মূলধারার কিছু গণমাধ্যম, রাজনীতিবিদ ও আওয়ামী লীগ–সমর্থক মহল পরিকল্পিতভাবে নিষিদ্ধঘোষিত ও গণহত্যাকারী আওয়ামী লীগের আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণের পক্ষে জনমত তৈরির চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।
বুধবার বিকেলে সংগঠনটির দপ্তর সম্পাদক শাহাদাত হোসেনের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ অভিযোগ জানানো হয়।
বিবৃতিতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি রিফাত রশিদ ও সাধারণ সম্পাদক হাসান ইনাম বলেন, কিছু টেলিভিশন টকশো, সংবাদপত্রের কলাম ও জরিপের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের পক্ষে বয়ান তৈরি ও সম্মতি উৎপাদনের চেষ্টা হচ্ছে, যা ‘ঘৃণ্য অপচেষ্টা’।
তাদের দাবি, আওয়ামী লীগ কোনো রাজনৈতিক দল নয়, বরং একটি ‘ফ্যাসিবাদী শক্তি, গণহত্যাকারী ও নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন’। গত দেড় দশকের শাসনামলে দলটি গুম, খুন, অপহরণ, বিচারবহির্ভূত হত্যা, ধর্ষণসহ অসংখ্য মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে। সর্বশেষ জুলাই-আগস্টের হত্যাকাণ্ডে তাদের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তরের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে বলে সংগঠনটির দাবি।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মতে, ‘আওয়ামী অধ্যায়’ ৫ আগস্ট ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে চূড়ান্তভাবে সমাপ্ত হয়েছে। অভ্যুত্থানোত্তর নতুন বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগকে প্রাসঙ্গিক করার অর্থ হবে জুলাই গণহত্যাকে বৈধতা দেওয়া, যা সহস্রাধিক শহীদের রক্তের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা।
বিবৃতিতে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়, যদি ‘আওয়ামী পুনর্বাসন প্রজেক্ট’ বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হয়, তাহলে ফ্যাসিবাদবিরোধী সকল ছাত্র-জনতাকে সঙ্গে নিয়ে আবারও কঠোর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে। একই সঙ্গে, আওয়ামী লীগকে নিয়ে নির্বাচনের কোনো পরিকল্পনা হলে সেই নির্বাচন বয়কট করারও ঘোষণা দেয় সংগঠনটি।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

