প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে ঢাকা ১২ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন বলেছেন, আপনার প্লান কি প্লান? 'আই হ্যাভ এ প্ল্যানের -সেই প্লানে আমাদের তো চোখ যাচ্ছে। কাজেই এই প্লান দিয়ে বাংলাদেশের মানুষের মুক্তি হবে না। আমরা একটা জাস্ট বাংলাদেশ চাই। এইজন্য সংবিধানের যে সংস্কার করা দরকার মানে পরিবর্তন করার দরকার অনতিবিলম্বে সে সমস্ত পরিবর্তন আপনার করা উচিত। হেলমেট বাহিনী দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় দখল করার চেষ্টা করবেন না।
তিনি বলেন, হবিগঞ্জের ছেলেটার চোখ নষ্ট হওয়ার ব্যাপারে টোটালি আপনার যুবদল এবং ছাত্রদল দায়ী বিএনপি দায়ী। কাজেই আপনারা যদি বালুতে মুখে লুকায়ে বলেন যে আমরা এ কাজ করি নাই সেটা হবে না। আর কাজেই আপনি কোন প্রোগ্রাম নিয়ে দেশে আসছেন আমার জান নাই।
বুধবার রাজধানীর রমনাস্থ ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে দ্যা ফোরাম অব ইঞ্জিনিয়ার্স এন্ড আর্কিটেক্টস বাংলাদেশ আয়োজিত 'শহীদদের স্মরণে দ্রোহের জুলাই' শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন৷
সাইফুল আলম খান মিলন আরো বলেন, চব্বিশের জুলাই ছিল একটা রক্তাক্ত জুলাই, ঘটনাক্রমে ছাব্বিশের জুলাইও রক্তাক্ত জুলাইয়ে পরিণত হয়েছে। এই রক্তক্ষরণ শুরু হয়েছে হবিগঞ্জের মাধ্যমে। আর আমরা কালকে ঢাকা শহরে দেখেছি সেই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে আলিয়া মাদ্রাসা, ঢাকা কলেজ সকল জায়গায় আবার সেই স্বৈরাচারী সবল। আমরা যেন কখনোই শুরু করতে পারি না। আমরা কেবলই পিছিয়ে যাই। ছাত্র অঙ্গনে মেধার ভিত্তিতে আন্দোলন, সিট বণ্টন এবং রাজনীতির পরিবর্তে আবার সেই হল দখল, বিনা পয়সায় খাওয়া ও গেস্ট রুমের নির্যাতনকে পরিচালিত করার জন্য দুর্ভাগ্যজনকভাবে ছাত্রলীগের হেলমেট বাহিনীর মত আবারও হেলমেট বাহিনী দেখলাম। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে অত্যন্ত লজ্জাজনকভাবে ছাত্রদের উপরে হামলে পড়া হলো। এই দায়িত্ব সরকার এড়াইতে পারেন না, তারেক রহমানও এড়াইতে পারেন না।
তিনি আরো বলেন, সুপরিকল্পিতভাবে এসব করা হয়েছে। প্রিপারেশন নিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আক্রমণ করা হয়েছে। জগন্নাথ ও আলিয়া মাদ্রাসায় যারা আক্রমণ করেছে তারা ওখানকার ছাত্র নয়। তাদেরকে সেখানে নেতৃত্ব দিয়েছে যুবদলের একজন নেতা যার নাম নয়ন। যিনি এর আগেও ইসলামি ব্যাংকের গ্রাহকদের উপরে গুলি করেছিলেন। হেলমেট বাহিনী দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় দখল করার চেষ্টা করবেন না।
জামায়াত এই এমপি আরো বলেন, বিএনপি তাদের নিজেদের দেওয়া ৩১ দফা নিজেই মানে না। ৩১ দফার প্রথম দফাই হলো সংবিধান সংস্কার এবং একজন প্রাইম মিনিস্টার দুই মেয়াদের বেশি থাকতে পারবেন না—এগুলো তারা মানছে না। জাতীয় সংসদের কাছে জনগণের প্রত্যাশা হলো, জুলাইয়ের রক্তের বিনিময়ে আমরা সাংবিধানিকভাবে এমন সংস্কার আনবো যেন আর কেউ হাসিনার মতো স্বৈরাচার হতে না পারে।
আমাদের ব্যর্থতা জাতীয় সংসদ থেকেই শুরু হয়েছে বলে মন্তব্য করেন মিলন। তিনি বলেন, আমাদের প্রথম ব্যর্থতা শুরু হয় জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে। নির্বাচনে দুটি বিষয় ছিল—একটি সংসদ নির্বাচন, অন্যটি গণভোট। আমাদেরকে দুটি চিঠি দেওয়া হয়েছিল—সংসদ সদস্য হিসেবে এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার জন্য। আমরা দুটি শপথ নিলেও সরকারি দল একটি নিলেন এবং দেশের জন্য প্রয়োজনীয় বিধি ব্যবস্থাগুলোকে ল্যাপস করে দেওয়া হলো।
তিনি আরো বলেন, আমাদের জাতীয় সংসদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ৩০০ ধারায় খুব ঘটা করে বিবৃতি দিলেন যে, বেনজিরকে দুবাইতে গ্রেফতার করা হয়েছে। কিন্তু জামিন নিয়ে সে যখন বের হয়ে গেল, তখন বলছেন জামিন বাতিল করার জন্য উকিল নিয়োগ করা হয়েছে। এতদিন কী করলেন? হাদির হত্যাকারী ফয়সালকে জামিনও আপনারাই দিয়েছিলেন। হাদি হত্যার চার্জশিট এখন পর্যন্ত দাখিল হয় নাই, ১২-১৩ বার এটাকে পিছানো হয়েছে। আমি পরিষ্কার দেখতে পাচ্ছি, এটি দ্বিতীয় সাগর-রুনি হত্যা মামলায় পরিণত হতে যাচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, এই জুলাই এদেশের সন্তানদেরকে একটা কথা শিখিয়ে গিয়েছে যে -অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে হবে। বাংলাদেশের তরুণদেরকে আর মুরগির খাঁচায় ঢুকানো যাবে না। আজকে যদি আমরা দেশের পরিবর্তন না আনতে পারি বা সংবিধানের সংস্কার করতে না পারি, তাহলে আমরা ব্যর্থ হয়ে যাব। সংবিধানের বেসিক স্ট্রাকচারে পরিবর্তন আনতে চাইলে সংশোধন নয়, সংস্কার করতে হবে। সরকারকে বলব অনতিবিলম্বে সংবিধান সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হোক, তা না হলে আপনারা জাতির কাছে দায়বদ্ধ থাকবেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


