্রচেষ্টার তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন শহীদের রক্ত ও প্রত্যাশার সাথে বেঈমানীর কোন পদক্ষেপ জনগণ মেনে নেবে না। অতীতের মত এখনো মাদ্রাসা, শিক্ষার্থী ও আলেম ওলামাদের সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন রাখার যে প্রচেষ্টা সেটারও তিনি তীব্র প্রতিবাদ জানান।

তিনি বলেন, যাত্রাবাড়ীর প্রতিরোধ সংগ্রামে মাদ্রাসা শিক্ষার্থী ও বাড্ডা-উত্তরায় প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের অবদান সারাদেশে জাগরণ সৃষ্টি করেছিল। গোপালগঞ্জে আওয়ামীলীগের ধৃষ্টতাপূর্ণ আচরণকে আগের মত ফ‍্যাসিবাদী আস্ফালন উল্লেখ করে তিনি বলেন এর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন অব্যাহত রাখতে হবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন