ইসরাইলি কারাগারে আটক থাকা অবস্থায় তিনবার বেআইনিভাবে নগ্ন করে তল্লাশি এবং ধর্ষণের শিকার হয়েছেন আনা লিডকে (২৫) নামে এক জার্মান নারী অধিকারকর্মী। গত শরৎকালে ইউরোপ থেকে মানবিক সহায়তা নিয়ে গাজা অভিমুখী ত্রাণবাহী জাহাজের বহর গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলায় যোগ দিয়েছিলেন তিনি। আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমা থেকে ইসরাইলি বাহিনী তাদের নৌকাটি আটক করে এবং আনাকে পাঁচ দিন বন্দি রাখা হয়।
ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের কাছে এ ঘটনার আনুষ্ঠানিক ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
আনা লিডকে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানকে জানান, ইসরাইলি কারাগারে এই সহিংসতা ও ধর্ষণের মূল উদ্দেশ্য ছিল ফিলিস্তিনের পক্ষে সংহতি প্রকাশ করা অধিকারকর্মীদের ভয় দেখানো।
তিনি বলেন, ‘তারা আমাদের ইচ্ছা ভেঙে দিতে এবং স্তব্ধ করতে চায়। তারা পরিস্থিতি এতটাই ট্রমাটিক করতে চায়, যেন আমরা ফিলিস্তিন নিয়ে আর কখনো কথা না বলি।’
তবে ভয় না পেয়ে আনা এই নির্যাতনের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই শুরু করেছেন।
ভয়াবহ নির্যাতনের অভিযোগ
ইসরাইলের অ্যাটর্নি জেনারেল, কারা কর্তৃপক্ষের আইনি উপদেষ্টা এবং কারারক্ষী তদন্ত বিভাগের কাছে এই লিখিত অভিযোগ পাঠানো হয়েছে।
আনার আইনজীবী মুনা হাদ্দাদ বলেন, ইসরাইলে বন্দিদের ওপর নির্যাতনের যে সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে, এই অভিযোগ তার বিরুদ্ধে একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
মুনা হাদ্দাদ জানান, গত তিন বছর ধরে ফিলিস্তিনি বন্দিদের ওপর পদ্ধতিগতভাবে যৌন সহিংসতা ও ধর্ষণ করা হচ্ছে। এখন ইসরাইল ফিলিস্তিনিদের পক্ষে দাঁড়ানো বিদেশি নাগরিকদের ওপরও এই আচরণ সম্প্রসারিত করছে।
গত ১০ অক্টোবর আনাকে গিভন কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে একটি আংশিক ঢাকা পর্দাওয়ালা জায়গায় তাকে পোশাক খুলতে বাধ্য করা হয়। তিনি অস্বীকৃতি জানালে নারীরক্ষীরা জোরপূর্বক তার পোশাক ছিঁড়ে ফেলে এবং তাকে হাঁটু গেড়ে বসতে বাধ্য করে ধর্ষণ করে। আনা চিৎকার করার চেষ্টা করলে তার মুখ চেপে ধরা হয়। সেই সময় পর্দার ওপাশ থেকে পুরুষ রক্ষীদের হাসির শব্দ শোনা যাচ্ছিল। আনা বিশ্বাস করেন, কারাগারে থাকা বডি ক্যামেরা বা নিরাপত্তা ক্যামেরা দিয়ে এই পুরো ঘটনা ভিডিও করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও ইসরাইলের অবস্থান
এই ঘটনার পর বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। গত মে মাসে জাতিসংঘ সংঘাতকালীন যৌন সহিংসতার জন্য ইসরাইলকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে।
এছাড়া অস্ট্রেলীয় পুলিশ এবং ফরাসি প্রসিকিউটররা ইসরাইলি কারাগারে তাদের নাগরিকদের ওপর নির্যাতন ও যুদ্ধাপরাধের তদন্ত শুরু করেছে। ১২ অক্টোবর অন্য অধিকারকর্মীদের সঙ্গে আনাকে জর্ডানে ফেরত পাঠানো হয়। জার্মানি ফিরে গিয়ে ডিসেম্বর মাসে তিনি রাজনৈতিক বন্দিদের এক সম্মেলনে এ ঘটনা প্রকাশ্যে আনেন। তার দেখাদেখি ফ্লোটিলার ১০-এর বেশি অধিকারকর্মী যৌন নির্যাতনের কথা স্বীকার করেছেন।
তবে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী ও কারা কর্তৃপক্ষ (আইপিএস) এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। কারা কর্তৃপক্ষের এক মুখপাত্র দাবি করেছেন, এই অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন এবং তাদের কর্মীদের দ্বারা কোনো ধরনের ধর্ষণ বা পদ্ধতিগত নির্যাতনের ঘটনা ঘটেনি।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
এএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


