ফ্যাসিস্টদের পথ কী? জামায়াত আমিরের কাছে জানতে চাইলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, জামায়াতের আমির বলেছেন, বিএনপি ফ্যাসিস্টদের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। তো আমি তাকে বলতে চাই, ফ্যাসিস্টদের পথ কী? কোনটা পথ? এটা তো আপনাকে উল্লেখ করতে হবে। বলতে হবে, ফ্যাসিস্টদের পথ মানে কোন পথে এগোচ্ছে? একটা দৃষ্টান্ত দেখান। পথটা কি মেঠোপথ, না পাকা রাস্তা, নাকি ইটের রাস্তা?
রোববার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে বিএনপির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান, ভাষাসৈনিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম অ্যাডভোকেট আফসার আহমদ সিদ্দিকীর ২৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আফসার আহমদ সিদ্দিকী স্মৃতি ফাউন্ডেশন আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
রুহুল কবির রিজভী জামায়াতের আমিরকে উদ্দেশ করে আরও বলেন, আপনারা ৫ আগস্টের পর বললেন যে আওয়ামী লীগের সব মাফ করে দেবেন। ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন করবেন। বিএনপির কোনো নেতা বলেননি এবং প্রধান নেতা তারেক রহমানও বলেননি, বলেছেন আপনারাই। এখন বলছেন যে ফ্যাসিস্টদের পথেই হাঁটছে বিএনপি। আসলে আপনারা কোন পথে হাঁটছেন, এটা জনগণ বেশি প্রত্যক্ষ করছে। বিএনপিকে জনগণ চেনে। বিএনপি যে প্রতিশ্রুতি দেয়, সেই প্রতিশ্রুতি থেকে বিন্দুমাত্র বিচ্যুত হয় না। কিন্তু আপনারা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, সেই প্রতিশ্রুতি আপনারা ইসলামের নামে, আল্লাহর নামে দিয়েছেন। অনেক কথা বলছেন মানুষের মনকে জয় করার জন্য। কিন্তু পরক্ষণেই উল্টো কাজ আপনারা করেছেন। আপনারা অতীতের যত কাজ, সে কাজগুলোই করেছেন। শেখ হাসিনার যে পথ, সে পথ ধরেই করেছেন।
বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, বেগম জিয়া বলেছেন, এরশাদ একটা অবৈধ সরকার, তার অধীনে নির্বাচন করব না। সে গণতন্ত্রকে হত্যা করে ক্ষমতায় এসেছে। তার অধীনে নির্বাচন করব না। এ কথা হাসিনাও বলেছেন। এ কথা জামায়াতও বলেছে। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হাসিনা এরশাদের অধীনে গেছেন। জামায়াতও গেছে। সুতরাং আপনারা তো ইতিহাসে প্রমাণ রেখেছেন। আপনারা হাসিনার পথে হাঁটতে সবচেয়ে ভালোবাসেন। ক্ষমতার জন্য কখনো কখনো বিএনপির সঙ্গে জোট করার চেষ্টা করেন, বলেন—কিন্তু মনের ভেতরে হাসিনার প্রদর্শিত পথেই আপনারা হাঁটেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার যে আন্দোলন, সেই আন্দোলনে আপনারা একই পথে হেঁটেছেন। আওয়ামী লীগের পথেই হেঁটেছেন। সুতরাং ইতিহাসের প্রমাণ বা উদাহরণগুলোকে অগ্রাহ্য করে আপনারা জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য বলছেন।
রিজভী বলেন, ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার শক্তিই বিএনপির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। অসংখ্য নেতাকর্মীর গুম, গুপ্তহত্যার আত্মদান এবং ত্যাগ-তিতিক্ষার মধ্য দিয়ে এই দল তৈরি হয়েছে। গণতন্ত্র হচ্ছে তার অভীষ্ট লক্ষ্য ও আদর্শিক চেতনা। কিন্তু আপনাদের সেই চেতনা আছে কি না, এটা আমাদের জানা নেই। আপনারা কখনো গণতন্ত্রের প্রশ্নে, দেশের স্বাধীনতার প্রশ্নে আপনাদের আদর্শিক কোনো জায়গা নির্মাণ করেননি। এই কারণেই জনগণ আপনাদের এখনো সন্দেহের চোখে দেখে। একাত্তর, এরশাদ আমলে গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং তারপরও গণতন্ত্রের আন্দোলনে আপনাদের কখনোই একটি আদর্শিক পথ ধরে হেঁটে যেতে জনগণ প্রত্যক্ষ করেনি।
আফসার আহমদ সিদ্দিকী স্মৃতি ফাউন্ডেশনের আহ্বায়ক এবং বিএনপির নার্সেস ও স্বাস্থ্য সহকারী-বিষয়ক সহসম্পাদক জাহানারা সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির স্বেচ্ছাসেবক-বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মুন্সি বজলুল বাসিত আঞ্জু এবং তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক জেড খান মো. রিয়াজ উদ্দিন নসু প্রমুখ।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


