প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত ৪৬তম বাদশাহ আবদুল আজীজ আন্তর্জাতিক পবিত্র কুরআন প্রতিযোগিতায় পুরস্কার বিজয়ী বাংলাদেশি হাফেজদের উপহার হিসেবে দেওয়া বিতর্কিত ‘নেক্সাস’ বই ফেরত নিয়েছেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার। রোববার নিজ দপ্তরে বিজয়ী হাফেজদের কাছ থেকে তিনি বইটি ফেরত নেন।
গত ১৭ সেপ্টেম্বর সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হাফেজদের সংবর্ধনা প্রদান করেন। অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের বিভিন্ন উপহারের সঙ্গে সমকামী লেখক ইউভাল নোয়াহ হারারির ‘নেক্সাস’ বইও দেওয়া হয়েছিল। এ নিয়ে দেশব্যাপী ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি ও প্রতিবাদের মুখে বইটি প্রত্যাহার করা হলো।
বই ফেরত নেওয়ার বিষয়ে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে বিজয়ী হাফেজদের দেওয়া ‘নেক্সাস’ বইটি ফেরত নেওয়া হয়েছে। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিজয়ী হাফেজদের জন্য ঘোষিত আন্তর্জাতিক সফর ও সহায়তাসহ যেসব প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, সেগুলো বাস্তবায়নে সরকারের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতাসহ এ ধরনের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে। আন্তর্জাতিক এসব প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের হাফেজদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশ ও দেশের মানুষের জন্য সম্মান ও গৌরব বয়ে আনার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
এসময় বিজয়ী হাফেজ মুহাম্মদ জাকারিয়া, হাফেজ শেখ মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান আশরাফী, হাফেজা রাবিতা বিনতে রমাদান এবং হাফেজা মুসফিরা বিনতে মাহমুদসহ তাঁদের শিক্ষকরাও উপস্থিত ছিলেন।
নেপথ্যের বিষয় তদন্ত করে দায়ীদের শাস্তির দাবি
বিশ্বজয়ী হাফেজে কোরআনদের সম্মাননা অনুষ্ঠানে তাঁদের হাতে ‘নেক্সাস’ বই তুলে দেওয়ার ঘটনায় দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে বইটি প্রত্যাহার করায় ধর্ম প্রতিমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছে ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্স। একই সঙ্গে ঘটনার নেপথ্য কারণ উদঘাটনে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং তদন্তে দায় প্রমাণিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
রোববার এক বিবৃতিতে সংগঠনটি বলেছে, শুধু বই প্রত্যাহার করলেই বিষয়টির পূর্ণাঙ্গ নিষ্পত্তি হবে না। বিশ্বমঞ্চে পবিত্র কোরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হাফেজদের সম্মাননা অনুষ্ঠানে উপহারের জন্য বই নির্বাচনের ক্ষেত্রে আরও দায়িত্বশীলতা ও যথাযথ যাচাই-বাছাই প্রয়োজন ছিল। রাষ্ট্রীয় একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় অনুষ্ঠানের উপহারের তালিকায় এমন একটি বই কীভাবে অন্তর্ভুক্ত হলো, কারা বইটি নির্বাচনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং কী ধরনের যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে এটি অনুমোদিত হলো—তা তদন্তের মাধ্যমে খুঁজে বের করা প্রয়োজন।
বিবৃতিতে বলা হয়, তদন্তে যদি প্রমাণিত হয় যে কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে এমন একটি বই হাফেজে কোরআনদের হাতে তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় ও ভূমিকা প্রকাশ করে আইন ও প্রশাসনিক বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। আর যদি এটি অনিচ্ছাকৃত প্রশাসনিক ভুল হয়ে থাকে, তাহলেও কার গাফিলতি বা দায়িত্বহীনতায় এমন ঘটনা ঘটেছে, তা স্পষ্ট করা প্রয়োজন। ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি রোধে ধর্ম মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


