পলাশবাড়ীতে হিন্দু ধর্মীয় স্থাপনা নির্মাণ ও বিদেশি সম্পৃক্ততার তদন্ত দাবি হেফাজতের

স্টাফ রিপোর্টার

পলাশবাড়ীতে হিন্দু ধর্মীয় স্থাপনা নির্মাণ ও বিদেশি সম্পৃক্ততার তদন্ত দাবি হেফাজতের

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে বৃহৎ আকারের হিন্দু ধর্মীয় স্থাপনা নির্মাণ এবং বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বিদেশি কূটনৈতিক প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। সংগঠনটি বিষয়গুলোর স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ পর্যালোচনার মাধ্যমে জনমনে সৃষ্টি হওয়া প্রশ্নের গ্রহণযোগ্য জবাব নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।

রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরী এবং মহাসচিব সাজিদুর রহমান এ দাবি জানান।

বিজ্ঞাপন

বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে রংপুর বিভাগের গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ীতে বৃহৎ আকারের হিন্দু ধর্মীয় স্থাপনা নির্মাণ, বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন এবং এসব কর্মসূচিতে বিদেশি কূটনৈতিক প্রতিনিধিদের ধারাবাহিক অংশগ্রহণ জনমনে স্বাভাবিকভাবেই নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

তারা বলেন, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও আত্মমর্যাদাশীল রাষ্ট্র। সংবিধানপ্রদত্ত অধিকার অনুযায়ী এ দেশের প্রতিটি নাগরিক নিজ নিজ ধর্ম পালন করবেন, যা জাতীয় ঐক্য, সামাজিক সম্প্রীতি ও সাংবিধানিক ব্যবস্থার অবিচ্ছেদ্য অংশ। সকল ধর্মাবলম্বীর ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের কথাও উল্লেখ করেন তারা।

বিবৃতিতে বলা হয়, পলাশবাড়ীর মতো ভৌগোলিক ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বৃহৎ আকারের ধর্মীয় স্থাপনা নির্মাণ, প্রকল্পগুলোর অর্থায়নের উৎস, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা এবং বিদেশি কূটনৈতিক প্রতিনিধিদের ঘনঘন সম্পৃক্ততার বিষয়গুলো যথাযথভাবে পর্যালোচনা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। জনমনে উত্থাপিত প্রশ্নগুলোর স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য উত্তর নিশ্চিত করাও জরুরি বলে মন্তব্য করেন তারা।

হেফাজত নেতারা বলেন, কোনো বিদেশি রাষ্ট্র বা তার প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ড যদি দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে প্রভাব বিস্তার, সামাজিক ভারসাম্য বিনষ্ট বা ভবিষ্যতে কোনো ধরনের কৌশলগত জটিলতার আশঙ্কা সৃষ্টি করে, তবে তা গুরুত্বের সঙ্গে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো ধরনের উদাসীনতার সুযোগ নেই বলেও তারা উল্লেখ করেন।

বিবৃতিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, প্রশাসন, গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, বিষয়গুলো নিরপেক্ষতা, স্বচ্ছতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করে জনগণের উদ্বেগ দূর করতে হবে। একই সঙ্গে এমন কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা যাবে না, যাতে দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয় কিংবা কোনো ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ন্যায়সঙ্গত অধিকার খর্ব হয়।

নেতৃদ্বয় বলেন, জাতীয় স্বার্থ, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ অক্ষুণ্ন রেখে সব কার্যক্রম পরিচালিত হওয়া উচিত। স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন এবং দেশের সার্বভৌম স্বার্থের প্রতি অটল অঙ্গীকারের মাধ্যমেই জাতীয় ঐক্য ও স্থিতিশীলতা আরও সুসংহত হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...