পশ্চিমবঙ্গে মুসলিম নির্যাতনের মহোৎসব চলছে: ডা. ইরান

স্টাফ রিপোর্টার

পশ্চিমবঙ্গে মুসলিম নির্যাতনের মহোৎসব চলছে:  ডা. ইরান

ভারতে ধর্মনিরপেক্ষতার মুখোশে পরিকল্পিতভাবে মুসলমানদের ওপর নির্যাতন-নিপীড়ন চালানো হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান।

তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন পরবর্তী সংঘাত, সহিংসতা ও প্রতিহিংসার রাজনীতির কারণে নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মদদে বিজেপির সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর নৃশংস হামলা, বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে লুটপাট, মসজিদ-মাদ্রাসায় ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের মহোৎসব চালাচ্ছে। কোরবানি ও মুসলিম সম্প্রদায়কে টার্গেট করে পশ্চিমবঙ্গে গরু-মহিষ জবাই নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার নয়াপল্টন কার্যালয়ে বাংলাদেশ লেবার পার্টির প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা আবদুল মতীন-এর ৩০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে ঢাকা মহানগর লেবার পার্টি আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে মুসলমানদের নাগরিক অধিকার, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা আজ মারাত্মক হুমকির মুখে। মুসলিম জনগোষ্ঠীকে ভয়ভীতি, দমন-পীড়ন ও সাম্প্রদায়িক উসকানির মাধ্যমে কোণঠাসা করার অপচেষ্টা চলছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর উচিত পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতের বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনাগুলো তদন্ত করে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

ডা. ইরান বলেন, মাওলানা আবদুল মতীন ছিলেন আধিপত্যবাদ বিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামের রাজপথের বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর। তিনি শোষণ, জুলুম ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে “ওমর-ই সাম্যবাদ” নামে ইনসাফভিত্তিক রাজনৈতিক দর্শন প্রবর্তন করেন। তিনি আরও বলেন, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আমৃত্যু সংগ্রাম করে গেছেন মাওলানা মতীন।

তিনি স্মরণ করেন যে, মাওলানা আবদুল মতীন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর জাতীয়তাবাদী ফ্রন্টের অন্যতম উদ্যোক্তা ছিলেন এবং মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর অত্যন্ত আস্থাভাজন সহচর হিসেবে ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চ-এ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ফারাক্কা লংমার্চের সমাপনী অনুষ্ঠানে তাঁর পরিচালিত দোয়া-মোনাজাত ছিল ঐতিহাসিকভাবে স্মরণীয়।

মহানগর লেবার পার্টির আহ্বায়ক এস এম ইউসুফ আলীর সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন লেবার পার্টির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব খন্দকার মিরাজুল ইসলাম, মহানগর সদস্য সচিব মো. জাহিদুল ইসলাম, বাংলাদেশ ছাত্র মিশনের সভাপতি সৈয়দ মো. মিলন, মহানগর লেবার পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মাসুদ আলম পাটোয়ারী, মহানগর সদস্য মো. রাজু বেপারী, পল্টন থানার সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ মো. মিথুন প্রমুখ।

সভা শেষে মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করেন লেবার পার্টির মহানগর নেতা মাওলানা জাকির হোসেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...